Home » হাওড়া-হুগলিতে বাঁধ ও বন্যা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে গিয়ে ক্ষোভের মুখে সেচসচিব

হাওড়া-হুগলিতে বাঁধ ও বন্যা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে গিয়ে ক্ষোভের মুখে সেচসচিব

সময় কলকাতা ডেস্ক:- মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে বর্ষার আগে বন্যা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে, হুগলির খানাকুল ও হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরে পরিদর্শনে এলেন সেচ সচিব মণীশ জৈন এবং অন্য আধিকারিকরা। সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি এবং তার মোকাবিলায় প্রশাসন কতটা প্রস্তুত, তা নিয়ে জেলা আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন সেচ সচিব।

ডিহিভুরশুট জিরো পয়েন্টের বাঁধ বাঁধার পরিদর্শন করলেন রাজ্যের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব (সেচ দপ্তর) মণীশ জৈন। এখানে দামোদরের বাঁধ কাজ সম্পর্কে অগ্রগতির বিষয়ে সরজমিনে পরিদর্শন করতে এলেন তিনি। সঙ্গে ছিলেন সেচ দপ্তরের চিফ ইঞ্জিনিয়ার দেবাশিস সেনগুপ্ত, হাওড়ার জেলাশাসক দীপাপপ্রিয়া পি। শুক্রবার সন্ধ্যায় তিনি হাওড়া জেলার সীমানা এলাকা দামোদর নদের পাশে ডিহিভুরশুট জিরো পয়েন্টে আসেন।

সেখানে উপস্থিত ছিলেন সেচ দপ্তরের নিম্ন দামোদর নির্মানভুক্তি বিভাগের এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার সুরজিৎ দাস, উদয়নারায়ণপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি কল্যাণ গায়েন,স হকারী লক্ষ্মীকান্ত দাস প্রমুখ। সেচ দপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব যেখানে বাঁধের সংস্কারের কাজ হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখেন। দপ্তরের আধিকারিকদের তিনি বলেন, ‘যুদ্ধকালীন ভিত্তিতে এই বাঁধ সংস্কারের কাজ করতে হবে।’

উল্লেখ্য, আরামবাগ মহকুমার উপর দিয়ে প্রবাহিত দামোদর ও দামোদরের শাখানদী মুণ্ডেশ্বরী দিয়ে ডিভিসির জল প্রবাহিত হচ্ছে। অন্য দিকে, বাঁকুড়ার দিক থেকে দ্বারকেশ্বর নদে ক্রমশই জলস্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। বন্যার আশঙ্কায় এলাকার মানুষজন। খানাকুলের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পরে এ দিনই হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরে বিকেলে পৌঁছন সেচ সচিব।

এদিকে নবান্নের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলতে না পেয়ে ক্ষোভ খানাকুলের গ্রামবাসীদের। যে প্রতিনিধি দলে ছিলেন খোদ রাজ্যের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব মণীশ জৈন। ছিলেন জেলাশাসক। গ্রামবাসীদের চিৎকারে তড়িঘড়ি এলাকা ছাড়েন তিনি। যদিও তিনি খানাকুলের অত্যন্ত প্রত্যন্ত এলাকাগুলির বাঁধ পরিদর্শন করেন ও কথা দিয়ে যান, ৩০ জুনের মধ্যে কাজ সম্পূর্ণ হয়ে যাবে। তবে গ্রামের মানুষজনের সঙ্গে কথা বলতে দেওয়া হয়নি প্রতিনিধিদের সঙ্গে। তিতিবিরক্ত গ্রামের মহিলা-সহ গ্রামবাসীরা। কেন এত দিনেও বাঁধের কাজ হয়নি, সেই কৈফিয়ত কেন তিনি নিলেন না, কেন কড়া পদক্ষেপ করলেন না। এখন ফের বর্ষা এসে গেল। এক বছর অতিক্রান্ত। অথচ বাঁধের কাজ হয়নি। তবে মুখ্য সচিব কথা দিয়ে যান, অতি দ্রুত বাঁধের কাজ খুব ভালো করে হবে।

উল্লেখ্য, শুক্রবার আরামবাগের প্রাক বন্যা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ও নদীবাঁধগুলির অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে আরামবাগে এসেছিলেন রাজ্য সরকারের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব মণীশ জৈন। সঙ্গে ছিলেন হুগলির জেলাশাসক মুক্তা আর্য, আরামবাগের মহকুমাশাসক রবিকুমার, সাংসদ মিতালি বাগ প্রমুখ। এ দিন খানাকুলে বন্যাপ্রবণ হিসেবে পরিচিত মাড়োখানা এলাকার নদীবাঁধগুলি পরিদর্শন করেন তাঁরা।

বন্যা নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠক করতে আরামবাগ মহকুমা শাসকের অফিসে এক ঝটিকা সফরে এসেছিলেন রাজ্যের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব তথা সেচ দপ্তরের সচিব মণীশ জৈন।

About Post Author