সময় কলকাতা ডেস্ক:- লিভইন পার্টনারের হাত ধরেই অস্ত্র পাচারে হাত পাকায় ধৃত ময়না মাঝি! পূর্ব কলকাতার আনন্দপুরে বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র পাচারের ঘটনায় ধৃত আজিজ মোল্লা ও ময়না মাঝিকে জেরা করে প্রাথমিক ভাবে এমনটাই জানতে পেরেছে কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স।
এসটিএফ জানিয়েছে, ময়না ও আজিজ বর্তমানে হুগলির পাণ্ডুয়ায় থাকে। ময়নার আগে বিয়ে হয়েছিল। স্বামীর অত্যাচারের জেরে তাকে ছেড়ে আজিজের সঙ্গে থাকতে শুরু করে সে। আবার আজিজও বিবাহিত। প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে তার ডির্ভোস হয়নি। আজিজ আদতে হুগলি ও ময়না বর্ধমানের বাসিন্দা। ময়না-আজিজ দু’জনে লিভইন সম্পর্কে থাকতে শুরু করে। ধৃতদের কাছ থেকে বেআইনি অস্ত্রের পাশাপাশি একটি মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তাদের জেরা করে আন্তঃরাজ্য অস্ত্রপাচারের সঙ্গে জড়িত আরও বেশ কিছু নাম উঠে এসেছে।
কী কারণে এই যুগল কলকাতায় এসেছিল, মোটিভ কী? কী ধরনের অপরাধ সংগঠনের জন্য এসেছিল? কাদের কাছে অস্ত্র পৌঁছানোর কথা ছিল? এই সব কিছুর উত্তর খুঁজে পুলিশ। আদালত ধৃতদের ১২ এপ্রিল পর্যন্ত এসটিএফ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। আজিজ ও ময়নার কাছ থেকে ১১টি আগ্নেয়াস্ত্র বাজেয়াপ্ত করে এসটিএফ।
এসটিএফ সূত্রের খবর, গত ছ’বছর ধরে তারা বেআইনি অস্ত্র সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত। বিহার থেকে অস্ত্র এনে পাটনা–বর্ধমান হয়ে আনন্দপুরে এসেছিল এই যুগল। সাম্প্রতিক কালে কলকাতা ও লাগোয়া শহরতলিতে বেআইনি অস্ত্র কারবারের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে অনেকে গ্রেপ্তার হলেও লিভ–ইন পার্টনার একসঙ্গে অস্ত্র ব্যবসায় যুক্ত থাকার ঘটনার নজির নেই বলে দাবি পুলিশের। পুলিশের নজরদারি এড়াতে সঙ্গী মহিলাকেও অস্ত্র পাচারে নামাচ্ছে বেআইনি অস্ত্র কারবারীরা, এমনটাই সন্দেহ তদন্তকারীদের।
গত কয়েক বছর ধরে বেআইনি অস্ত্র পাচার রুখতে পুলিশি নজরদারি বেড়েছে। সেই নজরদারি এড়াতে মহিলাদের সামনের সারিতে রাখা হচ্ছে। ২০২৪ সালে উত্তর ২৪ পরগনার দত্তপুকুরে একই ভাবে পূজার হদিস পায় পুলিশ। পূজার স্বামীও অস্ত্র পাচারে যুক্ত ছিল। ‘ক্যারিয়ার’ হিসেবে বিহার থেকে অস্ত্র আনতে পাঠানো হতো পূজাকে।


More Stories
ঋতব্রত সন্দীপনের বহিষ্কারের চিঠিতে কী কী লেখা হয়েছে?
গ্রেফতারির ভয়ে আগাম জামিনের আবেদন অরূপ বিশ্বাসের
বঙ্গে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভার গঠন