সময় কলকাতা ডেস্ক, ২২ অক্টোবরঃ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি মান্যতা পেল কলকাতা হাইকোর্টে। থ্রেট কালচারে অভিযুক্ত আরজি করের ৫১ জন চিকিৎসকের সাসপেনশনে স্থগিতাদেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে চিকিৎসকদের এই সাসপেনশন কার্যকরী নয়। সোমবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী-জুনিয়র ডাক্তারদের বৈঠকে এই সাসপেনশনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।

বেশ কিছুদিন আগেই থ্রেট কালচারের অভিযোগ তুলে ৫১ জন চিকিৎসককে সাসপেন্ড করা হয়েছিল আরজি কর থেকে। তাঁদের মধ্যে ২০ জন হাউস স্টাফ, দু’জন সিনিয়র রেসিডেন্ট, একজন রিসার্চ সায়েন্টিস্ট এবং ১১ জন ইন্টার্ন রয়েছেন। তাঁরা প্রত্যেকে আরজি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত। সোমবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী-জুনিয়র ডাক্তারদের বৈঠকে সাসপেনশনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন জুনিয়র চিকিত্সকরা। তার ২৪ ঘণ্টা পেরনোর আগেই ‘থ্রেট কালচারে’ ৫১ জন চিকিৎসকের সাসপেনশনে স্থগিতাদেশ দিল কলকাতা হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চের। মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্ট এই সংক্রান্ত মামলায় স্পষ্ট নির্দেশ দেয়, আপাতত এই নির্দেশ কার্যকর করা যাবে না। বিচারপতি কৌশিক চন্দের বেঞ্চ জানিয়ে দেয় সাসপেনশন নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারবে রাজ্য সরকার।
হাইকোর্টের এই নির্দেশ আরজি কর হাসপাতালে থ্রেট কালচারে অভিযুক্ত চিকিৎসকদের বড়সড় স্বস্তি দিল বলেই মনে করা হচ্ছে। সাসপেনশনের প্রতিবাদে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন সাসপেন্ড হওয়া ৮ জন চিকিৎসক। তাঁরা বলেন, যারা অভিযোগ করেছে এবং যে অভিযোগের ভিত্তিতে সাসপেন্ড করা হয়েছে তার কোনও অস্তিত্ব এখনও খুঁজে পাওয়া যায়নি। এমনকী, অর্ডারেও স্পষ্ট নয়, কেন তাঁদের সাসপেন্ড করা হয়েছে। অভিযোগ, কোনও কারণ ছাড়াই হয়েছে এই সাসপেনশন।
আরও পড়ুনঃ Junior Doctors: অনশন তুলেই মমতাকে ১৩৭ পৃষ্টার নথি পেশ করলেন জুনিয়র চিকিৎসকেরা
এই প্রেক্ষিতে অনিকেত মাহাতো, কিঞ্জল নন্দের মতো জুনিয়র ডাক্তারদের বক্তব্য শুনতে চেয়েছে আদালত। এদিকে, আদালতে আরজি করের তরফে আইনজীবী দাবি করেন, রিড্রেসাল সেলের প্রধান মুখ্যসচিব। কলেজ শুধু যে কোনও অভিযোগ ওই কমিটির কাছে পাঠাতে পারে। তবে সিদ্ধান্ত নেবে রাজ্যই। আরজি করের পক্ষ থেকে কাউকে বহিষ্কার করা হয়নি। অনিকেত মাহাতোর আইনজীবী কল্লোল বসু উল্লেখ করেন, ৫০০ জন রেসিডেন্ট চিকিৎসক এদের বিরুদ্ধে থ্রেট কালচারের অভিযোগ তোলেন, অথচ সেই অভিযোগকারী চিকিৎসকদের পার্টি না করে কীভাবে এই মামলা হতে পারে। বিচারপতি বলেন, পার্টি হতে চাইলে আবেদন করতে পারে রেসিডেন্ট চিকিৎসক সংগঠন। শেষে ‘থ্রেট কালচারে’র অভিযোগে সাসপেনশনের সিদ্ধান্তে স্থগিতাদেশ দেয় কলকাতা হাই কোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চ। আদালতের এই নির্দেশ কার্যকরী হবে ৫১ জনের জন্যই। আগামী ১১ নভেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানি।


More Stories
স্বরূপ বিশ্বাসের বাড়িতে পুলিশ, সঙ্গে কেন্দ্রীয় পুলিশ বাহিনী
গ্রেফতার কলকাতা পুরসভার দুই কাউন্সিলর
চাকরি পাওয়া নিয়ে দীপাঞ্জনকে পাল্টা জবাব দিলেন মীনাক্ষী