Home » মহাকুম্ভে মৃত্যু মিছিল, পদপিষ্ট হয়ে মৃত ১০, আহত ৫০, উঠছে প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগ

মহাকুম্ভে মৃত্যু মিছিল, পদপিষ্ট হয়ে মৃত ১০, আহত ৫০, উঠছে প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগ

সময় কলকাতা নিজস্ব, প্রতিনিধি, মহাকুম্ভ :-মহাকুম্ভে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর মহা মিছিল। মৌনি অমাবস্যার অমৃত স্নান উপলক্ষে বুধবার রাতে ২টো নাগাদ ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে মহাকুম্ভে। প্রশাসনিক সূত্রে খবর প্রায় ১০ কোটি মানুষ মৌনি অমাবস্যার অমৃত স্নান উপলক্ষে জড়ো হয়েছিল। রাত দুটোর সময় ১১ থেকে ১৭ নম্বর খুঁটির মাঝে ভিড়ের চাপে ব্যারিকেট ভেঙে যায়। বিভ্রান্ত মানুষ এদিক-ওদিক ছোটাছুটি শুরু করে। তখনই পদপিষ্ট হন বহু মানুষ। সরকারি সূত্র অনুযায়ী এখনো পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ১০ জনের, যদিও অসমর্থিত সূত্রে মৃতের সংখ্যা প্রায় ১৫। ৩০ থেকে ৪০ জন আহত কে ইতিমধ্যে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে চিকিৎসার জন্য। এখনও আতঙ্ক ঘুরে ফিরে বেড়াচ্ছে কুম্ভ মেলা চত্বরে।

প্রসঙ্গত ১৯৫৪ সালে কুম্ভ মেলায় ভিড়ের চাপে প্রাণ হারিয়েছিল প্রায় ৩০০ জন। তখন প্রশাসনিক গাফিলতির অভিযোগ উঠেছিল। এবছর এই দুর্ঘটনার জন্য কার্যত প্রশাসনকে কাঠগড়ায় তুলেছে পঞ্চায়েতি আখড়ার মহামন্ডলেশ্বর সন্ত প্রেমানন্দ পুরি। পঞ্চায়েতি আখড়ার থেকে দাবি তোলা হয়েছে তারা প্রথম দিকেই আবেদন করেছিলেন যে ভিড় নিয়ন্ত্রণের সম্পূর্ণ দায়িত্ব থাক সেনার হাতে। এই দুর্ঘটনার কারণে অমৃত স্নান বাতিল করেছিল আখড়া পরিষদ।

মহাকুম্ভের এই দুর্ঘটনার পর যোগী আদিত্যনাথ জানিয়েছেন, যেন কোন পুন্যার্থী গুজবে কান না দেয়। দুর্ঘটনার পরবর্তী পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক হওয়ায় ফের অমৃত স্নান শুরু করার বার্তা দিয়েছে আখড়া পরিষদ।
ইতিমধ্যে যোগী আদিত্যনাথ কে ফোন করে বিস্তারিত খোঁজখবর নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পাশাপাশি সরকারি তরফে সমস্ত রকম সাহায্যের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
দুর্ঘটনার পর পরিস্থিতি পর্যালোচনায় উচ্চ পর্যায় বৈঠক বসেছে।
মহা কুম্ভ প্রাঙ্গনে প্রায় ২০ থেকে ২৫ টি ঘাট তৈরি করা হয়েছিল পূর্ণ্যার্থীদের জন্য। প্রশাসনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে কোন রকম জৌলুস বের করা হবে না। বুধবার সকাল ১১ টা থেকেই সাধুরা ঘাটে পৌঁছে স্নান করবেন এবং তার জন্য নির্দিষ্ট নিয়মাবলী, অনুষ্ঠান সূচি তৈরি করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর বহু মানুষ আতঙ্কিত হয়ে মেলা প্রাঙ্গণ ছেড়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন। ফলে আবার অমৃত স্নান চালু করা কার্যত প্রশাসনের কাছে একটা বড় চ্যালেঞ্জ।

About Post Author