সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৮ এপ্রিল: ১০০ দিনের কাজ, আবাস যোজনা, মিড ডে মিল- সবেতেই ‘দুর্নীতি’র অভিযোগ রয়েছে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে। আর অভিযোগের ভিত্তিতে বেশ কয়েকবার কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল এ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত ঘুরে গিয়েছেন। গত সপ্তাহে মিড ডে মিলে ১০০ কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে। এ রাজ্যে সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের খবরে তা প্রকাশ্যে আসার পর রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়ে যায় শাসক বিরোধী উভয় পক্ষে। কেন্দ্র-রাজ্য একাধিক যৌথ প্রকল্পের কাজকর্ম নিয়ে বিস্তর অভিযোগ বারবার উঠছে এর রাজ্যের শাসকদলের বিরুদ্ধে। যার জেরে এই মুহূর্তে ১০০ দিনের কাজ সহ বেশ কিছু প্রকল্পের কেন্দ্রীয় অনুদান বন্ধ রাখা হয়েছে। আর এই নিয়েই বিভিন্ন মিটিং জনসভা থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সুর চরাতে দেখা গিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে।
আরও পড়ুন দণ্ডিকাণ্ডের জের, ভাইস চেয়ারম্যানের অপসারণের দাবিতে বিজেপির বিক্ষোভ
সম্প্রতি, যৌথ পর্যালোচনা মিশন, জেআরএম -এর কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদের দেওয়া রিপোর্টে মিড ডে মিলে ১০০ কোটি গরমিলের উল্লেখ করা হয়েছিল বলে দাবি করেছিল সংবাদ সংস্থা পিটিআই। যদিও রাজ্যের শিক্ষা মন্ত্রী ব্রাত্য বসু দাবি করেছিলেন সেই রিপোর্টে সই নেই রাজ্যের প্রতিনিধির। মঙ্গলবার সেই রিপোর্টের জবাবে পাল্টা টুইট করলেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। তাঁর দাবি, হিসেব করতে গিয়ে দেখা যাচ্ছে, রাজ্য ওই সময়কালের মধ্যে মিড ডে মিলে সাশ্রয় করেছে ১৮ কোটি টাকার উপর। টুইটে যৌথ মিশনের চেয়ারপার্সনের কাছে এই বিষয়ে জবাবদিহি চেয়েছেন রাজ্যের শিক্ষা মন্ত্রী।

ব্রাত্য বসু ‘মিড ডে মিল’ প্রসঙ্গ এ দিনের টুইটে লিখেছেন, “রটনা ও ঘটনা’ অনেক হলো, জেআরএম অর্থাৎ যৌথ পর্যালোচনা মিশনের একমাত্র প্রতিনিধির তড়িঘড়ি জমা দেওয়া রিপোর্টে মিড ডে মিলে ১০০ কোটির ক্ষতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তার ভিত্তিতে হিসেব করতে বসে দেখা যাচ্ছে, নয়ছয় নয়, একই সময়ে এই প্রকল্পে ১৮.৮ কোটি সাশ্রয় করেছে রাজ্য সরকার।” এই হিসেব দিয়েই ব্রাত্যর খোঁচা, ”অযথা চায়ের কাপে তুফান না তুলে জেআরএমের মাননীয় চেয়ারপার্সন কি এই নজিরবিহীন অপদার্থতার যোগ্য জবাবদিহি করবেন অনুগ্রহ করে?”
আরও পড়ুন কিছুটা স্বস্তি! সামান্য কমল করোনার দৈনিক সংক্রমণ
প্রসঙ্গত,লকেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রকের রিপোর্টে উল্লেখ ছিল, ২০২২ সালের প্রথম দুই ত্রৈমাসিকের রিপোর্টে গরমিল রয়েছে। বলা হয়েছে, এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত ১৪০ কোটি ২৫ লক্ষ মিড ডে মিল দেওয়া হয়েছে। কিন্তু জেলা থেকে যে রিপোর্টে জমা দেওয়া হয়েছে, তাতে ১২৪ কোটি ২২ লক্ষ মিড ডে মিল দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ ১৬ কোটি মিড ডে মিল বাবদ ১০০ কোটি টাকার অতিরিক্ত হিসেব দেওয়া হয়েছে। আর এই ১০০ কোটি নিয়েই ফের শুরু হয়েছে রাজ্য-কেন্দ্র চাপানউতোর। রিপোর্টকে হাতিয়ার করে ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে আসরে নেমেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ও বাম-কংগ্রেস।


More Stories
নীতিশ জমানা শেষ, বিহারের সম্রাট নতুন মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর বুলডোজার মডেল
আশা ভোঁসলের হার্ট অ্যাটাক
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?