সময় কলকাতা ডেস্ক:- ডেথ সার্টিফিকেট ছাড়াই মহাকুম্ভে মৃত তরুণ শিক্ষকের দেহ ফিরল মালদহের বৈষ্ণবনগরের বাড়িতে। তেত্রিশ বছরের ছেলে অমিয় সাহার নিথর দেহ বয়ে আনার যন্ত্রণা সইতে হল বাবা প্রদীপ সাহাকে। মহাকুম্ভে পূণ্যস্নানে গিয়ে ভিড়ের চাপে অসুস্থ হয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান অমিয়। বাবা-মায়ের সঙ্গে প্রয়াগরাজে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ভিড়ের মধ্যে পরিবার থেকে আলাদা হয়ে যান। বুকে ব্যাথা অনুভব করে সেখানেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন অমিয় সাহা।
মৃত শিক্ষকের নিথর দেহ গ্রামে পৌঁছলে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে বৈষ্ণবনগর থানার বীরনগর-২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের চরবাবুপুর এলাকায়। বৈষ্ণবনগরের কার্তিকটোলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন অমিয় সাহা। পরিবার সূত্রে খবর, মঙ্গলবার পরিবারবর্গ-সহ আত্মীয়দের দশজনের একটি দলের সঙ্গে তিনি উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজে মহাকুম্ভ মেলায় অমৃতস্নান করতে যান। সেখানে বুধবার পৌঁছে যথারীতি অমৃত স্নানও করেন। কিন্তু ফেরার সময় প্রচণ্ড ভিড়ের চাপে তিনি হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। শুরু হয় শ্বাসকষ্ট। তাঁকে তড়িঘড়ি কোনও রকমে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু হাসপাতালে যাওয়ার আগে রাস্তাতেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে দাবি পরিবারের।
রাজ্য সরকারের নির্দেশে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রয়াত শিক্ষক অমিয় সাহার দেহের ময়নাতদন্ত করা হয় মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে। ময়নাতদন্তের পর দেহ সৎকার করা হয়েছে। মৃতের বাবা প্রদীপ সাহার অভিযোগ, মহাকুম্ভে গিয়ে অসুস্থ হওয়ার পরেও ছেলেটাকে চরম অব্যবস্থার শিকার হতে হয়। সেখানকার হাসপাতাল স্রেফ ‘মৃত’ বলে ছেড়ে দেয়। কোনও কাগজ দেয়নি, ময়নাতদন্তও করেনি। দেয়নি ডেথ সার্টিফিকেট। বাধ্য হয়ে কোনও রকমে দেহ নিয়ে মালদহ ফিরে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। মালদহ জেলা প্রশাসনের সাহায্যে এখানে শিক্ষকের ময়নাতদন্ত হয়েছে।


More Stories
কুম্ভমেলা শেষ, চলছে সাফাই কর্মসূচি, এলাকার মানুষ খুশি আর্থিক পরিস্থিতি চাঙ্গা হওয়ায়
মহা কুম্ভের কৃতিত্ব কার? মহা কুম্ভের সাফল্য নিবেদনে সোমনাথ মন্দিরে পূজো দিলেন মোদি
এবার নাগা সন্ন্যাসীরা একে একে কুম্ভমেলা প্রাঙ্গণ ছেড়ে যাওয়া শুরু করলেন, কেন?