পুরন্দর চক্রবর্তী,সময় কলকাতা, ২০ জুন : রবিবার আন্তর্জাতিক যোগা দিবস (২১ জুন) উপলক্ষ্যে কলকাতার রেড রোডে এক বিশাল যোগা ইভেন্টের আয়োজন করা হয়েছে। এই মেগা ইভেন্টের মূল আকর্ষণ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তার জন্য রেড রোড এবং আশেপাশের বেশ কিছু রাস্তা ২১ জুন পর্যন্ত বন্ধ রয়েছে এবং বিকল্প রুটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। রেড রোডে ইদের নামাজপাঠ হয়নি। অথচ যোগ দিবসের উদযাপন হচ্ছে কেন? পাশাপাশি দিলীপ ঘোষের একটি বিতর্কিত বক্তব্য ঘিরে শোরগোল পড়েছে যেখানে তিনি যারা নামাজ পাঠ করে তাঁদের কার্যত হরিদাস পাল আখ্যা দিয়েছেন।
একরাশ প্রশ্ন তুলছেন বিরোধী রাজনৈতিক মহল । কেন এই দ্বিচারিতা, প্রশ্ন তাঁদের। বিরোধীদের অভিযোগের প্রসঙ্গ না তুলেই শুভেন্দু অধিকারী বলেন, বর্ষা ও কর্দমাক্ত মাঠ থাকার জন্য রেড রোডে করতে হয়েছে। উল্লেখ্য, রেড রোডের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা বন্ধ রাখা নিয়ে আইনজীবী সংগঠনের পক্ষ থেকে মামলাও করা হয়।হাইকোর্ট মামলাকারীর আবেদন খারিজ করে জানায়, রেড রোডে যোগ দিবস পালনে কোনো বাধা নেই। তবে বিকল্প পথের ব্যবস্থা করতে হবে পুলিশকে। পাশাপাশি ২১ জুন অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পরই সেই রাস্তা খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
এই বিতর্কের পাশাপাশি সৃষ্টি হয়েছে আরেকটি বিতর্ক। দিলীপ ঘোষ কে সাংবাদিকদের তরফে প্রশ্ন করা হয়, যদি রাস্তা বন্ধ রেখে ১৫ মিনিট নামাজ পড়া নিষিদ্ধ হয় তাহলে দিনের পর দিন রেড রোড বন্ধ রাখা কি দ্বিচারিতা নয়? আর এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে‘ওদের যদি এতই নামাজ পড়তে হয় তো বাংলাদেশ বা পাকিস্তান চলে যাক। ওরা কোন হরিদাস পাল!’— ঠিক এ ভাষাতেই মন্তব্য করে বিতর্কে জড়ান বিজেপি নেতা ও রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। আর এখানেই তীব্র আপত্তি তুলেছে রাজনৈতিক মহল। নেটিজেন মহলেও তুমুল আলোড়ন।
দিলীপ ঘোষের মন্তব্য কে ঘিরে বিশেষ করে ক্ষিপ্ত বাম নেতৃত্ব। আইনজীবী ও বাম নেতা বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য বলেছেন, দেশ সকলের। তাঁর বক্তব্য, দিলীপ ঘোষ যদি কাউকে বাংলাদেশে যাওয়ার কথা বলতে পারেন, তাহলে তাকেও তো তাদের পিতৃভূমি ইজরায়েলে যাওয়ার কথা বলা যায়। দিলীপ ঘোষ উল্লিখিত হরিদাস পাল মন্তব্য কে ঘিরে বিকাশ রঞ্জন বলেন, দুর্ভাগ্য জনক ভাবে দিলীপ ঘোষ রাজ্যের মন্ত্রী যিনি “রকের ভাষায় অভ্যস্ত।” বাম নেতা শতরূপ ঘোষ আরও একধাপ এগিয়ে বিজেপিকে আক্রমণ করে বলেছেন, ওঁরা এবার নেপালে গিয়ে যোগা করুন। “হরিদাস পাল” মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করে শতরূপ বলেন, সাত দিন ধরে রেড রোড বন্ধ করে “হামাগুড়ি ও ডিগবাজি” খাওয়া মানা যায় না। তাঁর মতে, একটি বিশেষ সম্প্রদায়কে জব্দ করার জন্য কেউ কেউ বিজেপিকে ভোট দিয়ে থাকতে পারে, অনেকে বিজেপি সর্বধর্মকে সমান গুরুত্ব দেবে একথাও মনে করেছিল। বিজেপিকে ভোট দানকারী সকলে কেবলমাত্র একটি বিশেষ ধর্মকে সুবিধা দেওয়ার কথা ভেবে ভোট দেয় নি- দাবি শতরূপ ঘোষের। তীব্র বিতর্কিত হয়ে উঠেছে দিলীপ ঘোষের “হরিদাস পাল” মন্তব্য।
