সময় কলকাতা ডেস্কঃ সিবিআই হেফাজতেই রহস্যজনক মৃত্যু হয় বগটুইকাণ্ডের অন্যতম অভিযুক্ত লালন শেখের। সিবিআইয়ের অস্থায়ী শিবিরের শৌচালয়ে লাল রঙের গামছা গলায় জড়ানো অবস্থায় লালনের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। লালন শেখের রহস্য মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছিল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি প্রকাশ শ্রীবাস্তব ও রাজর্ষি ভরদ্বাজের ডিভিশন বেঞ্চে লালন মামলার শুনানি চলাকালী, কেন্দ্রীয় আইনজীবী ধীরাজ ত্রিবেদী জানান, সিবিআই হেফাজতে কীভাবে লালন শেখের মৃত্যু হল? তারই তদন্ত শুরু করেছিল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি মহেশ কুমার মিত্তালের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছিল। এই ঘটনায় এবার রিপোর্ট তলব করল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সূত্রে খবর, সিবিআইয়ের ডিরেক্টর, বীরভূমের জেলাশাসক এবং জেলা পুলিশ সুপারের কাছে ইতিমধ্যেই রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি ঘটনাস্থলের ম্যাপ, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং ইনকোয়েস্ট রিপোর্টও জমা দিতে বলা হয়েছে। ইতিমধ্যেই শৌচালয়ের শাওয়ার পাইপে ৬৫ থেকে ৭০ কেজির ওজনের পুতুল ঝুলিয়েও পরীক্ষা করা হয়েছে। শাওয়ার পাইপটি থেকে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে পড়া যায় কি না, সেটি লালনের ভার নিতে পারে কি না, এ সব দেখা হয়েছে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কর্তারাও এগুলি জানতে চাইছেন।
প্রসঙ্গত, লালনের মৃত্যুর পর রীতিমতো হইচই পড়েছে রাজনৈতিক মহলে। বগটুই হত্যাকাণ্ডের অন্যতম অভিযুক্ত লালন শেখের রহস্যমৃত্যুর কিনারা করতে সিবিআইএর অস্থায়ী ক্যাম্পের পর লালন শেখের বাড়িতে পৌঁছয় ফরেন্সিক টিম। সেখানে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় লালনের স্ত্রীকে। সিআইডি আধিকারিকদের একটি দল পৌঁছন বগটুইয়ে। রামপুরহাটের বগটুই গ্রামে গিয়ে লালন শেখের স্ত্রী রেশমা বিবির বয়ানও রেকর্ড করেছিলেন সিআইডি-র গোয়েন্দারা। সিবিআই আধিকারিকদের বিরুদ্ধে তাঁর যাবতীয় অভিযোগ শুনেছিল সিআইডি। লালনের মৃত্যুর পর বগটুই গ্রামে চাপা উত্তেজনা ছিল। লালনের স্ত্রী রেশমা বিবি তিন পাতার অভিযোগ করেছিলেন। যেখানে কিনা অন্তত ৭ জন সিবিআই আধিকারিকের নাম ছিল। একইসঙ্গে লালনের স্ত্রী জানিয়েছিলেন, মামলা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য সিবিআইয়ের তরফে তাঁর কাছে ৫০ লক্ষ টাকা ঘুষ দাবি করা হয়েছিল। সিবিআইয়ের বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর দায়ের করেছিলেন লালনের স্ত্রী।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের মার্চ মাসে বগটুই কাণ্ড নিয়ে রাজ্য তথা সারা দেশে শোরগোল পড়ে যায়৷ ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল গত ২১ মার্চ রাতে৷ ওই রাতেই সাড়ে ৮ টা নাগাদ বোমা মেরে খুন করা হয় এলাকার দাপুটে তৃণমূল নেতা তথা বড়শাল গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান ভাদু শেখকে৷ অভিযোগ, সেই খুনের বদলা নিতেই পালটা হামলা চালানো হয়৷ রাতের অন্ধকারে গ্রামের একাধিক বাড়িতে আগুন লাগিয়ে চম্পট দেয় দুষ্কৃতীরা৷ তাতে গ্রামের ১০ থেকে ১২ টি বাড়ি পুড়ে খাক হয়ে যায়৷ সেই ঘটনায় ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ন’জনের৷ বগটুই হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত হিসাবে ভাদু শেখের ছায়া সঙ্গী লালন শেখকে গ্রেপ্তার করে সিবিআই। ৮ ডিসেম্বর তাকে গ্রেপ্তার করেছিল কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা৷ রামপুরহাট মহকুমা আদালতে তোলা হলে আবেদন মত সিবিআই হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক। তবে কেন্দ্রীয় এজেন্সির হেফাজতে থাকার সময়ে লালনের কীভাবে মৃত্যু হল তা নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে।


More Stories
শান্তি নেই শ্মশানেও -বঙ্গভূমির করুণ আখ্যান
গ্রেফতার কলকাতা পুরসভার দুই কাউন্সিলর
আরজিকর কাণ্ডের আইনি ফাঁসে রচনা