সময় কলকাতা ডেস্ক:- মঙ্গলবার থেকে পর পর তিন দিন ধরে সুপ্রিম কোর্টে চলল ওয়াকফ মামলার শুনানি। বৃহস্পতিবার কেন্দ্রের তরফে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা দেশের শীর্ষ আদালতে সওয়াল করেন, কেন আইনের উপর স্থগিতাদেশ জারি করা উচিত নয়, তিনি বলেন, কেউ কোনও প্রস্তাব উত্থাপন করতেই পারেন, সেটি নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে বলে এই নয় যে শুধু সেই কারণের জন্য আইনসভায় পাশ হওয়া একটি আইনের উপর স্থগিতাদেশ দেওয়া যায়। যদিও এদিন এই বিষয়ে পাল্টা সাওয়াল করেননি, মামলাকারী দের আইনজীবিরা।
প্রধান বিচারপতি গবই’র পর্যবেক্ষণ, ২০২৫ সালের সংশোধিত ওয়াকফ আইনের উপর স্থগিতাদেশ জারি হবে কি না, শুধু সেটিই আদালত বিবেচনা করছে।
সলিসিটর জেনারেলের আরও জানিয়েছেন, ওয়াকফ তৈরি করা এবং ওয়াকফে সম্পত্তি দান করা ভিন্ন বিষয়। তিনি বলেন, সেই কারণে মুসলিমদের জন্য পাঁচ বছরের ধর্মপালনের কথা বলা হয়েছে। যাতে কাউকে প্রতারিত করতে ওয়াকফের ব্যবহার না হয়। তিনি আদালতে আরও বলেন, “ধরে নেওয়া যাক, আমি হিন্দু হিসাবে ওয়াকফের জন্য কিছু দান করতে চাই, সেটি করাই যেতে পারে। কিন্তু একজন অমুসলিম কী ভাবে ওয়াকফ তৈরি করতে পারেন? তিনি চাইলে ওয়াকফকে সম্পত্তি দান করতে পারেন।”
মামলাকারী পক্ষের আইনজীবী কপিল সিব্বল আদালতে সওয়াল করেন, “একটি সম্পত্তি সরকারি সম্পত্তি কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন একজন কালেক্টর। তার পরে বলা হচ্ছে, সিদ্ধান্ত না নেওয়া পর্যন্ত সম্পত্তিটি ওয়াকফ হিসাবে গণ্য হবে না। কোন আইন অনুসারে এটি প্রমাণ করা যেতে পারে?”
প্রধান বিচারপতি জানান, অন্য ধর্মের ক্ষেত্রেও একই ধরনের দানমূলক আইন রয়েছে। এক বার দান করা হলে সেটি আর ফেরত নেওয়া যায় না।
মামলাকারী পক্ষের অন্যতম আইনজীবী রাজীব ধাওয়ান জানান, ওয়াকফ যে অপরিহার্য এবং অবিচ্ছেদ্য, তা প্রতিষ্ঠিত। এটি দানের অংশ, যা ইসলাম ধর্মের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম। মামলাকারী পক্ষের আরেক আইনজীবী এএম দারের বক্তব্য, ওয়াকফ শব্দটি এসেছে আরবি শব্দ ওয়াকাফা থেকে, যাঁর অর্থ বন্ধন। তাঁর কথায়, কোনও ব্যক্তি যত বেশি ওয়াকফে সম্পত্তি দেন, তত বেশি ঈশ্বরের কাছাকাছি পৌঁছে যান। সর্বোপরি, বৃহস্পতিবারের শুনানি শেষেও অন্তর্বর্তী রায়দান স্থগিত রাখলো সুপ্রিম কোর্ট।


More Stories
অভিষেকের জন্য জেলে গিয়েছিলাম : অনুব্রত
আর পারলেন না, মমতার হয়ে মদনের লড়াই শেষ
কালীঘাটের তৃণমূলকে স্বস্তি দিল শহীদ দিবস পালনের অনুমতি