Home » বাংলার অবস্থা বেহাল: সুজন

বাংলার অবস্থা বেহাল: সুজন

সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৯ ফেব্রুয়ারি: রবিবার উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলা পার্টি অফিসে সাংবাদিক বৈঠক করলেন সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী। পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে বলতে গিয়ে প্রবীন এই বাম নেতা একহাত নিলেন রাজ্যের তৃণমূল সরকারকে। পাশাপাশি তিনি তৃণমূল নেত্রীর বিরুদ্ধেও ক্ষোভ উগড়ে দিলেন। সুজন চক্রবর্তী বলেন, বাংলার অবস্থা এখন বেহাল। রাজ্যজুড়ে গুলি বন্দুক বোমার রাজত্ব চলছে। পুলিশমন্ত্রী, পুলিশ দুষ্কৃতীদের সঙ্গে নিয়ে চলছে। বিগত কয়েকদিনে রাজ্যের একাধিক জায়গায় শাসকদলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে গুলি চলেছে, খুন হয়েছে শাসকদলের কর্মীরাই। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়েই প্রশ্ন তুলে দিলেন তিনি।

অপরদিকে রাজ্যের শিল্প সম্ভাবনা নিয়ে বলতে গিয়েও তিনি শাসকদলের কোন্দলকে কাঠগড়ায় তুলেছেন। সুজন চক্রবর্তীর কথায়, লুঠেরাদের হাতে চলে গিয়েছে রাজ্য। আর তাই একে একে শেষ হয়ে যাচ্ছে সমস্ত শিল্প সম্ভাবনা। টাটাদের সিঙ্গুর থেকে তাড়িয়ে শিল্প হয়নি কৃষিও হয়নি। এবার জমি ফেরত দিতে চলেছে জিন্দাল গোষ্ঠী। বাম জামানার মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য পুরুলিয়ায় শিলান্যাস করেছিলেন ভারতের সর্ববৃহৎ স্টিল প্লান্টের। সেটার ভবিষ্যতও এখন বিশ বাও জলে। তৃণমূলের পরিচালনায় শেষ এক দশকে সব শেষ হয়ে গিয়েছে। আগামী দিনে তাজপুর বন্দরও হবে না বলেই দাবি করেছেন সুজন চক্রবর্তী।

বর্তমানে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ডিএ নিয়ে দাবি-দাওয়াকে সমর্থন করে সুজন চক্রবর্তী বলেন, ধর্মঘট ও কর্ম বিরতি দুটি আলাদা বিষয়। মুখ্যমন্ত্রীর সেটা বোঝার বুদ্ধি নেই। এরাজ্যের ৩৬৫ দিনই কর্মবিরতি চলছে। মুখ্যমন্ত্রী নিজেই কর্ম করেন না। বিধানসভা চলছে অথচ মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় উপস্থিত না থেকে হিল্লি-দিল্লি ঘুরে বেড়াচ্ছেন। রবিবার বারাসাত দলীয় কার্যালয়ে সাংবাদিক বৈঠক ডেকে এই ভাষাতেই মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করলেন সুজন চক্রবর্তী। তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দেন ধমকে চমকে আর কাজ হবে না। সরকারি কর্মচারীরা আগামী ২১ এবং ২২ তারিখ কর্মবিরতি পালন করবেই।

তাৎপর্যপূর্ণভাবে বিজেপি নেতা তথা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিশীথ প্রামানিকের বাড়ি ঘেরাও কর্মসূচির নিন্দা শোনা গেল সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তীর মুখে। রবিবার সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, বাংলার রাজনীতি ক্রমশ কলুষিত হচ্ছে। আর এটা আমদানি করেছেন রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনীতিতে বিরোধী কণ্ঠস্বর থাকবে এটাই স্বাভাবিক। তাই বলে অন্য দলের নেতার বাড়ি ঘেরাও অত্যন্ত নিন্দনীয়। রবিবার এই ভাষাতেই নিশিত প্রামাণিকের বাড়ি ঘেরাও প্রসঙ্গে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করলেন সিপিআইএম নেতা সুজন চক্রবর্তী।

About Post Author