Home » আইন ভাঙা ‘খলনায়ক’দের কীর্তি

আইন ভাঙা ‘খলনায়ক’দের কীর্তি

পুরন্দর চক্রবর্তী, সময় কলকাতা : বাস্তবে চলচ্চিত্রের অনেক নায়ক সত্যিকরেই খলনায়ক হয়ে ওঠেন।প্রয়াত বাংলা অভিনেতা তাপস পাল দীর্ঘ কারাবাস করেছিলেন।বলা হয়, হয়তো তিনি কারাবাসের মানসিক চাপ সইতে পারেন নি। বাংলা সিনেমার নায়ক নায়িকারা জেল খেটেছেন এরকম নজির খুব কম আছে ।তবে বলিউডের ক্ষেত্রে বিষয়টি এমন নয়। হামেশাই জেলে গেছেন অভিনেতারা। সালমন খানের মত খ্যাতনামা অভিনেতার ক্ষেত্রে তো আইন ভাঙা,অভিযুক্ত হওয়া,জেল খাটা মামুলি ব্যাপার। অভিযুক্ত অভিনেতা অভিনেত্রীরা কারাবাস করেন, জেল থেকে বেরিয়ে দিব্যি আবার সিনেমায় অভিনয় করতে লেগে পড়েন।এরকম কিছু অভিনেতা, অভিনেত্রীর কথা আলোচনা করা যাক।

নায়ক ফরদিন খান ড্রাগ রাখার দায়ে ২০০১ সালে গ্রেপ্তার হন।২০০১ সালের মে মাসে কোকেন কেনার প্রচেষ্টার ও রাখার জন্য গ্রেপ্তার হন। ৫ দিন কারাবাস করে জামিন পান। সুশান্ত সিংহ রাজপুতের মৃত্যুর পরে রিয়া চক্রবর্তীর গ্রেপ্তার হওয়া প্রমাণ করেছিল একটি বহুচর্চিত বিষয় : মুম্বাই ফিল্ম জগতের সঙ্গে ড্রাগের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ।

ভুলভুলাইয়ার অভিনেতা সাইনি আহুজার বিরুদ্ধে অভিযোগ ভিন্নপ্রকৃতির। পরিচারিকা ধর্ষণে তিনি দোষী সাব্যস্ত হন। তাঁকে ৭ বছর কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়।২০০৯ সালের জুন মাসে তাঁর বিরুদ্ধে তাঁর গৃহের ১৯ বছর বয়সী পরিচারিকা ধর্ষণের অভিযোগ তো আনেন-ই, একইসাথে বিষয়টি প্রকাশ না করার জন্য খুনের হুমকি দেন পরিচারিকাকে। ভারতীয় দন্ডবিধির ৩৭৬ ও ৫০৬ নম্বর ধারায় সাইনি আহুজাকে দোষী ঘোষণা করে সাজা দেয় আদালত।

অত্যন্ত জনপ্রিয় অভিনেতা সালমান খান আইন কে বুড়ো আঙ্গুল দেখাতে ভালোবাসেন, এমনটাই বারবার প্রমাণিত। সালমান খানকে আদালতের নির্দেশে তিনবার জেলে যেতে হয়েছিল।১৯৯৮ সালে, কৃষ্ণসার হরিণ হত্যায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় সালমানের ৫ বছরের জেল হয়।শুধু কৃষ্ণসার হত্যা নয় হরেকরকম অভিযোগে অক্টোবর ১৯৯৮,এপ্রিল ২০০৬,আগস্ট ২০০৭ সালে তিন দফায় মোট ১৮ দিনের কারাবাস করতে হয় তাঁকে।হরিণ, কৃষ্ণ সার হরিণ হত্যা ছাড়াও ২০০২ সালের হিট অ্যান্ড রান কেস এবং অস্ত্র আইনে অভিযুক্ত ছিলেন অভিনেতা। ২০০২ সালে বান্দ্রা হিল রোডে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে তিনি পাঁচজনকে চাপা দেন যার মধ্যে নুরুল্লা মেহবুব শরীফ নামের একজনকে গুরুতর ভাবে পিষে দেন এবং তার মৃত্যু হয়।প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন অভিনেতার ল্যান্ডক্রুশার যখন দুর্ঘটনা ঘটায় তখন অভিনেতাকে চালকের আসনে তাঁরা দেখতে পেয়েছিলেন। প্রাথমিকভাবে জনপ্রিয় অভিনেতার ৫ বছরের জেল হয়।পরে শুনানিতে সালমান খান তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং বলির পাঁঠা’ হন গাড়ির ড্রাইভার অশোক সিংহ। সালমান আদালতে বলেন অশোক গাড়ি চালাচ্ছিল এবং অশোক সিংহ একই কথার পুনরাবৃত্তি করে । ফলে আদালতে সালমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ হয় নি। যথেষ্ট প্রমাণাভাবে মুক্তি পেয়ে যান সালমান খান।

আদিত্য পঞ্চলী তনয় সুরজ পঞ্চলীকে জিয়া খানকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে ২১ দিনের কারাবাস করতে হয়।অতঃপর তিনি জামিন পেয়ে যান। ২০১৩ সালে জিয়া সালের দেহ জিয়ার ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয়। অনুমান করা হয় তিনি আত্মহত্যা করেছিলেন এবং এক্ষেত্রে সুরজের ভূমিকা ছিল।

এছাড়া রাজপাল যাদব, সোনালী বেন্দ্রে, শিল্পা শেঠি, জন আব্রাহাম সহ বহু অভিনেতা বিভিন্ন ধরণের অভিযোগে অভিযুক্ত অথবা দোষী সাব্যস্ত হলেও খুব সামান্য সাজা পেয়েছেন।

অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নায়ক-অভিনেতারা প্রমাণ ও সাক্ষ্যর অভাবে এবং প্রভাব খাটিয়ে মুক্তি পেলেও সঞ্জয় দত্ত সহজে মুক্তি পান নি। ১৯৯৩ সালে মুম্বাই বিস্ফোরণের সঙ্গে তাঁর নাম জড়ায়। অভিযুক্ত অভিনেতার কাছে কাছে একটি ৯ এম এম পিস্তল ও এ কে ৪৭ মেলে যা ছিল মুম্বাই বিস্ফোরণ কাণ্ডের অঙ্গ ।মনে রাখা দরকার মুম্বাই শহরে ধারাবাহিক বিস্ফোরণে ২৫৭ জন মারা যান ও ৭০০ জনের বেশি মানুষ গুরুতর আহত হন । টাডা কোর্টে অস্ত্র আইনে ধৃত সঞ্জয় দত্তর মুম্বাই বিস্ফোরণ মামলায় দীর্ঘদিন শুনানি চলে ।বিদেশ থেকে ভারতে অস্ত্র ও বিস্ফোরক আনার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল।২০১১ সালে তিনি দোষী সাব্যস্ত হন।তাঁকে ৬ বছর জেলের সাজা দেওয়া হয়। ২০১৩ সালে তাঁর সাজা কমিয়ে পাঁচ বছর করা হয়। দু দফায় তাঁকে পাঁচ বছর জেল খাটতে হয়।।

About Post Author