সময় কলকাতা ডেস্কঃ গুজরাটে ঝুলন্ত সেতু ভেঙে পড়ার ঘটনায় ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে রাজনৈতিক তরজা। এরই মাঝেই বিষয়টি নিয়ে মুখ খুললেন বিজেপির সর্বভারতীয় সহ সভাপতি দিলীপ ঘোষ। এই বিপর্যয়ের প্রসঙ্গে তিনি কড়া ভাষায় তৃণমূলকে আক্রমন করে কলকাতার পোস্তা ব্রিজের ঘটনাও টেনে আনেন। তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে জলঘোলা করার কিছুই নেই। ঝুলন্ত সেতু ভেঙে পড়েছে যান্ত্রিক গোলযোগের কারণেই। প্রশাসনের এ ব্যাপারে সতর্ক থাকা উচিত।
প্রতিদিনের মতো সোমবার সকালেও নিউটাউন ইকোপার্কে প্রাতঃভ্রমণে আসেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। সেখানেই গুজরাটে ঝুলন্ত সেতু ভেঙে পড়ার ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন,‘যারা জল ঘোলা করে সেই ঘোলা জল খেতে ভালোবাসে, তারাই সব বিষয়ে জল ঘোলা করে। সাউথ কোরিয়ায় ব্রিজ ভাঙছে ওখানে বহু লোক মারা গিয়েছে। কলকাতায়ও পোস্তা ফ্লাইওভার ভেঙেছে। যান্ত্রিক গোলযোগ হতেই পারে।’
প্রসঙ্গত, রবিবার সন্ধ্যা ৬.৪০ মিনিট নাগাদ ছট পুজোর প্রার্থনা চলাকালীন হঠাৎই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে মোরবি জেলার মাছু নদীর উপরের শতাব্দী প্রাচীন ঝুলন্ত সেতু।সূত্রের খবর, মেরামতির কাজের জন্য গত সাত মাস বন্ধ ছিল সেতুটি। প্রায় ২ কোটি টাকা দিয়ে মেরামতির পর গুজরাটি নববর্ষে, অর্থাৎ গত ২৬ অক্টোবর খুলে দেওয়া হয় এই সেতু। এদিন ছট পুজো উপলক্ষে ব্রিজটির উপর প্রায় ৫০০ লোকের জমায়েত হয়েছিল। অত্যধিক ভিড়ের চাপ সহ্য করতে না পেরেই ভেঙে পড়ে সেতুটি, প্রাথমিক তদন্তে এমনটাই অনুমান। ভেঙে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে জলে পড়ে যান সেতুর উপরে থাকা সমস্ত মানুষ। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৪১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১৯ জনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

ইতিমধ্যেই মৃতদের পরিবার পিছু ৪ লক্ষ টাকা এবং আহতদের পরিবার পিছু ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণের কথা ঘোষণা করেছেন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র পটেল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবার পিছু ২ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হর্ষ সন্ঘ্ভি জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্ত করার জন্য ইতিমধ্যেই ৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।


More Stories
বিজেপি বিপক্ষ দল ভাঙাতে কত কোটি টাকা দিচ্ছে বলে অভিযোগ?
আক্রান্ত হলেন ককরোচ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে
ভারতে তেলের দাম কি কমছে?