সময় কলকাতা ডেস্ক:- কেন্দ্রের মুখাপেক্ষী না-থেকে রাজ্য সরকার নিজের টাকায় ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের কাজ শুরু করেছে। পুরোনো কেন্দ্রীয় রিপোর্ট অনুযায়ী, ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের জন্য প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমি অস্থায়ী ভাবে অধিগ্রহণ করতে হতো।
কিন্তু রাজ্য সরকার ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়িত করার জন্য জোর করে জমি অধিগ্রহণ করতে চাইছে না। সেচমন্ত্রী মানস ভুঁইয়ার দাবি, প্রকল্পের জন্য স্থায়ী জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার মানবিক দৃষ্টি নিয়ে এগোতে চাইছে। মানুষকে বুঝিয়ে যেখানে যতটুকু জায়গা পাওয়া যাবে তার উপরেই হবে মাস্টার প্ল্যানের কাজ। কেন্দ্রীয় রিপোর্ট নয়, রাজ্য সরকার নিজের মতো করে রিপোর্ট তৈরি করে মাস্টার প্ল্যান নিয়ে এগোচ্ছে।
সিঙ্গুর, নন্দীগ্রামের জমি আন্দোলনকে হাতিয়ার করে ২০১১ সালে রাজ্যে ক্ষমতায় আসে তৃণমূল। ক্ষমতায় আসার পরে রাজ্য সরকার নিজস্ব জমি-নীতি তৈরি করে। সেই নীতি অনুযায়ী রাজ্য সরকার কোনও প্রকল্পের জন্য জোর করে জমি অধিগ্রহণ করে না।
২০২৪ সালে লোকসভা ভোটের আগে রাজ্য সরকার নিজেদের টাকায় ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়িত করার কথা ঘোষণা করে। আগেই প্রকল্পের জন্য ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দও করেছে রাজ্য। আরও ১৫৫০ কোটি টাকা মঞ্জুর করা হচ্ছে।
সরকারের তরফে আগেই ঘোষণা করা হয়েছে, ওয়েস্ট বেঙ্গল মিনারেল ডিস্ট্রিবিউশন অ্যান্ড ট্রেডিং কর্পোরেশনকে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের কাজ করবে। ‘নো কস্ট’ পদ্ধতিতে বিভিন্ন এজেন্সিকে দিয়ে মাস্টার প্ল্যানের আওতায় থাকা খাল ও নদী সংস্কার করবে তারা।
অর্থাৎ, খাল ও নদী সংস্কারের জন্য রাজ্যকে টাকা খরচ করতে হবে না। উল্টে মাটি ও বালি বিক্রি করে কিছু রাজস্বও আসবে। ফলে মাটি ও বালি দীর্ঘদিন মজুত করে রাখতে হবে না। যে সংস্থা নদী ও খাল সংস্কারের মাটি কাটবে তারা নিজের দায়িত্বে মাটি বিক্রি করবে।
ফলে অস্থায়ী জমি অধিগ্রহণের বিষয়টি আর রাজ্যের দায়িত্বের মধ্যেই থাকছে না। পুরোনো কেন্দ্রীয় রিপোর্টে প্রকল্পের জন্য মোট ৩ হাজার ৫০০ হেক্টর জমি স্থায়ী ভাবে অধিগ্রহণের কথা বলা থাকলেও রাজ্য সরকার আপাতত ওই রিপোর্টকে গুরুত্ব দিতে নারাজ।
বর্তমান পরস্থিতি অনুযায়ী রাজ্য সরকার তাদের মতো করে রিপোর্ট তৈরি করে প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইছে। জোর করে নয়, মানুষকে বুঝিয়ে সরকার প্রকল্পের জন্য জমি নিতে চায়।
প্রকল্পের আওতায় ঘাটাল শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণের বিষয়টিও রয়েছে। এই কাজের জন্য সম্প্রতি রাজ্য পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর এবং সেচ দপ্তরের ইঞ্জিনিয়াররা যৌথ ভাবে এলাকা পরিদর্শন করেন।
ঘাটাল শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে যতটুকু জমি দরকার ঠিক ততটুকুই জমি তারা নেবে। বাড়তি জমি নেওয়া হবে না। সেচমন্ত্রী মানস ভুঁইয়ার কথায়, ‘আমারা আমাদের মতো করে রিপোর্ট তৈরি করে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে এগোচ্ছি। যেখানে যতটুকু জমি দরকার স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে সেই পরিমাণ জমিই নেওয়া হবে।
যে সংস্থা খাল ও নদী সংস্কার করবে বালি ও মাটি বিক্রির দায়িত্ব তাদের।
আমরা মুখ্যমন্ত্রীর স্বপ্নের প্রকল্প ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়িত করবই। এর জন্য আমরা কেন্দ্রের মুখাপেক্ষী নই।’ ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান রূপায়ণ সংগ্রাম কমিটির যুগ্ম সম্পাদক নারায়ণচন্দ্র নায়ক বলেন, ‘আমরা চাই, দ্রুত এই কাজ শেষ করুক রাজ্য সরকার।’
উল্লেখ্য, ২০১১ সালে কেন্দ্রীয় সংস্থা ‘ওয়াটার অ্যান্ড পাওয়ার কনসালটেন্সি সার্ভিসেস’ ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে। সেই রিপোর্টে দেখা যায়, মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়িত করতে গেলে শিলাবতী, ওল্ড কাঁসাই, পলশপাই, দূর্বাচাটি, কংসাবতী এবং নিউ কাঁসাই অববাহিকায় মোট ৩ হাজার ৫০০ হেক্টর জমি স্থায়ী ভাবে অধিগ্রহণ করতে হত।
আর অস্থায়ী ভাবে অধিগ্রহণ করতে হত ৯ হাজার ৯৭৫ হেক্টর জমি। সেতু নির্মাণ এবং নদী চওড়া করতে দরকার স্থায়ী অধিগ্রহণ। আর অস্থায়ী জমি দরকার ছিল নদী সংস্কারের বালি, মাটি, কাজের জন্য ব্যবহৃত মেশিনপত্র, সামগ্রী ইত্যাদি রাখা এবং শ্রমিকদের তাঁবু তৈরির জন্য। এখন দেখার এই সব এড়িয়ে রাজ্য সরকার কবে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়িত করে।


More Stories
সরকার গঠন : রাজ্যপালের কাছে জমা পড়ল গেজেট নোটিফিকেশন
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
আরেক অভিনেতা প্রণবের অকালপ্রয়াণ