সময় কলকাতা ডেস্ক:- বিহারের পাটনার এক গ্রামাঞ্চলে সম্প্রতি এমন এক অদ্ভুত ঘটনা ঘটেছে, যা নিয়ে প্রশাসনের অন্দরমহলেই তীব্র অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। একটি কুকুরের নামে সরকারি বাসিন্দা শংসাপত্র জারি হয়ে যাওয়ায় ব্যাপক শোরগোল তৈরি হয়েছে।
শুধু তাই নয়, শংসাপত্রে ওই কুকুরের অভিভাবক হিসেবে রয়েছে, ‘কুত্তা বাবু’ ও ‘কুত্তিয়া দেবী’। ভোটমুখী বিহারে স্থায়ী বসবাসকারীর শংসাপত্র পেলেন ‘ডগ বাবু’।

ঘটনাটি পাটনা জেলার মাসৌরিহি সার্কেলের অধীনস্থ এক পঞ্চায়েতের। বর্তমানে বিহারে ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ কর্মসূচি চলছে। এই সময়েই বহু মানুষ বাসিন্দার শংসাপত্র পাওয়ার জন্য হুড়োহুড়ি শুরু করেন। সেই প্রক্রিয়ার মধ্যেই এই বিতর্কিত শংসাপত্র ইস্যু হয়।
‘বিহার রাইট টু পাবলিক সার্ভিস অ্যাক্ট’-এর আওতায় রাজ্যের বাসিন্দারা অনলাইনে বাসিন্দা শংসাপত্রের জন্য আবেদন করতে পারেন। নির্দিষ্ট নথিপত্র যাচাইয়ের পর সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা শংসাপত্র জারি করেন। কিন্তু এই ঘটনায় গোটা ব্যবস্থার ওপরই প্রশ্ন উঠেছে।
‘ডগ বাবু’ নামে ইস্যু হওয়া শংসাপত্রের ছবি ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। নেটিজেনদের একাংশ নির্বাচন কমিশন ও সরকারি ব্যবস্থার গাফিলতির তীব্র সমালোচনা করেছেন।
প্রশ্ন উঠছে, আধার ও রেশন কার্ডকে বৈধ পরিচয়পত্র হিসেবে আদালত যেখানে গুরুত্ব দিচ্ছে, সেখানে এমন ফাঁকফোকর দিয়ে কুকুরের নামেও কাগজপত্র জারি হয়ে যাচ্ছে কীভাবে?
বিষয়টি নজরে আসতেই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার ছিনিয়ে নিয়ে কুকুরের নামে ফেক ভোটার আইডি কার্ড করেছে যাতে ভোট লুট করে বিজেপিকে বাড়তি সুবিধা দেওয়া যায়। এই ঘটনা দিনের আলোর মতো পরিষ্কার।

নির্বাচন কমিশনকে তীব্র কটাক্ষ করেছে কংগ্রেস, তৃণমূল-সহ বিরোধীরা। অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন বিজেপির হয়ে কাজ করছে।
তবে শুধু সারমেয়-তেই থেমে নেই এই বিতর্ক। ঘটে যায় আরেক কাণ্ড! ‘ডগ বাবু’র পর এবার ‘ডগেশ বাবু’। পাটনায় স্থায়ী বাসিন্দার শংসাপত্রে বাড়ির পোষ্য কুকুরের নাম বিতর্কের আগুন ধামাচাপা পড়ার আগেই বিহারের নওয়াদা জেলায় ফের একই ঘটনা ঘটল। এবার ডগেশ বাবু নামে একটি নতুন আবেদন জমা পড়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখানেও একটি কুকুরের ছবি দিয়ে আবেদন করা হয়েছে।
এদিকে, একটি ট্র্যাক্টরের নামেও রেসিডেন্সিয়াল সার্টিফিকেট ইস্যু করেছে বিহার সরকার!
কখনও কুকুর, কখনও ট্র্যাক্টর! একের পর এক নজিরবিহীন ঘটনা বিহারে। আর এইসব নথি ব্যবহার করেই নাকি নির্বাচন কমিশনের বিশেষ পুনর্বিবেচনা প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির দাবি মানা হচ্ছে — এমনটাই অভিযোগ তৃণমূল কংগ্রেসের। মঙ্গলবার তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে এক টুইট করে বলা হয়েছে, আগে কুকুর, এবার ট্র্যাক্টর। দু’জনকেই বিহার সরকার বাসিন্দার শংসাপত্র দিয়েছে। এই সার্টিফিকেটগুলোকেই প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করছে নির্বাচন কমিশনের ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ কর্মসূচি।
যেখানে ইতিমধ্যেই লাখো গরিব ও প্রান্তিক মানুষের নাম নির্বিচারে ভোটার তালিকা থেকে মুছে দেওয়া হয়েছে। তৃণমূলের আরও অভিযোগ, বিষয়টি শুরুতে আমলাতান্ত্রিক হাস্যরসের মতো লাগলেও এখন তা গণতন্ত্রের উপর আঘাতে পরিণত হয়েছে। প্রকৃত নাগরিকরা ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
তৃণমূলের এই টুইট সামনে আসতেই নেটমাধ্যমে শুরু হয়েছে প্রবল আলোচনা। অনেকেই কটাক্ষ করে বলছেন, এবার হয়তো গরুর নামেও ভোটার কার্ড বেরোবে! এদিকে, এসব নজরে আসতেই কড়া ব্যবস্থা নিয়েছে পাটনা জেলা প্রশাসন। ২৪ জুলাই কুকুরের নামে যে শংসাপত্রটি ইস্যু করা হয়েছিল, তা বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, সরকারি তিন আধিকারিকের বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। তাঁদের সাসপেন্ডও করা হয়েছে। পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখেন মাসৌরিহি মহকুমার শাসক।
তাঁর রিপোর্টে উঠে আসে, তথ্য যাচাই না করেই শংসাপত্র অনুমোদনের সুপারিশ করেন এক সরকারি কর্মী। সেই কম্পিউটার অপারেটরকে ইতিমধ্যেই বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে এই ঘটনা ভারতের ভোটার যাচাই ব্যবস্থাকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিচ্ছে। আর এই সুযোগে বিরোধীরা নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে।


More Stories
অভিষেকের জন্য জেলে গিয়েছিলাম : অনুব্রত
আর পারলেন না, মমতার হয়ে মদনের লড়াই শেষ
কালীঘাটের তৃণমূলকে স্বস্তি দিল শহীদ দিবস পালনের অনুমতি