উল্লেখ্য, একদা ২০২৩ সালে আগস্ট মাসের শুরুতে বিধানসভা উত্তাল হয়ে উঠেছিল তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বলা হরিদাস পাল শব্দবন্ধ নিয়ে। তিনি সেদিন বলেছিলেন, “এখানে যাঁরা আইন দেখাচ্ছেন, তাঁরা হরিদাস পাল। আইনের কিছু জানেন না। হাঁসের মতন প্যাক প্যাক করে, ঘেউ ঘেউ করে।” সেই সময় তৎকালীন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী স্বয়ং হরিদাস পাল শব্দটি সংসদীয় নয় বলে আপত্তি তুলেছিলেন। এখন প্রশ্ন উঠছে। হরিদাস পাল শব্দটি দিলীপ ঘোষ বিধানসভায় ব্যবহার করেননি তবুও নেটিজন মহলে দাবি, দিলীপ ঘোষ একটি বিশেষ সম্প্রদায়কে হরিদাস পাল বলে আহত করেছেন।
আইনজীবী নেতা শামিম আহমেদ সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন, “দিলীপ ঘোষ নিজে কোন হরিদাস পাল?” তিনি এই মন্তব্যকে সম্পূর্ণ উসকানিমূলক এবং সংবিধান-বিরোধী আখ্যা দিয়ে আইনি পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন । কংগ্রেস, আইএসএস, মিম ও তৃণমূল কংগ্রেস প্রত্যেকেই দিলীপ ঘোষের মন্তব্যের পড়া সমালোচনা করে বক্তব্যটিকে উস্কানিমূলক বলেই আখ্যা দিয়েছে। বিজেপি এর পাল্টা বক্তব্য পেশ করতেই পারে। বর্তমানে বিজেপির নেতা তাপস রায় বহুদিন আগেই অবশ্য হরিদাস পালের সমর্থনে বক্তব্য রেখেছিলেন, তিনি বলেছিলেন হরিদাস পাল কোন কুকথা নয়, হরিদাস শব্দের অর্থ যে হরির দাস। সময় পাল্টেছে। একদা একটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়ে (মনিপুর কেন্দ্রিক ও আইন সংক্রান্ত ) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যের সমর্থনে হরিদাস পাল শব্দটির আভিধানিক অর্থ খুঁজতে চেষ্টা করেছিলেন এখন দল পাল্টানো তাপস রায় , আজ বিজেপির দিলীপ ঘোষ তাই বলছেন। তবে আলোচনার বিষয় এখন নামাজ ও যোগা। কাজের কথা বলেছেন সজল ঘোষ, বলেছেন তিনি শোনেন নি দিলীপ ঘোষের বক্তব্য। দিলীপ ঘোষের বক্তব্য সমর্থন করেন কিনা সেই প্রশ্নের উত্তরে সজল ঘোষ বলেছেন, যদি বিরোধিতা থাকে তবুও বিরোধিতা তিনি প্রকাশ করবেন না। দলের লোক বলেছেন অতএব তিনি সমর্থন করবেন। সবমিলিয়ে, হরির দাস হয়ে থাকার নিদান দিয়েছেন দিলীপ ঘোষ নইলে বাংলাদেশে যাওয়ার নিদানও রয়েছে।।


More Stories
অভিষেক আসতেই দুই-দলে খণ্ডযুদ্ধ, বিমানবন্দরে আতঙ্কে যাত্রীরা!
ভাঙাগড়ার খেলা, বিল আনলে কি সফল হবেন অমিত শাহ?
ধাক্কা তৃণমূলে, জ্যোতিপ্ৰিয় মল্লিক দলীয় সব পদ থেকে ইস্তফা দিলেন