Home » কী কারণে এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান দুর্ঘটনা, উঠে আসছে একাধিক তত্ত্ব

কী কারণে এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান দুর্ঘটনা, উঠে আসছে একাধিক তত্ত্ব

সময় কলকাতা ডেস্ক:- আমেদাবাদের দুর্ঘটনায় শোকস্তব্ধ গোটা দেশ। ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে সমস্ত দেহ উদ্ধার করা এখনও সম্ভব হয়ে ওঠেনি, এখনও চলছে উদ্ধারকার্য। মৃত্যুর মিছিলে পরিবার-পরিজনদের শুধুই আর্তনাদ ভেসে আসছে। কিন্তু কি কারণে ঘটলো এত বড় দুর্ঘটনা? বিভিন্ন মহল থেকে বিভিন্ন ধরনের দুর্ঘটনার তত্ত্ব উঠে আসছে। যতক্ষণ না ব্ল্যাক বক্স উদ্ধার করে দুর্ঘটনার কারণ নির্ণয় করা হচ্ছে, ততক্ষণ চলতে থাকবে দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে কাটা ছেঁড়া।

দুর্ঘটনার কারণের মধ্যে অনেকেই মনে করছেন নাশকতা, একটি মুখ্য কারণ। কিছুদিন আগে পর্যন্ত এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব ছিল তুরস্কের একটি সংস্থা সেলেবি এভিয়েশন। অপারেশন সিঁদুরের পর পাকিস্তানকে তুরস্ক সাহায্য করার জন্য সেলেবি এভিয়েশনের লাইসেন্স বাতিল করেছে ভারত।

এ কারণেই অনেকেই নাশকতা তত্ত্ব তুলে ধরার চেষ্টা করছেন, আর সেই তত্ত্বকে জোরালো করেছে দুর্ঘটনার পরের দিন এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানে বোমাতঙ্কের ঘটনা। শুক্রবার এয়ার ইন্ডিয়ার এ আই ৩৭৯ পিয়ার বাস থাইল্যান্ডের ফুকেত থেকে নয়াদিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল। বিমানের যাত্রী সংখ্যা ছিল ১৫৬ জন। বিমানটি রওনা দেওয়ার কিছু পরে ছড়িয়ে পড়ে বোমাতঙ্কের আতঙ্ক ‌। অবশেষে আন্দামান উপকূল এলাকা থেকে আবার থাইল্যান্ডের দিকে রওনা দেয় বিমানটি। ফুকেত বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে এয়ার ইন্ডিয়া বিমানটি। এই ঘটনা পরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে তাহলে কি বৃহস্পতিবারের বিমান দুর্ঘটনায় নাশকতার সম্ভাবনা রয়েছে? এত গেল নাশকতার দিক।

আরও একাধিক কারণ ইতিমধ্যেই উঠে এসেছে বিভিন্ন মহল থেকে। টেক অফ করার ২৭ সেকেন্ডের মাথায় ৬৫২ ফিট উচ্চতা থেকে বিমানটি আচমকাই আছড়ে পড়ে। প্রশ্ন হল কেন? বিমানটি যাওয়ার কথা ছিল আমেদাবাদ থেকে ইংল্যান্ডের গ্যাটউইকে। তার আগেই ধাক্কা মারে মেডিকেল কলেজের হোস্টেলে। এর প্রথম কারণ যেটা উঠে আসছে থ্রাস্ট প্রবলেম। অর্থাৎ বোয়িং শ্রেণীর বিমানে থ্রাস্ট জেনারেট করা সবচেয়ে বেশি জরুরী। অর্থাৎ ইঞ্জিনকে গরম করে বাতাসে প্রেসার তৈরি করা। প্রেসার দুই ভাগে ভাগ হয়, অর্ধেক প্রেসার নিচের থেকে বিমানটিকে উপরে তুলতে সহায়তা করে আর অর্ধেক প্রেশার বিমানটিকে সামনে নিয়ে যেতে সহযোগিতা করে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন এই থ্রাস্ট জেনারেট সম্পূর্ণভাবে হয়নি। সে কারণেই ৬৫২ ফুট উচ্চতায় উঠেই বিমানটি ভেসে থাকার সক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।

