সময় কলকাতা ডেস্ক:- কান্দাহার বিমান অপহরণের পর ফের একবার কাঠমান্ডুর নাম জড়িয়ে গেল। ২৬/১১ মুম্বই হামলার অন্যতম প্রধান চক্রী তাহাউর হুসেন রানাকে ছাড়ানোর ছকে পর্যটকদের পণবন্দি করার ছক কষেছিল জঙ্গিরা, এমন খবর আগেই এসেছিল গোয়েন্দাদের কাছে। ঠিক যে ভাবে ১৯৯৯-এ ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট আইসি ৮১৪ হাইজ্যাক করে ছাড়ানো হয়েছিল জৈশ-ই-মহম্মদ নেতা মাসুদ আজহারকে। সূত্রের খবর, এ বার গোয়েন্দারা জেনেছেন, পহেলগামের নীল নকশা চূড়ান্ত করা হয়েছিল নেপালের কাঠমান্ডুতে পাকিস্তান এম্বাসিতে, যেখানে বসে তৈরি হয়েছিল কান্দাহার হাইজ্যাকের ছক।
গোয়েন্দাদের ধারণা, কাশ্মীরে নাশকতা চালানোর জন্য মুসা ও আদিল অভিজ্ঞ দু’জনের উপরে ভার দেওয়া হয়েছিল। ২০২৪-এ সোনমার্গের জেড-মোর টানেল প্রকল্পে এলোপাথাড়ি গুলি চালিয়ে দুই জওয়ান, সেনাবাহিনীর দুই কুলি, একজন চিকিৎসক ও ছয় শ্রমিককে হত্যা করে জঙ্গিরা। সেই হামলার নেতৃত্বেও মুসা ছিল, সঙ্গে ছিল আদিল। গত বছর আরও অন্তত তিনটি ছোট-মাঝারি হামলায় সক্রিয় ভূমিকা ছিল মুসা-আদিল যুগলবন্দির। ফলে, বিশ্বস্ত জুটিকেই বেছে নিতে দু’বার ভাবতে হয়নি জঙ্গি নেতাদের। সূত্রের খবর, এই সিদ্ধান্তও চূড়ান্ত হয়েছিল কাঠমান্ডুতে বসেই!
প্রথমে জানা গিয়েছিল সইফুল্লার নাম। তার পরে দ্বিতীয় মাস্টারমাইন্ড হিসেবে লস্করের আর এক শীর্ষ কম্যান্ডার ফারুখ আহমেদের নাম পাওয়া যায় (যার বাড়ি উড়িয়ে দিয়েছে বাহিনী)। এই দু’জন বাদে আরও একজনের নাম গোয়েন্দাদের রাডারে ছিল একেবারে শুরু থেকে – রউফ আসগর, মাসুদ আজহারের ভাই। পিওকে-তে হামাস ও লস্করের সঙ্গে বৈঠকে তার উপস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত ছিলেন গোয়েন্দারা। এ বার কাঠমান্ডুতেও আসগরের নাম ভেসে আসার পরে তাঁদের কাছে লাইন-আপ মোটামুটি পরিষ্কার লস্করের দিকে সইফুল্লা ও ফারুখ আর জৈশের দিকে আসগর, এখনও পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এই হলো মাস্টারমাইন্ডদের তালিকা। এদের মধ্যে রয়েছে হামাসের কাদ্দুমি আর আড়ালে পাক সেনা ও আইএসআই।
বৈসরনে যাতায়াতের সুবিধে-অসুবিধে, ঢোকার ও পালানোর পথ, দু’কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনীর থেকে এক কোম্পানি সরিয়ে নেওয়া, বৈসরন থেকে মোতায়েন বাহিনীর দূরত্ব, রিসর্টের গেস্ট-লিস্ট সব তথ্য পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে জঙ্গিদের পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল বলে গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন। এই গোটা কাজে চার জন ওজিডব্লিউ যুক্ত ছিলেন বলে খবর। সব খবর পেয়ে যোগাযোগ করা হয় সীমান্তের ওপারে। সেখান থেকে সবুজ সঙ্কেত আসতে দেরি হয়নি। কারণ মুসা এবং আদিল পুরো এলাকা খুব ভালো করে চেনে, তাই তাদের দেওয়া তথ্যে সংশয়ের অবকাশ ছিল না। পাকিস্তান থেকে ইতিবাচক সাড়া পেয়েই হামলা চালানো হয়।
