সময় কলকাতা ডেস্ক:- পহেলগাঁও হামলার পর থেকেই ভারতের সামরিক প্রত্যাঘাতের ভয়ে সিঁটিয়ে গিয়েছে পাকিস্তান। এরই মধ্যে পাকিস্তানকে কোণঠাসা করতে ভারত একাধিক কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক পদক্ষেপ করেছে। দফায় দফায় দিল্লিতে বৈঠক করছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এদিকে, ৭ মে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে মক ড্রিল অর্থাৎ মহড়ারও নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। শেষবার দেশে এমন মক ড্রিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল ১৯৭১ সালে। অর্থাৎ ঠিক যে বছর ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ হয়, সেবার এমন মহড়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। আবার ২০২৫ সালে এমন নির্দেশিকা জারি হল। তাহলে কি এবার সরাসরি যুদ্ধের পথেই হাঁটতে চলেছে ভারত, জল্পনা তুঙ্গে। এসবের মাঝেই কোথায় হামলা চালাতে পারে ভারত, সেই আভাস পেলেন পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ।
‘পাকিস্তানে নয়’, ভারত যে কোনও মুহূর্তে কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর সামরিক হামলা চালাতে পারে বলে দাবি তাঁর। গত ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে নৃশংস জঙ্গি হামলায় নিহত হয়েছেন ২৬ জন। তার পর থেকেই পরমাণু শক্তিধর দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। দুই দেশই একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সোমবার খোয়াজা আসিফ বারবার দাবি করে এসেছেন যে ভারত হামলা করতে চলেছে পাকিস্তানে। আসলে, পাক অধিকৃত কাশ্মীরকে পাকিস্তানের অঙ্গ হিসেবে মনে করে না ভারত।
জম্মুর অখনুর সেক্টর থেকে পাকিস্তানের সঙ্গে শুরু হচ্ছে ভারতের আন্তর্জাতিক সীমান্ত। এই পরিস্থিতিতে পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ জানাচ্ছেন, তিনি খবর পেয়েছেন এলওসি বরাবর যে কোনও পয়েন্টে হামলা চালাতে পারে ভারত।
এদিকে, সোমবার বেলুচিস্তানের একটি অনুষ্ঠান থেকে পাকিস্তানের সেনা প্রধান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, পাকিস্তান আঞ্চলিক শান্তি চায়, কিন্তু আত্মরক্ষা করতে দ্বিধা করবে না। ভারত হামলা করতে এলে পূর্ণ সামরিক শক্তি দিয়ে জবাব দেওয়া হবে।
গত ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে নৃশংস জঙ্গি হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনার আবহ ক্রমেই চড়ছে। ইতিমধ্যে একাধিক পদক্ষেপও করেছে ভারত। পাল্টা পদক্ষেপ করেছে পাকিস্তানও। যার নিট ফল, দু’দেশের পারম্পরিক সম্পর্ক তলানিতে পৌঁছেছে। প্রত্যাঘাতের দাবি জোরাল হচ্ছে। তবে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ ঘোষণা করা হবে নাকি জঙ্গি শিবির ভেঙে দিতে পাকিস্তানের উপর সার্জিক্যাল স্ট্রাইক করা হবে তা এখনও স্পষ্ট নয়।
তবে ভারত যে বসে নেই, ইতিমধ্যে তার একাধিক ছবিও সামনে এসেছে।
তাৎপর্যপূর্ণভাবে কাশ্মীরে জঙ্গি হানার পর সোমবার প্রথম লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধিকে জরুরি বৈঠকে ডেকে পাঠান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সন্ধ্যে বেলা পিএমওতে পৌঁছন রাহুল। সেই বৈঠকে হাজির ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালও। পর্যবেক্ষকদের অনেকেই মনে করছেন, ভারত ‘ধীরে চলো’ নীতি মেনেই সবমিলিয়ে প্রত্যাঘাতের চূড়ান্ত প্রস্তুতি চালাচ্ছে।


More Stories
অভিষেকের জন্য জেলে গিয়েছিলাম : অনুব্রত
আর পারলেন না, মমতার হয়ে মদনের লড়াই শেষ
কালীঘাটের তৃণমূলকে স্বস্তি দিল শহীদ দিবস পালনের অনুমতি