Home » গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জের, তৃণমূল নেতার বাড়ি ভাঙল তৃণমূলের অন্য গোষ্ঠী

গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জের, তৃণমূল নেতার বাড়ি ভাঙল তৃণমূলের অন্য গোষ্ঠী

সময় কলকাতা, নিউজ ডেস্ক:তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে অব্যাহত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যতই দলীয় কর্মীদের বার্তা দিক ঐক্যবদ্ধভাবে রাজনীতি করার, তৃণমূলের নিচের তলার কর্মীরা, সেই কথায় কতটা কর্ণপাত করে, তা নিয়ে রয়েছে যথেষ্ট সন্দেহ। একাধিক তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ঘটনায় এই সন্দেহ ক্রমশ উত্থাপিত হচ্ছে। গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের পরিণতিতে এক রাতেই তৃণমূলের দুই পঞ্চায়েত সদস্য ও এক সংখ্যালঘু ছেলে সভাপতিসহ, মোট তিনজনের বাড়িতে দুষ্কৃতী হামলা। দুষ্কৃতিকারীরা মারধোর ভাঙচুর, লক্ষাধিক টাকা ছিনতাই, শ্লীলতাহানি এমনকি তুলে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণ করার হুমকি পর্যন্ত দিয়েছে। অভিযোগ তৃণমূলের পঞ্চায়েত মেম্বার জসমিনা মন্ডল ও মিজানুর রহমান মোল্লা এবং সংখ্যালঘু সেল এর সভাপতি হোসেন মন্ডলের বাড়িতে বৃহস্পতিবার রাতে দুষ্কৃতী হামলা চলে। দুষ্কৃতীরা এই তিনটি বাড়িতে ভাঙচুর করে আলমারি ভেঙ্গে লক্ষাধিক টাকা ছিনতাই করে এবং বাড়ির যুবতী মেয়েকে শ্লীলতাহানি করার চেষ্টা করে।

দেখুন:বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচারের প্রতিবাদে নন্দীগ্রামে মিছিল:https://youtu.be/bFxRDsUaKiw?si=tA8S7hKiyzwoGpt3

স্বরূপনগরের বালতি নিত্যানন্দকাঠি গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য জসমিনা বিবির শাশুড়ি আনোয়ারা বেগম অভিযোগ করেন মোটরবাইকে করে একদল দুষ্কৃতী প্রথমে এসে তাঁর ছেলেকে ডাকাডাকি করে। ছেলে বাড়িতে না থাকায় দুষ্কৃতীরা ঘরের মধ্যে ঢুকে কার্যত তান্ডব চালায়। বাড়ির মেয়েদের তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করার হুমকি দেয়। আনোয়ারা বিবির আরো অভিযোগ তার ছেলে স্থানীয় তৃণমূল নেত্রী বিনা মন্ডলের অনুগামী এবং যে দুষ্কৃতীরা এই দিন হামলা করেছে তারা শেখর দাসের অনুগামী। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেছেন যে তৃণমূল কর্মীরা এসে তাঁর বাড়িতেই হামলা চালিয়েছে। ঘটনা তদন্তে নেমেছে স্বরূপ নগর থানার পুলিশ।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার দলীয় কর্মীদের সতর্ক করেছেন গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব থেকে বিরত থাকা। তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিক জনসভা থেকে দলীয় কর্মীদের সতর্ক করেছেন কোন দলীয় কর্মী এবং নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এলে সেক্ষেত্রে দল কঠোরতম ব্যবস্থা নেবে। তা সত্ত্বেও বিভিন্ন জায়গায় জমির দালালি, বালির ব্যবসা, প্রমোটিং, চোরা চালান সহ একাধিক অবৈধ ব্যবসায় গোপন আঁতাত করে অর্থ উপার্জন করছে নিচু তলার এক শ্রেণির কর্মী। সেক্ষেত্রে অতিমাত্রায় আর্থিক মুনাফার কারণে একাধিক জায়গায় বাড়ছে গোষ্ঠী সংঘাত। ২০২৬ এর নির্বাচনের দামামা ইতিমধ্যেই বেজে গিয়েছে। এখন দেখার সামনের নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের নেতাকর্মীদের কতটা সংযত রাখতে পারে তৃণমূলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।

About Post Author