Home » ইডির দফতরে অয়ন ঘনিষ্ঠ শ্বেতা চক্রবর্তী

ইডির দফতরে অয়ন ঘনিষ্ঠ শ্বেতা চক্রবর্তী

সময় কলকাতা ডেস্ক, ২০ এপ্রিল:  নিয়োগ দুর্নীতিকাণ্ডে প্রোমোটার অয়ন শীল গ্রেফতার হতেই ইডির হাতে উঠে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। ইতিমধ্যেই নিয়োগ দুর্নীতেকাণ্ডে ধৃত অয়ন শীলের বিপুল সম্পত্তির হদিশ মিলেছে। এমনকী অভিযুক্ত এই প্রোমোটার অয়ন শীলের নামে বেশ কয়েকটি ব্যাঙ্ক লকারেরও সন্ধান মিলেছে। যা নিয়ে শুরু হয়েছিল রাজনৈতিক তরজা। এবার ধৃত অয়ন শীলের প্রযোজনায় তৈরি ছবির অভিনেত্রীকে ডেকে পাঠিয়ে ছিল ইডি। বৃহস্পতিবার নির্দিষ্ট সময় সল্টলেকের ইডির দফতরে পৌছে যান মডেল ,অভিনেত্রী ও ইঞ্জিনিয়র শ্বেতা চক্রবর্তী। তিনি আবার কামারহাটি পুরসভার অ্যাসিটেন্ট ইঞ্জিনিয়ারও।

আরও পড়ুন   ফার্স্ট বনাম সেকেন্ডের লড়াই, রাজস্থানকে হারিয়ে শেষ হাসি লখনউ সুপার জায়ান্টদের

নিয়োগ দুর্নীতির মামলার তদন্ত নেমে ইডির স্ক্যানারে উঠে আসেন কামারহাটি পুরসভার এই কর্মী। পরবর্তীকালে ইডির নজরে আসে,অয়ন শীলের অ্যাকাউন্ট থেকে বিপুল অর্থ শ্বেতা চক্রবর্তীর অ্যাকাউন্টে লেনদেন হয়েছে। আর এইসব বিষয় নিয়ে পরিস্কার হতে ইডি তলব করেছিল অয়ন শীলের ঘনিষ্ঠ শ্বেতা চকর্বর্তীকে। ইডি দপ্তরে ঢোকার মুখে মাস্কে নিজের মুখ যেমন ঢেকে রেখে ছিলেন। এদিন কোনও মন্তব্য করা থেকেও নিজেকে বিরত রেখে ছিলেন নিয়োগ দুর্নীতিতে ধৃত অয়ন শীলের এই ঘনিষ্ঠ অভিনেত্রী।


উল্লেখ্য,অয়ন গ্রেফতার হতেই ইডি-র স্ক্যানারে উঠে এসেছিল এক রহস্যময়ী নারী শ্বেতা চক্রবর্তীর নাম। তাঁকে নিয়ে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। এর আগে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে শ্বেতা বলেন,‘অয়নের প্রোডাকশন হাউজের ছবি কবাডি কবাডিতে কাজ করেছি। এছাড়াও কাউন্টিং নামের একটি শর্ট ফিল্মেও কাজ করেছি। সেই কাজের টাকা আমি পেতাম অয়নের থেকে। টাকার বদলে উনি আমাকে ওই গাড়িটি ব্যবহার করতে দিয়েছিলেন। আমার কাজের পারিশ্রমিক হিসেবেই অয়ন গাড়ি দিয়েছিল। একইসঙ্গে এদিন অয়ন ঘনিষ্ঠ শ্বেতা বলেন,আমি ওনার থেকে চুঁচুড়ায় ফ্ল্যাট কিনেছিলাম।পরে ফ্ল্যাটের রেজিস্ট্রেশন না হওয়ার কারণে ছেড়ে দিই। সেই টাকা উনি ফেরত দেন। আমার কাছে ফ্ল্যাটের চুক্তিপত্র রয়েছে এবং ব্যাঙ্ক ট্রান্সফারের প্রমাণও রয়েছে।’


এদিকে,বুধবারই সকাল সাড়ে ১০টায় অয়ন শীলের বাবা ও মা-কে সিজিও কমপ্লেক্সে তলব করেছিল ইডি। ইডি সূত্রে খবর, লেনদেনে মা-বাবার অ্য়াকাউন্টও ব্যবহার করেছিলেন প্রোমোটার অয়ন। আগামী শুক্রবার তলব করা হয়েছে তাঁর স্ত্রী কাকলি শীল ও ছেলে অভিষেক শীলকে। কেননা অয়নের সংস্থা এবিএস ইনফোজোন প্রাইভেট লিমিটেডের কো ডিরেক্টর ছিলেন কাকলি। এদিকে, অয়নের ছেলের নামে একাধিক পেট্রল পাম্প ও স্ত্রী-র নামে সম্পত্তি, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। চাকরির বিক্রির টাকাই কি ঢুকেছে এই পেট্রল পাম্প ও ব্যবসায়? তাও খতিয়ে দেখছে ইডি-র আধিকারিকরা। ইডি সূত্রে খবর, অয়নের ছেলে অভিষেক শীলের নামে একাধিক পেট্রল পাম্প, রেস্তোরাঁ রয়েছে। শুধু তাই নয়, তাঁর সঙ্গে জয়েন্ট পার্টনার রয়েছে অভিষেকের এক বান্ধবী শ্বেতা। গোয়েন্দাদের অনুমান, ব্যবসার টাকা চাকরি বিক্রির টাকা থেকেই গিয়েছে।

About Post Author