সূত্রের খবর, কাঠমান্ডুতেই চূড়ান্ত হয়ে যায়, হামলার টার্গেট হবেন পর্যটকেরা। সেখানেই বেছে নেওয়া হয় তিনটি স্পট। কাশ্মীরের ওভার গ্রাউন্ড ওয়ার্কারদের জিজ্ঞাসাবাদ করে গোয়েন্দারা জেনেছেন, উপত্যকায় পৌঁছেই প্ল্যান-মাফিক এক জঙ্গি চলে যায় পহেলগামের অ্যামিউজমেন্ট পার্কে রেকি করতে। কিন্তু সেখানকার কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা দেখে পিছিয়ে যায় হামলাকারীরা। এর পরে ওজিডব্লিউ-দের সাহায্যে জঙ্গিরা গিয়েছিল আরু ভ্যালি এবং বেতাব ভ্যালিতে। তবে দু’জায়গাতেই সশস্ত্র জওয়ানদের সংখ্যা দেখে আর এগোয়নি জঙ্গিরা। গোয়েন্দারা সূত্র মারফত জেনেছেন, শ্রীনগরের লাল চক এবং ডাল লেকের শিকারাতেও হামলা চালানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
পহেলগাম হামলার পরে গোয়েন্দাদের কাছে একটি বিষয় পরিষ্কার হয়ে যায় নানা কারণে দূরত্ব তৈরি হলেও সম্প্রতি ফের কাছাকাছি এসেছে লস্কর এবং জৈশ। হালফিলে লস্করের প্রতিপত্তি বেশ কিছুটা ধাক্কা খেয়েছে। সেই সুযোগে ফের সামনের সারিতে এসেছে জৈশ। কিন্তু পাক সেনা ও আইএসআই-এর তরফে দু’পক্ষের কাছেই নির্দেশ যায়, এ বারে কাজ করতে হবে একসঙ্গে। হামলার ছক আরও মসৃণ করতে আসরে নামে হামাস। লস্কর এবং জৈশের নতুন প্রজন্মের দুই নেতা, সইফুল্লা এবং রউফকে এক ছাতার তলায় এনে শুরু হয় ভারতের বুকে সাম্প্রতিক অতীতে সবথেকে ভয়ঙ্কর জঙ্গি হামলার প্ল্যান তৈরি করা।
গোয়েন্দা সূত্রে আরও তাৎপর্যপূর্ণ ইনপুট হল, পহেলগাম হামলার মিটিংয়ে কাঠমান্ডুর পাক দূতাবাসে জঙ্গি নেতাদের সঙ্গে হাজির ছিলেন পাক সেনা এবং আইএসআই-এর শীর্ষ অফিসারেরা। ছিল লস্কর-ই-তৈবা এবং জৈশের মাথারাও। এই জঙ্গি নেতাদের মধ্যে বৈঠকে যেমন লস্করের সইফুল্লা কসৌরির উপস্থিতির কথা জানা গিয়েছে, তেমনই জানা গিয়েছে হামাস নেতা খালিদ আল কাদ্দুমির নামও। এদের বাইরে ছিল আর একজনও, রউফ আসগর। জৈশ নেতা ছাড়া যার অন্য পরিচয়টি হলো, সে মাসুদ আজহারের ভাই। যে মাসুদকে ছাড়াতেই কান্দাহার হাইজ্যাক ঘটানো হয়েছিল।


More Stories
কলকাতায় পেট্রোলের দাম লিটারে ৪ পয়সা কমল, ডিজেল বাড়ল ৯৪ পয়সা
পুলওয়ামা হামলার মাস্টারমাইন্ড হামজা বুরহান খ*তম , কে এই হামজা?
ককরোচ জনতা পার্টির এক্স হ্যান্ডেল নিষিদ্ধ!