Home » রাশিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্প, রিখটার স্কেলে মাত্রা ৮.৭, জাপান-ক্যালিফোর্নিয়ায় সুনামি সতর্কতা

রাশিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্প, রিখটার স্কেলে মাত্রা ৮.৭, জাপান-ক্যালিফোর্নিয়ায় সুনামি সতর্কতা

সময় কলকাতা ডেস্ক:- বড়সড় ভূমিকম্প রাশিয়ায়। ৮.৮ মাত্রার বিরাট এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল রাশিয়ার পূর্ব ক্ষেত্র কামচাতকা পেনিনসুলা। ভূমিকম্পের তীব্রতা এতটাই ছিল যে আমেরিকা, জাপান-সহ একাধিক দেশে কম্পন অনুভূত হয়। ঘটনার পর রাশিয়ার উপকূলবর্তী অঞ্চলে সুনামির বিরাট ঢেউ দেখা গিয়েছে। যার উচ্চতা প্রায় ১৩ ফুট। ঘটনার পর জারি করা হয়েছে সুনামি সতর্কতা। উপকূলবর্তী অঞ্চল থেকে মানুষকে সরানোর কাজ শুরু হয়েছে।

জাপানের আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল ৮ টা ২৫ মিনিটে ভূমিকম্প হয়। প্রথমে এর মাত্রা ৮.০ বলে মনে করা হলেও, মার্কিন ভূতাত্ত্বিক সংস্থা ইউএসজিএস পরে জানায়, কম্পনের আসল মাত্রা ছিল ৮.৭। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল হোক্কাইডো দ্বীপ থেকে প্রায় ২৫০ কিলোমিটার দূরে সমুদ্রের গভীরে।

এমন শক্তিশালী কম্পনের ফলে সমুদ্রে বড় ঢেউ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকায়, জাপানের পুরো প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে জারি করা হয়েছে সুনামি সতর্কতা। তিন মিটার পর্যন্ত উঁচু ঢেউ আছড়ে পড়তে পারে বলে জানানো হয়েছে।

সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, ভূমিকম্পের আধঘণ্টার মধ্যেই জাপানের উত্তর উপকূলে ঢেউ পৌঁছে যেতে পারে। এই সুনামির প্রভাব শুধু জাপানেই নয়, পৌঁছাতে পারে হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জেও। আমেরিকার প্যাসিফিক সুনামি ওয়ার্নিং সেন্টার জানিয়েছে, হাওয়াইয়ের সব দ্বীপেই সুনামি হতে পারে এবং তার ফলে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। সেখানকার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭ টার মধ্যে ঢেউ আছড়ে পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। রাশিয়ার পেট্রোপাভলোভস্ক-কমচাটস্কি শহরে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

কারণ এটি ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের সবচেয়ে কাছে অবস্থিত। বহু মানুষ খালি পায়ে তাড়াহুড়ো করে রাস্তায় নেমে আসেন। অনেক বাড়িতে আলমারি উলটে পড়ে, আয়না ভেঙে যায়, ঘর-বারান্দা কেঁপে ওঠে। শহরে বিদ্যুৎ চলে যায় এবং মোবাইল পরিষেবাও বন্ধ হয়ে যায় বলে জানিয়েছে রাশিয়ার সংবাদ সংস্থা তাস। এছাড়াও, আলাস্কার আলেউশিয়ান দ্বীপপুঞ্জের জন্য সরাসরি সুনামি সতর্কতা জারি করেছে আমেরিকার ন্যাশনাল সুনামি ওয়ার্নিং সেন্টার। ক্যালিফোর্নিয়া, ওরেগন, ওয়াশিংটন ও হাওয়াইয়ের পশ্চিম উপকূলেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

জাপান সরকার ইতিমধ্যেই জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় একটি বিশেষ টিম গঠন করেছে। পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে প্রশাসন। জাপান এমনিতেই বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ।

এটি প্রশান্ত মহাসাগরের ‘রিং অফ ফায়ার’ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত, যেখানে প্রায়ই ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণ ঘটে। চলতি মাসের শুরুতেও এই কমচাটকা উপকূলে পাঁচটি বড় ভূমিকম্প হয়েছিল, যার মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালীটির মাত্রা ছিল ৭.৪।

About Post Author