Home » একটানা প্রবল বৃষ্টিতে মধ্যরাতে আচমকাই ভূমিধস মহারাষ্ট্রে, মৃত ১৩

একটানা প্রবল বৃষ্টিতে মধ্যরাতে আচমকাই ভূমিধস মহারাষ্ট্রে, মৃত ১৩

সময় কলকাতা ডেস্ক,২১ জুলাইঃ হিমাচলপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, দিল্লি, পাঞ্জাব, উত্তরপ্রদেশের পর এবার মহারাষ্ট্র। গত কয়েকদিনের একটানা প্রবল বৃষ্টিতে বৃহস্পতিবার মহারাষ্ট্রের রায়গড় জেলার খালাপুর তহসিলের ইরশালওয়াড়ি গ্রামে আচমকাই হুড়মুড়িয়ে ধস নামে। আর এই ধসের জেরে মৃত্যু হয়েছে ১৩ জনের। ১০০-রও বেশি মানুষ ধসের জেরে আটকে রয়েছেন বলে অনুমান। সূত্রের খবর, শুক্রবার ভোরে যখন ধস নামে, তখন গ্রামবাসীরা সকলেই ঘুমোচ্ছিলেন। সেই কারণেই ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে মৃত্যু হয়েছে ১৩ জনের। অন্তত ৪৮টি বাড়ি ধসের কারণে ভেঙে পড়েছে এবং কুড়িটি বাড়ি কাদামাটির তলায় চাপা পড়েছে বলে জানা গেছে। জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর দুটি দল ইতিমধ্যেই উদ্ধারকাজের জন্য ঘটনাস্থলে পৌঁছে গেছে। উদ্ধারকাজের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতে আপৎকালীন কন্ট্রোলরুম পরিদর্শনে গিয়েছিলেন উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার। মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে মৃতদের পরিবারপিছু ৫ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণের কথা ঘোষণা করেছেন ইতিমধ্যেই। আহতদের চিকিৎসার ভারও সরকার নেবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে, গত দু’সপ্তাহ ধরে টানা বৃষ্টির জেরে বন্যায় বিপর্যস্ত হিমাচল প্রদেশ। বিপদ যেন শেষই হচ্ছে না হিমাচলে! একাধিক জায়গায় ধসের জেরে রাস্তা বন্ধ। সেই রাস্তা সারানোর জন্যই জেসিবি মেশিন আনিয়ে চলছিল ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ। কিন্তু সেই কাজ শেষ না হতেই সেই মেশিনের ওপরই ফের হুড়মুড়িয়ে নামল ধস। বিশালাকার বোল্ডার গড়িয়ে এসে পড়ল একেবারে জেসিবি মেশিনের উপর! ভয়ঙ্কর সেই ধসের ভিডিও মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়ায়। জানা গিয়েছে, মানালি-কুলু জাতীয় সড়কে ঘটেছে এই ঘটনা। মান্ডিতে চণ্ডীগড়-মানালি হাইওয়ের ৬ মাইলের কাছে ধস নামার জেরে রাস্তা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। জেসিবি নামিয়ে সেই রাস্তা পরিষ্কারের কাজ চলছিল। তখনই আচমকা ধস নামে আবার। পাশের পাহাড় থেকে হুড়মুড়িয়ে নেমে আসে বিশালাকার বোল্ডার। গড়িয়ে এসে তা পড়ে জেসিবি মেশিনের উপর।

আরও পড়ুন    ২১ জুলাই কলকাতা সহ জেলায় জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, বোল্ডার পড়ার ঠিক আগের মুহূর্তে কোনও মতে বাইরে লাফ মারেন সেটির চালক। ফলে প্রাণে বেঁচে যান তিনি। আশেপাশের লোকজন আতঙ্কে চিৎকার করতে শুরু করেন। কয়েকজনকে দৌড়ে পালাতেও দেখা যায়। সেই ঘটনার পরেই মানালি-কুলু জাতীয় সড়ক সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তবে পরে যদিও পাথর সরিয়ে খুলে দেওয়া হয় রাস্তা। উল্লেখ্য, একনাগাড়ে বৃষ্টির কারণে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই ভয়ঙ্কর অবস্থা হিমাচলপ্রদেশে। হড়পা বান আর ধসের কারণে ভেঙে পড়েছে বাড়িঘর, ভেসে গেছে স্কুল-কলেজ-অফিস। সোমবার সকাল থেকে হিমাচলের কুলুতে মেঘভাঙা বৃষ্টির জেরে ফের বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বাড়িঘর, দোকানপাট ভেসে গেছে। ধস নেমে রাস্তা বন্ধ। জলমগ্ন বাসিন্দাদের উদ্ধার করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। সেনা নামানো হয়েছে রাজ্যে। বন্যায় ভেসে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে ১ জনের। সেই সঙ্গে আহত হন ৩ জন। প্রকৃতির রোষে অসহায় গোটা রাজ্য। এখনও অবধি মৃত্যু বেড়ে ১২০ জনে পৌঁছেছে। জলের তোড়ে নিখোঁজ অনেক।

About Post Author