আবার কিছু মানুষ মনে করছেন বিমানের দুটি ইঞ্জিনেই আচমকাই গোলযোগ হওয়ায় বন্ধ হয়ে যায় ইঞ্জিন।

ফলে বিমান দ্রুত মাটির দিকে নেমে আসতে থাকে, আর সে কারণেই হোস্টেলের উপরে আছড়ে পড়ে।

আবার অনেকের মতে এই বিমানগুলি ২০১১ সাল থেকে ক্রমাগত চলছে। যন্ত্রাংশ অনেকটাই পুরনো হয়ে গিয়েছিল। লাগাতার ভাবে উড়ানের কারণে সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ সম্ভব হচ্ছিল না। ইঞ্জিনের প্রযুক্তিগত সমস্যা নিয়ে একাধিকবার প্রশ্ন উঠেছে। তা সত্ত্বেও বৃহস্পতিবার দিল্লি থেকে আমেদাবাদে আসে বিমানটি তারপরেই আমেদাবাদ থেকে লন্ডনে যাওয়ার জন্য রওনা দেয়। ফলে সামান্যতম যান্ত্রিক ত্রুটি থাকলেও তা ঠিক করার মতন পর্যাপ্ত সময় ছিল না। অর্থাৎ সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ এবং প্রযুক্তিগত সমস্যার দিকে নজর দেওয়ার একটা গাফিলতির তত্ত্ব উঠে আসছে। অন্যদিকে আরেকটি তত্ত্ব উঠে আসছে পাইলট এবং বিমান কর্মীদের লাগাতার ডিউটির ফলে বিশ্রামের অভাবে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ তত্ত্ব হল, সাধারণত ডোমেস্টিক এয়ারলাইন্সে ব্যবহার হয় সি-৩১৯, সি-৩২০, সি-৩২০ নিও, সি-৩২১ বিমান এগুলো এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাওয়ার পরে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত সময় পায়। কিন্তু আন্তর্জাতিক বিমানের ক্ষেত্রে মূলত ব্যবহৃত হয় বোয়িং সি-৮, ড্রিম লাইনার, এয়ার বাস, ৩৮০, ৩৭৯ এবং ডাবল ট্রেকার বড় বিমান। যেগুলো এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় অবতরণ করার পর আবার অন্য জায়গার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। ফলে নির্দিষ্টভাবে রক্ষণাবেক্ষণের সময়ের একটু অভাব অবশ্যই দেখা দেয়। সে ক্ষেত্রেও দুর্ঘটনার একটা সম্ভাবনা থেকে যায়।

ইতিমধ্যেই ডিজিসিএ থেকে এয়ার ইন্ডিয়ার ২৭ টি বিমানকে সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। ফ্লাই টু ফিট সার্টিফিকেট পাওয়ার পরেই এই বিমানগুলি আবার উড়ান দিতে পারবে। তবে একাধিক তত্ত্ব উঠে আসলেও এই বিমান দুর্ঘটনা ধ্বংসাত্মক রূপ নেওয়ার অন্যতম কারণ আন্তর্জাতিক বিমান সাধারণত যাওয়া এবং আসার জন্য পর্যাপ্ত ফুয়েল বিমানে সংরক্ষণ করে রাখা হয়। অর্থাৎ একটি বিমানের ডাবল ফুয়েল থাকে। ফলে বিমানটি আছে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই যে পরিমাণ আগুনের লেলিহান শিখা দেখা গিয়েছে সেটা এই ডাবল ফুয়েলের কারণেই।

এখন ব্ল্যাক বক্স উদ্ধার করে তার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত হওয়ার পরেই বোঝা যাবে আসল কারণ কি? পাখির সঙ্গে ধাক্কা এটা বিমান দুর্ঘটনার সর্বদায় প্রাথমিক কারণ হিসেবে ভেবে নেওয়া হয়।। তবে এক্ষেত্রে সে সম্ভাবনা কতটা ছিল সেটাও বিবেচনা করা হচ্ছে।

About Post Author