সময় কলকাতা ডেস্ক:- সাতদিন ধরে রেইকি। এরপর আঁটঘাট বেঁধে গত মঙ্গলবার পহেলগাঁওয়ের বৈসরন ভ্যালিতে সেনার পোশাকে আসে ৫-৬ জন জেহাদি। তাদের গুলিতে ঝাঁজরা হয়ে যায় ২৬ জন পর্যটক। যখন গোটা বিশ্ব এই নারকীয় ঘটনার নিন্দা জানাচ্ছে তখনই এই হামলার দায় স্বীকার করেছিল পাকিস্তানের মদতপুষ্ট লস্কর-ই-তৈবার ছায়া সংগঠন দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট – টিআরএফ। ঘটনার প্রতিবাদে পাঁচদিন ধরে ব্যাপক বিক্ষোভ হচ্ছে কাশ্মীরে। এই পরিস্থিতিতে আচমকাই পহেলগাঁও হামলার দায় অস্বীকার করল টিআরএফ। শনিবার হঠাৎই এক বিবৃতি দিয়ে টিআরএফ জানিয়েছে, পহেলগাঁওয়ের হামলায় রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্টের কোনও যোগ নেই। তারা এর সঙ্গে যুক্ত নেই। তাদের মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু কেন হঠাৎ এই বিবৃতি?
অনেকের মতেই, ভারতীয় সেনা ঘাঁটি খুঁজে খুঁজে জেহাদিদের খতম করছে। বাড়ি গুঁড়িয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, কাশ্মীরিরাও ব্যাপক বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। সব মিলিয়ে ভয় আর চাপেই ঘাড় থেকে নারকীয় হামলার দায় ঝেড়ে ফেলতে চাইছে লস্করের ছায়া সংগঠনটি। কাশ্মীরে আইএসআইয়ের ছায়াযুদ্ধকে স্থানীয় বাসিন্দাদের বিদ্রোহ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্যই মূলত টিআরএফ-কে তৈরি করে পাকিস্তান। এরা মূলত লস্করের জেহাদি ছক বাস্তবায়িত করে। ২০১৯ সালের আগস্টে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বা সংবিধানের ৩৭০ ধারা প্রত্যাহার করে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। যা নিয়ে উপত্যকার বহু মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ছিল। সেই সুযোগেই তাদের মগজ ধোলাই করেই টিআরএফ তৈরি করে পাক জেহাদি সংগঠনগুলি।
যদিও অন্য একটি সূত্রের দাবি, করাচিতে সমাজসেবী সংগঠন হিসেবে তৈরি হয়েছিল ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’। তারাই পরবর্তী সময় কাশ্মীরে জেহাদি কার্যকলাপ চালাচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ার উপর ভিত্তি করেই নিজেদের নেটওয়ার্ক বানায় তারা। তবে শুধু লস্কর নয়, তেহরিক-ই-মিলাত ইসলামিয়া এবং ঘাজনাভি হিন্দেরও যোগ রয়েছে তাদের সঙ্গে। পাকিস্তানে বসে জেহাদি হামলার ছক কষা হলে তা কাশ্মীরের মাটিতে বাস্তবায়িত করার দায়িত্বে রয়েছে টিআরএফ।
২০২৩ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সন্ত্রাসবাদ প্রচার, জঙ্গি নিয়োগ, অনুপ্রবেশ সহজতর করা এবং পাকিস্তান থেকে কাশ্মীরে অস্ত্র-মাদক পাচারের জন্য টিআরএফকে জঙ্গি সংগঠনকে তকমা দিয়েছিল। গত ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে যা ঘটেছে, টিআরএফ নিজেই সেই ঘটনার দায় স্বীকার করে নিয়েছিল। তবে, ঘটনার প্রতিবাদে পাঁচদিন ধরে ব্যাপক বিক্ষোভের পরেই আচমকাই পহেলগাঁও হামলার দায় অস্বীকার করল টিআরএফ জঙ্গি গোষ্ঠী। গত মঙ্গলবার পহেলগাঁওয়ের জঙ্গি হামলার মূল চক্রী ছিলেন সইফুল্লা খালিদ ওরফে সইফুল্লা কসৌরি। গোয়েন্দাদের অনুমান, তাঁর নির্দেশেই পাঁচ-ছয় জন জঙ্গি মঙ্গলবার দুপুরে পহেলগাঁওয়ের বৈসরন উপত্যকায় নির্বিচারে গুলি চালায়। অন্তত এমনটাই মনে করা হচ্ছিল। তবে, সব জল্পনা উড়িয়ে খোদ সইফুল্লাও জানিয়েছিলেন, হামলার গোটা ব্যাপারটাই নাকি ভারতের নাটক।


More Stories
বিক্ষোভ দেখাতে গিয়ে গ্রেফতার অসিত মজুমদার
সোনারপুরে অভিষেককে মারধর, মেরে জামা ছিঁড়ে দেওয়া হল অভিষেকের
সই বিতর্কে বিজেপিকে তোপ চন্দ্রনাথের