Home » প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় তৎপর জেলা প্রশাসন 

প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় তৎপর জেলা প্রশাসন 

সময় কলকাতা ডেস্কঃ দীপাবলিতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কা। কার্যত সেই কারণেই এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় তৎপর দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসন। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ক্যানিং, ডায়মন্ড হারবার, কাকদ্বীপ মহকুমা শাসকের দপ্তরে ইতিমধ্যেই খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম। কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে চলছে গোটা পরিস্থিতির নজরদারি। এই কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমেই জেলার উপকূলবর্তী এলাকার সঙ্গে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ করা হচ্ছে। অন্যদিকে শনিবার সকাল থেকেই মাইকের মাধ্যমে সুন্দরবনের বিভিন্ন প্রান্তে প্রশাসনের তরফে সতর্কবার্তা দেওয়া হচ্ছে। মৎসজীবীদের আগামী ২৩ অক্টোবর থেকে নদী বা গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যেতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

এদিকে শুক্রবার ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং নিয়ে নবান্নে সমস্ত দপ্তরের সচিবদের সঙ্গে বৈঠকে করেন মুখ্যসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিদেবী। এদিনের এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণের জেলাগুলির জেলা শাসক ও পুলিশ সুপাররাও। যদিও ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের গতিবেগ কত হতে পারে এবং ঠিক কোথায় আছড়ে পড়বে,তা এখনও পর্যন্ত জানা যায়নি। তবে পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ উপকূলে আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এদিনের বৈঠকে গোটা পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য ২০ টি এসডিআরএফ ও ১৫ টি এনডিআরএফ দলকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছে মুখ্যসচিব।

জানা গিয়েছে,দীপাবলিতে ঘণ্টায় ৭০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ের সম্ভাবনা রয়েছে। এই নিম্নচাপ ক্রমশ পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে এগোবে বলে জানিয়েছে হাওয়া অফিস। যা শুক্রবার সুস্পষ্ট নিম্নচাপ এবং শনিবার গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে বলে আশঙ্কা। পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসাগরে যা ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে বলে অনুমান আবহাওয়াবিদদের। ঘূর্ণিঝড়ের গতিপ্রকৃতি কোন দিকে হবে তা নজর রাখছেন আবহাওয়াবিদরা। ঘূর্ণিঝড়ের অভিমুখের উপরই নির্ভর করবে, বাংলায় তার প্রভাব কতটা পড়বে। প্রশাসনের তরফে সমস্তরকমের সতর্কতামূলক ব্য বস্থা নেওয়া হয়েছে। বুধবার এবিষয়ে নবান্নে একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের তরফে দক্ষিণবঙ্গের সমস্ত জেলাশাসককে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

এই ঘূর্ণাবর্তের জেরে উপকূলের জেলাগুলিতে মেঘলা আকাশ ও হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, কলকাতা পূর্ব মেদিনীপুর ও পশ্চিম মেদিনীপুর এই জেলাগুলিতে হালকা বৃষ্টি হতে পারে বলে অনুমান হাওয়া অফিসের। অপরদিকে, উত্তরবঙ্গ থেকে বর্ষা বিদায় নিয়েছে। দক্ষিণবঙ্গেও বর্ষা বিদায় নেবে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে। আগামী কয়েকদিন রাজ্যে শুষ্ক আবহাওয়া বজায় থাকবে।

About Post Author