Home » রাজু ঝা হত্যাকাণ্ডে স্ত্রীর গোপন জবানবন্দি সিজেএমের কাছে নথিভুক্ত করানোর আবেদন সিটের

রাজু ঝা হত্যাকাণ্ডে স্ত্রীর গোপন জবানবন্দি সিজেএমের কাছে নথিভুক্ত করানোর আবেদন সিটের

সময় কলকাতা ডেস্ক, ১২ মে: রাজু ঝা হত্যাকাণ্ডে নয়া মোড়। এবার রাজু ঝা-এর স্ত্রীর গোপন জবানবন্দি সিজেএমের কাছে নথিভুক্ত করানোর জন্য আবেদন জানান সিটের তদন্তকারী অফিসার। ইতিমধ্যেই সেই আবেদন ষষ্ঠ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে নথিভুক্তও করা হয়েছে। এর আগেও বেশ কয়েকবার তাঁর স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল পুলিশ। সেসময় বেশকিছু তথ্যও মিলেছিল। এদিকে, ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর রাজু ঝা হত্যাকাণ্ডে ধৃত ইন্দ্রজিৎ গিরি ও লালবাবু কুমারকে সিজেএম আদালতে ফের পেশ করা হয়েছে। সূত্রের খবর, ধৃতদের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন সিজেএম।

উল্লেখ্য,কয়লা মাফিয়া রাজু ঝা খুনের ১৯ দিনের মাথায় বাঁকুড়ার ছেলে বর্তমানে দুর্গাপুরের কর্মরত অভিজিৎ মন্ডলকে আটক করে পূর্ব বর্ধমান জেলার শক্তিগড় থানার পুলিশ। ওইদিন গভীর রাতে কাঁকসা থানার আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে দুর্গাপুর থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে সাংবাদিক বৈঠক করে জানান পূর্ব বর্ধমানের পুলিশ সুপার। ধৃতকে জেরা করলেই বাকি অভিযুক্তদের হদিশ মিলবে বলে আশাবাদী তদন্তকারীরা। বুধবারই আদালতে তোলা হয় ধৃতকে। পুলিশের অনুমান, ধৃতকে জেরা করলেই রাজু ঝা হত্যা রহস্যের কিনারা করা সম্ভব হবে। জানা গিয়েছে,অভিজিতের আসল বাড়ি বাঁকুড়ায়। রানিগঞ্জের মাফিয়া নারায়ণ গেরফার গাড়ি চালাত এই অভিজিৎ। দীর্ঘদিন ধরে রাজুর সঙ্গে বালি ও কয়লা সংক্রান্ত বিরোধ ছিল নারায়ণের। অভিজিৎ গ্রেপ্তার হতেই ঝাড়খণ্ডের রাঁচি থেকে ইন্দ্রজিৎ গিরি ও লালবাবু কুমারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। রাজু ঝা হত্যাকাণ্ডে এখনও পর্যন্ত মোট ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদিকে,অভিজিৎ মণ্ডল গ্রেফতার হতেই পুলিশের জালে নজরে ছিল নারায়ণ ওরফে নরেন্দ্র খেরকা।

আরও পড়ুন    পুরসভায় নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে এবার অয়ন শীলকে জিজ্ঞাসাবার করতে চায় সিবিআই

রাজেশ ওরফে রাজু ঝা হত্যা কাণ্ডে একসময়ের সহযোগী নারায়ণের যুক্ত থাকার প্রাথমিক প্রমাণ এসেছে এই মামলায় গঠিত স্পেশ্যাল ইনভেস্টিগেশন টিম বা সিটের হাতে। সেই মতোই কয়লা মাফিয়া নারায়ণ খেরকার দুর্গাপুরের সিটিসেন্টারের অফিসে অভিযান চালায় পুলিশ। তদন্তকারী সিট-এর আধিকারিকদের প্রায় ১০ গাড়ি পুলিস নারায়ণ খেরকার অফিস ঘেড়াও করে ফেলে। যদিও অফিসে কেউ ছিল না বলে জানা গিয়েছে। সূত্রের খবর, অভিজিৎ কয়লা মাফিয়া নারায়ণ খেরকার গাড়ির চালক। সূত্রের খবর, অভিজিৎ ধরা পড়তেই গা ঢাকা দিয়েছিল নারায়ণ। তাতে পুলিশের সন্দেহ আরও দৃঢ় হয়েছে।প্রসঙ্গত, গত ১ এপ্রিল পূর্ব বর্ধমানের শক্তিগড়ে দুষ্কৃতীরা গুলিতে ঝাঁজরা করে দেয় রাজু ঝাকে। নীল গাড়িতে চেপে এসে কাজ সেরে আবার ওই গাড়িতেই চম্পট দেয় শার্প শুটাররা। ঘটনাস্থলে একটি নীল রঙের বাইকেরও অস্তিত্ব পাওয়া যায়। তাতে শার্প শুটারদের সঙ্গে থাকা একজনকে চেপে পালাতে দেখা গিয়েছে। পরে ওই নীল চারচাকা গাড়িটি শক্তিগড় থানার অদূরে উদ্ধার করা হয়। এই নীল গাড়িটিকে ঘটনার ভোরে পশ্চিম বর্ধমানের ডুবুরডিহি চেক পোস্ট দিয়ে ঝাড়খণ্ড-বিহারের দিকে যেতে ও ওইদিন দুপুরে আবার ফিরে আসতে দেখা যায়। কিন্তু গাড়ির হদিশ পাওয়া গেলেও রহস্যের শিকড়ে পৌঁছতে পারছিলেন না তদন্তকারীরা। কারণ, ওই নীল গাড়িটি দিল্লি থেকে চুরি করা হয়েছিল বলেই জানতে পারে তদন্তকারীরা।

About Post Author