Home » ভারতের সিঁদুর, বালুচিস্তানে ‘বিদ্রোহ’, বিশ্বকে খোলা চিঠি বালুচিস্তানের

ভারতের সিঁদুর, বালুচিস্তানে ‘বিদ্রোহ’, বিশ্বকে খোলা চিঠি বালুচিস্তানের

সময় কলকাতা ডেস্ক:- ভারত-পাক অশান্তির আবহে বালোচ বিদ্রোহীরাও সরব হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে যখন পাকিস্তান পরপর ড্রোন হামলা চালাচ্ছে, তখন নিজেদের স্বাধীনতার দাবি করতে শুরু করে এই বালোচ বিদ্রোহীরা। আর এবার বিশ্বের কাছে খোলা চিঠি লিখল তারা।ভারতকে খোঁচা দেওয়া ভারী হতে চলেছে পাকিস্তানের জন্য। বৃহস্পতিবার রাতে বিনা প্ররোচনায় ভারতের এয়ারস্ট্রিপ লক্ষ্য করে ড্রোন ও মিসাইল হামলা করেছিল পাক সেনা। সেই একই পন্থা অবলম্বন করে শুক্রবারও ভারতের অন্তত ২৬ টি জায়গায় হামলা চালায়। যদিও ভারতীয় বাহিনীর দাপটে ফুৎকারে উড়ে গিয়েছে পাকিস্তানের এই ষড়যন্ত্র। কিন্তু এর ফল হয়তো ভয়ঙ্কর ভাবে ভুগতে হতে পারে পাকিস্তানকে।

প্রশ্ন উঠছে ১৯৭১-এর পর কি ফের টুকরো হতে পারে পাকিস্তান?

এই জল্পনার সবচেয়ে বড় কারণ হল, একদিকে ভারতের অপারেশন সিঁদুরে পাকিস্তান যখন বিধ্বস্ত, তখনই অন্যদিকে বালুচিস্তানে বালোচ আর্মির দাপটে ভয়াবহ বেকায়দায় পাকিস্তান। সিন্ধু এবং খাইবার পাখতুনখোয়ার মতো এলাকাতেও বিদ্রোহী আন্দোলন মাথাচারা দিয়ে উঠেছে। এসবের মাঝেই এবার বিশ্বের কাছে খোলা চিঠি লিখল তারা। সেই চিঠিতে কার্যত পাকিস্তানের মুখোশ টেনে খোলা হয়েছে। ভারতকে শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে বর্ণনা করে পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার নিন্দা করেছে বালোচরা।

চিঠিতে ভারতের পাশে দাঁড়ানোর জন্য গোটা দেশকে আহ্বান জানিয়েছে বালোচ বিদ্রোহীরা। ভারত যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাকে সমর্থন করা উচিত বলেও মন্তব্য করা হয়েছে ওই চিঠিতে। অপারেশন সিঁদুরে অন্যান্য দেশকেও যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তারা। বালোচদের দাবি, শুধু ভারত নয়, পাকিস্তানের নৃশংসতার শিকার তারাও। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে রাষ্ট্রপুঞ্জের কাছেও তারা দাবি জানিয়েছে, ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব বালোচিস্তানের স্বাধীনতা ঘোষণা করতে হবে। বালোচিস্তানে শান্তিরক্ষা বাহিনীর উপস্থিতিও দাবি করছেন তাঁরা। পাকিস্তানের সেনা যাতে অবিলম্বে সরে যায়, সেটাই চায় তারা।

ভারতের সংসদের বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে ২৭ এপ্রিল, ২০২৫ তারিখে দাবি করেছিলেন যে ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ পাকিস্তান চার ভাগে বিভক্ত হবে, এবং যোগী আদিত্যনাথও একই দাবি করেছেন। কিন্তু, এই দাবিগুলির পিছনে এখন পর্যন্ত কোনও দৃঢ় ভিত্তি নেই। কিন্তু ১৯৭১ সালের আগে কেউ কি কল্পনা করতে পেরেছিলেন, যে বাংলাদেশ নামে একটি নতুন দেশের জন্ম হবে? ১৯৭১ সালের যুদ্ধে বাংলাদেশের সৃষ্টি হয়েছিল প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধির কূটনৈতিক সাফল্য ও পাকিস্তানের হেরো মনোভাবের প্রেক্ষিতেই। অনেকেই মনে করছেন, বালুচিস্তানে যেভাবে বালোচ লিবারেশন আর্মি সক্রিয় হয়ে উঠেছে, তা ১৯৭১-এর মুক্তিযোদ্ধাদের মনে করায়। পাকিস্তানি সেনা প্রতিদিনই বালুচিস্তানে পিছিয়ে পড়ছে। বালুচিস্তানে পাকিস্তান সরকার এখন নামমাত্রই ক্ষমতা দখল রেখেছে। দুদিন আগেই বালুচ বাহিনীর হাতে ১৪ জন পাকিস্তানি সেনার মৃত্যু হয়েছে।

এছাড়াও, ভারত যেভাবে সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত করেছে, তাতে ভবিষ্যতে পাকিস্তানে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়াও বিচিত্র না। আবার অন্যদিকে পাক অধিকৃত কাশ্মীরেও আন্দোলন মাথাচারা দিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্যুৎ, জল এবং মৌলিক সুযোগ-সুবিধার অভাবের কারণে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ লক্ষ্য করা গিয়েছে। ফলে যে কোনও সময় এই প্রদেশের উপর থেকেও ‘পিওকে’ নাম মুছে যেতে পারে। ফলে ভারতের সঙ্গে যুদ্ধ করতে এসে আবারও একবার টুকরো টুকরো হয়ে যেতে পারে পাকিস্তান।

About Post Author