Home » চুরুলিয়া ভিটেতেই থাকবে বিদ্রোহী কবির ব্যবহৃত স্মৃতিচিহ্ন, রুখে দাঁড়িয়েছে গ্রামবাসী

চুরুলিয়া ভিটেতেই থাকবে বিদ্রোহী কবির ব্যবহৃত স্মৃতিচিহ্ন, রুখে দাঁড়িয়েছে গ্রামবাসী

সময় কলকাতা ডেস্ক:- বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মস্থান চুরুলিয়াতেই তাঁর ভিটে। সেই ভিটেতেই সযত্নে রয়েছে তাঁর ব্যবহার করা নানা ধরনের স্মৃতিচিহ্ন। যেমন রয়েছে কবির ব্যবহার করা পাণ্ডুলিপি, পোশাক, নানা সময়ে পাওয়া পদক। পুরোনো মাটির ভিটে ভেঙে পড়ার পরে সেখানে পঞ্চাশের দশকে তৈরি হয়েছিল নতুন একটি ভবন। সেখানেই যত্নে রয়েছে সেই সব জিনিসগুলি। তৈরি করা হয়েছে একটি সংগ্রহশালা। যা সাধারণ মানুষ দেখার সুযোগ পান। এর সঙ্গে রয়েছে চুরুলিয়ার সাধারণ মানুষের আবেগ।

কিন্তু সম্প্রতি গোল বেঁধেছে সেই স্মৃতিচিহ্নগুলি কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তুলে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাবে। সেই খবর পাওয়ার পরেই রাতারাতি বিদ্রোহী হয়ে উঠেছে চুরুলিয়া গ্রামের বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, কোনও অবস্থায় সেই সমস্ত জিনিস গ্রামের বাইরে নিয়ে যেতে দেওয়া হবে না।

প্রয়োজনে তার জন্য দীর্ঘমেয়াদী আন্দোলনে যেতকেও পিছপা নন স্থানীয়রা। নজরুলের ভ্রাতুষ্পুত্র রেজাউল করিমের মেয়ে এবং নজরুল অ্যাকাডেমির সঙ্গে যুক্ত থাকা সঙ্গীতশিল্পী সোনালি কাজীর বক্তব্য, ‘আমরা কোনও অবস্থায় এই সমস্ত জিনিসপত্র সরাতে দেব না।

রাজ্য সরকার ইতিমধ্যে এই জায়গাকে হেরিটেজ ঘোষণা করেছে। কবির পুরোনো বাড়ি যেমন ছিল, সে ভাবেই আবার তৈরি করা হবে বলে উদ্যোগ নিয়েছে। তা হলে কেন নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় তা তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে? সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত মানতে পারছি না। আমাদের বিশ্বাস, কবির ব্যবহৃত স্মৃতিচিহ্নগুলি একবার স্থানান্তরিত হলে তা আর এখানে ফিরবে না।’

সোনালি আরও জানাচ্ছেন, এই সংগ্রহশালায় রয়েছে কবির ব্যবহৃত পোশাক,পাণ্ডুলিপি, গ্রামাফোন, নানা ধরনের বাদ্যযন্ত্র, বুলবুলের স্মৃতিচিহ্ন। সাধারণ মানুষ সারা বছর ধরে সেই জিনিসগুলি দেখেন। সারা দেশ থেকে মানুষও এখানে আসেন তা দেখতে।

এখন রাতারাতি সংস্কারের নামে সেই স্মৃতিচিহ্নগুলি সরিয়ে নেওয়ার ভাবনা মোটেও কাঙ্ক্ষিত নয়। চুরুলিয়ার প্রাক্তন পঞ্চায়েত প্রধান এবং স্থানীয় বাসিন্দা জহর বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, ‘চুরুলিয়াকে নিয়ে আমরা গর্বিত। আমরা এখানকার বাসিন্দা। কোনও জিনিস সরাতে দেব না।’ এ বিষয়ে সোমবার একটি প্রতিবাদসভারও আয়োজন করা হয় এলাকায়।

About Post Author