সানী রায়, জলপাইগুড়ি,সময় কলকাতা, ২৭ সেপ্টেম্বর: ঐতিহ্যে অবহেলার ট্রাডিশন বঙ্গ জুড়ে। প্রসঙ্গত,সমগ্র উত্তরবঙ্গ জুড়েই ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে বিভিন্ন তীর্থক্ষেত্র। উত্তরবঙ্গের সুপ্রাচীন ঐতিহ্যবাহী মন্দিরগুলির মধ্যে অন্যতম তীর্থক্ষেত্র হল জলপাইগুড়ি জেলার ময়নাগুড়ি ব্লকের জটিলেশ্বর শিব মন্দির।ময়নাগুড়ি থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে চুরাভান্ডার গ্রাম পঞ্চায়েতের মল্লিক হাট এলাকায় জটিলেশ্বর মন্দিরটি অবস্থিত। এই মন্দিরের ঐতিহ্যে অবলুপ্তির ছোঁয়া।
জটিলেশ্বর ধাম সম্পর্কে লোকমুখে বহু কথিত কাহিনি রয়েছে। জটিলেশ্বর মন্দিরে ভক্তরা আসেন যাবতীয় কষ্ট থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য। ভক্তদের বিশ্বাস, এই মন্দির অত্যন্ত জাগ্রত। বাবা জটিলেশ্বর তাঁর ভক্তদের খালিহাতে ফেরান না। ঐতিহাসিকরা দাবি করেন যে , এই প্রাচীন মন্দিরটি প্রায় ১৫০০ বছর আগে বাংলায় গুপ্ত বংশের শাসকের আমলে নির্মাণ করা হয়েছে।
উত্তরবঙ্গ তথা ডুয়ার্সের প্রাচীনতম বিখ্যাত এই মন্দিরটি বর্তমানে আর্কেওলজিকাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার রক্ষণাবেক্ষনে রয়েছে। জটিলেশ্বর মন্দিরে প্রবেশের আগেই রয়েছে সুবিশাল পুকুর। সমগ্র মন্দির চত্বর বড় বড় গাছে ভরা। সমগ্র মন্দির চত্বরটিতে রয়েছে গাছের ছায়া, সেজন্য এই মন্দির প্রাঙ্গনে এলেই অনেকটা স্বস্তি মেলে সকলের। প্রাচীন এই মন্দিরের দেয়ালে খোদাই করা রয়েছে একাধিক দেবদেবীর মূর্তি, রয়েছে একটি বিশাল বটগাছ।
কথিত আছে এই বট গাছে মানত করলে মনস্কামনা পূর্ণ হয়। সেজন্য ভক্তরা এসে এই গাছে ঢিল বাঁধে। শিব মন্দিরের পাশাপাশি এখানে রয়েছে নারায়ণ মন্দির, সিদ্ধেশ্বরী মন্দির। প্রায় প্রতিদিনই ভক্তসমাগম হয়ে থাকে জটিলেশ্বর শিবধামে। শিবরাত্রি ও শ্রাবণ মাসে এই শিব মন্দিরে অজস্র ভক্ত সমাগম ঘটে।
দূরদূরান্তের ভক্ত, পর্যটকরা প্রায়শই এই মন্দিরে আসে। জটিলেশ্বর শিব ধামের পুরোহিত সুভাষচন্দ্র মিশ্র বলেন, রাজা চন্দ্রগুপ্ত এবং সমুদ্রগুপ্ত যখন ছিলেন সেসময় তৈরি করা এই মন্দির । যাঁরা কিংবদন্তি মানেন, তাঁদের দাবি যে এই মন্দির ১৫০০ বছর পুরনো। ভক্তদের দান দক্ষিণায় মন্দিরটি পরিচালিত হয়।প্রাচীন মন্দিরটি বর্তমানে কিছুটা সংস্কার করা হয়েছে।
তবে বর্তমানে দাঁড়িয়ে এই মন্দির অবহেলার পাত্র হয়ে রয়েছে। মন্দিরের মূল গেট থেকে শুরু করে মন্দিরের গর্ভীয় সর্বত্রই নোংরা আবর্জনায় ভর্তি। মন্দিরের কোথাও ফাটল তো কোথাও আবার আগাছায় পরিপূর্ণ হয়ে গিয়েছে। মন্দিরের পাশের সুবিশাল পুকুরে আসে না আর কোন পরিযায়ী পাখি। গোটা মন্দির চত্বরে নেই কোন শৌচালয়ের ব্যবস্থা অকেজ রয়েছে সমস্ত কল এমনকি রাতের অন্ধকারে জলে না মন্দির চত্বরের কোন লাইট। এর থেকেও সব থেকে বড় বিষয় মন্দির বিভিন্ন দেওয়ালে চলছে ভালোবাসার দেওয়াল লিখন। যা সার্বিকভাবে একটি মন্দির চত্বরের দৃশ্য দূষণ হচ্ছেই বলে মনে করা হচ্ছে। একাধিক অভিযোগ রয়েছে অভিযোগের মাঝেও কোথাও গিয়ে যেন বোঝা যাচ্ছে এই মন্দির অবলুপ্তির পথে চলেছে। কেন এই অবহেলা তা নিয়ে মুখ খুলতে নারাজ উচ্চপদস্থ আধিকারিক। মন্দিরের ঐতিহ্য রক্ষা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে ।।


More Stories
ভারতরত্ন সম্মান : ইতিহাস ও বিতর্ক
স্বামী বিবেকানন্দের মা বীর জননী আখ্যা পেয়েছিলেন, কিন্তু কার জন্য? জানেন কি?
আগ্রার ঔরঙ্গজেবের ‘মুবারক মঞ্জিল’ গুঁড়িয়ে দেওয়া হল! নিন্দায় সরব ঐতিহাসিকরা