সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৬ অক্টোবরঃ আরজি কর আবহে উত্তাল রাজ্য-রাজনীতি। তার ঢেউ আছড়ে পড়েছে জাতীয় স্তরেও। নির্যাতিতার বিচার এবং দশ দফা দাবিতে ১২ দিন ধরে ধর্মতলায় আমরণ অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। সেই আবহে মঙ্গলবার রাজ্যের ৬ বিধানসভা আসনে উপনির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। এই পরিস্থিতিতে আগামী ২৪ অক্টোবর বাংলায় আসতে পারেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ । ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করতেই কী বঙ্গে আসছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী?

গত লোকসভা নির্বাচনের আগে ঘন ঘন বাংলায় আসতেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শহরের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে দলীয় সভা করে নির্বাচনের লক্ষ্য স্থির করে দিয়েছিলেন। শাহী উপস্থিতিতে দলীয় নেতাকর্মীদের মনোবলও চাঙ্গা হলেও নির্বাচনী ফলাফলে ছাপ ফেলতে পারেনি পদ্মশিবির। ফল ঘোষণা পর রাজ্যে আসেননি অমিত শাহ। এবার ফের রাজ্যে আসতে চলেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী।
প্রথমে ঠিক ছিল দুর্গাপুজোর মধ্যে রাজ্যে আসবেন অমিত শাহ। শেষ পর্যন্ত সেই সফর হয়নি। তবে সব ঠিক থাকলে কালীপুজোর আগেই ফের শহরে পা রাখতে চলেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ২৪ অক্টোবর রাজ্যের আসার কথা অমিত শাহর। বিজেপি সূত্রে খবর, এবারে শাহী সফরের উদ্দেশ্য মূলত দুটি। এক, সদস্য সংগ্রহ অভিযান তরান্বিত করা। দুই, উপনির্বাচনের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখা। দেশজুড়ে বিজেপির সদস্য সংগ্রহ অভিযান চললেও আর জি কর ইস্যু নিয়ে রাজ্য নেতারা ব্যস্ত থাকায় রাজ্যে সদস্য সংগ্রহের কাজ থমকে গিয়েছে। অমিত শাহের সফরে সেটা তরান্বিত হতে পারে।
সূত্রের খবর, ২৪ অক্টোবরই দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাদের সঙ্গে কথা বলবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। মূলত দলের সদস্য সংগ্রহের কাজ দ্রুত গতিতে সারার লক্ষ্যেই বার্তা দিতে পারেন তিনি। তবে সদস্য সংগ্রহ অভিযান নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি সংগঠন ও আরজিকর ইস্যুতে আগামী রণকৌশল নিয়েও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিজেপির কেন্দ্রীয় সভাপতি এবং রাজ্য সভাপতি দুই পদেই বদল আসন্ন। কিন্তু সদস্য সংগ্রহ অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনওটাই হচ্ছে না।
গত ১৬ অগস্ট সদস্য সংগ্রহ অভিযানের ঘোষণা করেছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা। তারপর ২ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে দিয়ে সদস্য সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়। সেসময় দলের সদস্যপদ পুনর্নবীকরণ করেন শুভেন্দু অধিকারী, সুকান্ত মজুমদার-সহ রাজ্যের শীর্ষ নেতৃত্ব। তবে সাধারণ সদস্য সংগ্রহ অভিযানের কাজ এখনও অনেকটাই বাকি। শাহ সেই কাজ খতিয়ে দেখার পাশাপাশি দলের পরবর্তী সভাপতি নিয়েও আলোচনা করতে পারেন রাজ্য নেতাদের সঙ্গে। একই সঙ্গে আরও একটি বিষয়ে নজর থাকবে তাঁর। সেটা হল রাজ্যের ৬ কেন্দ্রের উপনির্বাচন। নৈহাটি, হাড়োয়া, মেদিনীপুর, তালড্যাংরা, মাদারিহাট, সিতাই-রাজ্যের এই ছয় বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন হওয়ার কথা আগামী ১৩ নভেম্বর। এবার যে ৬ কেন্দ্রে উপনির্বাচন হতে চলেছে সেগুলির মধ্যে আলিপুরদুয়ারের মাদারিহাট একমাত্র কেন্দ্র যা রয়েছে বিজেপির দখলে। বাকি ৫ কেন্দ্র রয়েছে তৃণমূলের দখলে। আরজি কর কাণ্ডের পর রাজ্যে এটাই প্রথম নির্বাচন। এতেই বোঝা যাবে আরজি করের কতটা প্রভাব জনমানসে পড়েছে। বিজেপিও এই উপনির্বাচনকে লোকসভার ধাক্কা ভুলে ঘুরে দাঁড়ানোর মঞ্চ হিসাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।


More Stories
তারকেশ্বরে শ্যামাপ্রসাদের স্মরণে নরেন্দ্র মোদি, কৃষকদের প্রকল্পের সূচনা
ছাত্র শাসন মামলায় শিক্ষকের জামিন, আদালতের যুগান্তকারী বার্তা
যোগা, নামাজ, রেডরোড ও “হরিদাস পাল”