সময় কলকাতা ডেস্ক:- ভোটার তালিকায় অবৈধ ভাবে নাম তোলা-সহ একাধিক অনিয়মের অভিযোগে রাজ্যের চার সরকারি আধিকারিককে বৃহস্পতিবারই সাসপেন্ড করেছে নবান্ন। তবে কমিশন যে এফআইআর করার নির্দেশ দিয়েছিল, তা কার্যকর করেনি।
নবান্ন জানিয়েছে, এফআইআর নয়, হবে বিচারবিভাগীয় তদন্ত। যা থেকে অনেকের ধারণা হয়েছিল, নবান্ন হয়তো এখনও কমিশনের কথা পুরোপুরি মানতে নারাজ! কিন্তু তারপরেই জানা গেল, নবান্ন এক প্রকার নিঃশব্দে দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের দফতরে একটা রিপোর্টও পাঠিয়েছে। সেই রিপোর্টের সুর খানিকটা ভিন্ন।
সূত্রের খবর, কমিশনকে পাঠানো রিপোর্টে বলা হয়েছে, আপাতত চারজন অফিসারকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত করা হবে। এফআইআর যদি করতেই হয় তার জন্য আরেকটু সময় দেওয়া হোক। চার অফিসারকে সাসপেন্ড করলেও তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের না হওয়ায় বৃহস্পতিবার সন্ধে থেকেই প্রশ্ন উঠেছে যে কমিশন কি এতে সন্তুষ্ট হবে? নাকি ষোলো আনা নির্দেশ পালনে এর পরেও মুখ্য সচিব মনোজ পন্থের উপর চাপ বাড়াবেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের দফতর?
এসবের মাঝেই জানা গেল রিপোর্টের কথা। কলকাতায় মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, দিল্লিতে নির্বাচন সদনে কমিশনের ফুল বেঞ্চ বসে সপ্তাহে দু’দিন।
সেই সম্পূর্ণ বেঞ্চের সামনে নবান্নের এই রিপোর্ট পেশ হবে। তাই আগামী সপ্তাহের দিকেই তাকিয়ে থাকবে নবান্ন।
ওই সম্পূন বেঞ্চই সিদ্ধান্ত নেবে নবান্নের রিপোর্টে তারা সন্তুষ্ট কিনা। যদি না হয়, তাহলে ফের একবার মুখ্যসচিবকে চিঠি পাঠাতে পারে কমিশন। ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগে গত ৫ আগস্ট চার অফিসারকে সাসপেন্ড করার সুপারিশ করেছিল নির্বাচন কমিশন।
সেই সাথে জানিয়ে দিয়েছিল, তাঁদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলাও দায়ের করতে হবে। পরদিনই ঝাড়গ্রামের সভায় দাঁড়িয়ে কমিশনের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, ভোট তো এখনও আট মাস বাকি। এখন থেকেই অফিসারদের ভয় দেখাচ্ছ? ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আধিকারিকদের প্রটেক্ট করার দায়িত্ব রাজ্য সরকারের।
এর পরই শুরু হয়ে যায় টানাপোড়েন। নবান্ন কমিশনের সুপারিশ না মানায় রাজ্যের সচিবালয়কে ফের চিঠি দেয় নির্বাচন কমিশন।
নবান্ন তখনও কমিশনের সুপারিশ মানতে চাইনি। কাউকে সাসপেন্ড না করে স্রেফ এক সহকারী ইআরও এবং একজন ডেটা এন্ট্রি অপারেটরকে ভোটের কাজ থেকে সরিয়ে দেয়। কমিশনের সুপারিশকে এভাবে বুড়ো আঙুল দেখানো যে নির্বাচন সদন সহজভাবে নেবে না, সেই দেওয়াল লিখন স্পষ্টই ছিল। হয়ও তাই। নবান্ন সুপারিশ না মানায় গত ১৩ আগস্ট দিল্লিতে রাজ্যের মুখ্য সচিব মনোজ পন্থকে ডেকে পাঠান কমিশনের কর্তারা।
মনোজকে তাঁরা স্পষ্ট করে দেন, ৭ দিনের মধ্যেই কমিশনের সুপারিশ মানতে হবে। এর পর দেখা যায়, গত বুধবার অর্থাৎ ২০ অগস্ট নবান্ন নির্দেশ জারি করে পশ্চিমবঙ্গ সার্ভিসেস রুলস, ১৯৭১-এর ৭(১)(বি)(এ) ধারায় চার অফিসারকে সাসপেন্ড করেছে।
সেই সাথে জানিয়েছে, এঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করার প্রস্তুতিও চলছে। সরকারি নির্দেশে আরও বলা হয়েছে, সাসপেনশনের মেয়াদে এই অফিসাররা নিয়ম মেনে ভাতা পাবেন।
তবে তাঁদের কন্ট্রোলিং অথরিটির কাছে রিপোর্ট করতে হবে এবং অনুমতি ছাড়া সদর দফতর ছেড়ে যেতে পারবেন না।
তবে এতেই স্পষ্ট যে চার জন অফিসারের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা এখনও দায়ের করেনি রাজ্য সরকার। অর্থাৎ কমিশনের নির্দেশ অর্ধেক মেনেছে অর্ধেক মানেনি। বরং নির্বাচন কমিশনে রিপোর্ট পাঠিয়ে বিচারবিভাগীয় তদন্তের কথা উল্লেখ করে তার জন্য সময় চেয়ে নিয়েছে নবান্ন। এদিকে চার অফিসারকে নবান্ন সাসপেন্ড করার পর বিজেপি তৃণমূল সরকারকে খোঁচা দিতে ছাড়েনি। পাল্টা দিয়েছে শাসক শিবিরও।
রাজনৈতিক তর্জার মাঝেই একটি তাত্পর্যপূর্ণ বিষয় হল, নয়া দিল্লিতে মুখ্য সচিব মনোজ পন্থের সঙ্গে বৈঠকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার তাঁদের এক্তিয়ারের কথা মনে করিয়ে দিয়েছিলেন।
জ্ঞানেশ কুমার মনোজ পন্থকে এও স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন, কমিশন সুপারিশ করলে রাজ্য সরকার তা মানতে বাধ্য। মনোজ তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন যে, এতে রাজ্য সরকারি অফিসারদের মনোবলে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। কিন্তু তাতেও বরফ গলেনি।
এদিকে সূত্র বলছে, কমিশনের নজরে শুধু এই চার আধিকারিকই নন, রয়েছে আরও ২৫ জন অফিসার। ফলে এই পরিস্থিতিতে দিল্লি থেকে ফের চিঠি দেওয়া হতে পারে মুখ্য সচিবকে।


More Stories
অহংকার মমতার পতনের কারণ বললেন জগন্নাথ দয়িতাপতি
অভিষেকের জন্য জেলে গিয়েছিলাম : অনুব্রত
আর পারলেন না, মমতার হয়ে মদনের লড়াই শেষ