সময় কলকাতা পলিটিক্যাল ডেস্ক:কথায় বলে লড়াই জমে গেছে, পাড়ার রক অথবা চায়ের দোকানের আড্ডার ভাষায় বলা যেতে পারে লড়াই জমে ক্ষীর। শাসকদলের ১৯ জন নেতা মন্ত্রীর বিরুদ্ধে আয়ের সঙ্গে সংগতিবিহীন সম্পত্তি অর্থাৎ সম্পত্তি বৃদ্ধি নিয়ে আদালতে জনস্বার্থ মামলা হয়েছিল। যে মামলায় ইডিকে সংযুক্ত করা নির্দেশ দিয়েছিলেন মহামান্য আদালত।এবার আরেকটি জনস্বার্থ মামলা হল আদালতে।
জনস্বার্থ মামলায় কি রয়েছে?
এবার বিরোধী দলের ১৭ জন সাংসদ এবং বিধায়কদের বিরুদ্ধে সম্পত্তি বৃদ্ধি নিয়ে জনস্বার্থ মামলা করলেন আইনজীবী অভিজিৎ সরকার। মামলাটি দায়ের করা হয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি প্রকাশ শ্রীবাস্তব এবং বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের ডিভিশন বেঞ্চে।
এতদিন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল শাসকদলের নেতা মন্ত্রীদের সম্পত্তি বৃদ্ধি । এবার আলোচনায় উঠে এলো বিরোধীদলের সাংসদ- বিধায়কদের সম্পত্তি বৃদ্ধি। অর্থাৎ সম্পত্তি বৃদ্ধি নিয়ে শাসক এবং বিরোধীদের “টাগ অফ ওয়ার “শুরু।
কতটা সম্পত্তি বৃদ্ধি হয়েছে
অভিজিৎ সরকারের করা জনস্বার্থ মামলায় বলা হয়েছে এই ১৭ জন সাংসদ, বিধায়কের সম্পত্তি বিগত কয়েক বছরে বিপুল পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং কিভাবে পেয়েছে তা আদালত খতিয়ে দেখুক। আবেদনে বিরোধী দলের সাংসদ এবং বিধায়কদের যে নামের তালিকা দেওয়া হয়েছে, তার প্রথমেই রয়েছে শিশির অধিকারীর নাম। আবেদনে লেখা হয়েছে বিগত ১৩ বছরে শিশির অধিকারীর স্থায়ী সম্পত্তি প্রায় ৩৫০০ শতাংশ বৃদ্ধি ঘটেছে। আর অস্থায়ী সম্পত্তি বেড়েছে ৬০০০ শতাংশের বেশি। আবেদনে উল্লেখ করা রয়েছে শিশির অধিকারীর স্ত্রীর সম্পত্তিও ব্যাপক হারে বৃদ্ধি ঘটেছে। পাশাপাশি শুভেন্দু অধিকারীর সম্পত্তির বৃদ্ধি ঘটেছে ব্যাপক হারে। বিগত ১৫ বছরে শুভেন্দু অধিকারীর সম্পত্তি বৃদ্ধি ঘটেছে ১২৮ শতাংশ।

অধিকারী পরিবারের তিনজনের নামই রয়েছে এই আবেদনে। শুভেন্দু অধিকারী, শিশির অধিকারী, দিব্যেন্দু অধিকারী ছাড়াও বিজেপির একাধিক সাংসদ এবং বিধায়কের নাম রয়েছে এই জনস্বার্থ মামলার আবেদনে।

আর কাদের নাম রয়েছে
মূলত এই জনস্বার্থ মামলায় টার্গেট করা হয়েছে বিজেপির পরিচিত নেতা -নেত্রীদের। লকেট চট্টোপাধ্যায়, দিলীপ ঘোষ, সৌমিত্র খাঁ, মনোজ কুমার ওঁরাও ,অগ্নিমিত্রা পাল, শমীক ভট্টাচার্য, শীলভদ্র দত্ত, অনুপম হাজরা, জিতেন্দ্র তেওয়ারি, মিহির গোস্বামী, বিশ্বজিৎ সিনহার পাশাপাশি নাম রয়েছে কংগ্রেস নেতা আব্দুল মান্নান এবং বাম নেতা মোহম্মদ সেলিম, তন্ময় ভট্টাচার্যের।
মামলায় উল্লেখ রয়েছে কিছু নেতার ক্ষেত্রে সম্প্রতি বৃদ্ধির হার অবিশ্বাস্য শতাংশে বৃদ্ধি ঘটেছে। প্রায় ৯০০০ শতাংশ বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে ফলে অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তবে একথা বলা যেতে পারে বিগত বেশ কিছুদিন ধরে শাসক দলের নেতা-নেত্রীদের সম্প্রতি বৃদ্ধি নিয়ে জোড় তরজা শুরু হয়েছিল সংবাদ মাধ্যম সহ সাধারণ মানুষের মধ্যে। নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের গ্রেফতারি, গরু পাচার মামলা নিয়ে অনুব্রত মণ্ডলের সিবিআই হেফাজত, রাজ্যের শাসকদলকে অনেকটাই অস্বস্তিতে ফেলেছিল।
- এবার অভিজিৎ সরকারের দায়ের করা এই বিরোধী দলের ১৭ জন সাংসদ বিধায়কদের বিরুদ্ধে সম্পত্তি বৃদ্ধি নিয়ে মামলা, বিরোধী দলগুলিকে অনেকটাই চাপে ফেলবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। আর সেক্ষেত্রে বিপাকে পরা শাসক দল কিছুটা হলেও অক্সিজেন পাবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। রাজ্যের সাধারণ মানুষ নেতা-নেত্রীদের এই বিপুল পরিমাণে সম্পত্তি বৃদ্ধি নিয়ে গুঞ্জন তুললেও এতদিন প্রকাশ্যে কিছু বলতে পারেনি।তবে শাসক ও বিরোধী দলের নেতা-নেত্রীদের সম্পত্তি বৃদ্ধি নিয়ে এই দুই মামলা, রাজ্যের সাধারণ মানুষের কাছে আলোচনার মুখ্য বিষয় ইদানিংকালে হয়ে উঠেছে। ট্রামে ,বাসে ,চায়ের দোকানে বা যেকোনো আড্ডায় এখন একটাই কথা উঠছে “দেখ মজা দেখ“।


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
আরেক অভিনেতা প্রণবের অকালপ্রয়াণ
কেন ফুল বদলালেন লিয়েন্ডার পেজ?