Home » সিবিআই-এর অস্থায়ী ক্যাম্প ঘেরাও লালন শেখের পরিবারের 

সিবিআই-এর অস্থায়ী ক্যাম্প ঘেরাও লালন শেখের পরিবারের 

সময় কলকাতা ডেস্কঃ বগটুই হত্যাকাণ্ডের অন্যতম অভিযুক্ত লালন শেখের মৃত্যুর প্রতিবাদে সিবিআই-এর অস্থায়ী ক্যাম্প ঘেরাও করে লালনের পরিবার ও অনুগামীরা। অস্থায়ী ক্যাম্পের সামনে রাস্তায় বসে প্রতিবাদের পাশাপাশি, টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভও করেন তারা। যার জেরে বেশ কিছুক্ষণের জন্য ব্যাহত হয় জাতীয় সড়কে যানচলাচল। এমনকি ব্যরিকেড ভাঙার চেষ্টা করেন বিক্ষোভকারীরা। সিবিআই অফিসেই বন্দি থাকতে হয় সিবিআই আধকারিকদের। সিবিআই হেফাজতে থাকা স্বত্বেও কিভাবে ঘটল এই দুর্ঘটনা, প্রশ্ন লালনের পরিবারের মুখে। এদিকে, লালন শেখের মৃত্যুর ঘটনার তদন্তের দাবিতে সিবিআইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করলেন লালন শেখের পরিবার। পুলিশের কাছে দায়ের করা এফআইআরে লালনের স্ত্রী দাবি করেছেন,‘সিবিআই বলে হার্ডডিস্ক দে, নাহলে ৫০ লক্ষ টাকা দে। তাহলে তোদের সবাইকে বাঁচিয়ে দেব।’ লালনের মৃত্যুর পর শোকে ভেঙে পড়েছেন তাঁর পরিজনরা।

পুলিশের একটি সূত্রে আগেই জানিয়েছে, লালনকে ‘পার্শিয়াল হ্যাঙ্গিং’ অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে। অর্থাৎ মাটিতে পা ঠেকে ছিল। ছবিতেও তাই দেখা যাচ্ছে। লালনের মৃত্যু রহস্যের তিনটি দিক। প্রশ্ন অনেক। এখন প্রশ্ন, কে এই লালন শেখ ? বীরভূমের রামপুরহাটে খুন হয়েছিলেন তৃণমূল নেতা ভাদু শেখ। মৃত্যুর কয়েকঘণ্টার মধ্যেই বগটুই গ্রামের একাধিক বাড়িতে অগ্নিসংযোগের মতো নারকীয় ঘটনা ঘটে। সরকারি হিসেব অনুযায়ী, অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যুর সংখ্যাটা ছিল ৮। যদি, এই হিসেবের হেরফের রয়েই গিয়েছে। অভিযোগ হল, ওভাবে এতগুলো মানুষকে পুড়িয়ে মারার ঘটনার নেতৃত্ব দিয়েছিল লালন শেখ। অর্থাৎ বগটুই গণহত্যার ঘটনায় লালনই অন্যতম অভিযুক্ত। চলতি মাসেই ঝাড়খণ্ডের পাকুড় থেকে গ্রেফতার করা হয় লালনকে। জানা গিয়েছে, সোমবার দুপুরে সিবিআইয়ের অস্থায়ী শিবিরের নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন ২ জন সিবিআই আধিকারিক এবং ১ জন কেন্দ্রীয় জওয়ান।

লালন শেখের মৃত্যুর সময় সিবিআই শিবিরে ছিলেন এক জন কেন্দ্রীয় জওয়ান। ফলে লালনের মৃত্যুর পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, বগটুইকাণ্ডের অন্যতম অভিযুক্তের নিরাপত্তাতে এতটা ঢিলেমি কেন ছিল? পুলিশের এটাও অভিযোগ, লালন শেখের মৃত্যুতে সর্বোচ্চ আদালের গাইডলাইন ফলো করা হয়নি। ছিল না ২৪ ঘন্টা সিসিটিভি নজরদারি। লালনের দেহ উদ্ধারে দৃশ্য নিঃসন্দেহে ভয়ঙ্কর। এর থেকেও বেশি ভয়ঙ্কর বিষয় হল, লালনের মৃত্যু মানেই বগটুই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত অনেকটাই পিছিয়ে গেল। এই মৃত্যুতে যে বেজায় অস্বস্তিতে রয়েছে সিবিআই, তা বলাই বাহুল্য। সোমবার রাতেই দিল্লির সিবিআই দফতর থেকে মৃত্যুর ঘটনার বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়ে পাঠানো হয় বগটুই তদন্তের দায়িত্বে থাকা সিবিআই আধিকারিকদের কাছ থেকে। পাশাপাশি, লালন শেখের রহস্য মৃত্যুর ঘটনায় বিভাগীয় তদন্তও শুরু করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। স্বাভাবিকভাবেই কৌতূহল তৈরি হয়েছে, কীভাবে লালনের মৃত্যু হয়েছে তা কি আদালতে জানাবে সিবিআই? কারণ আদালতের পর্যবেক্ষণেই বগটুই মামলার তদন্ত করছে কেন্দ্রীয় এজেন্সি। রাজ্যের পক্ষ থেকেও কি পদক্ষেপ নেওয়া হয়, সেদিকেই তাকিয়ে রাজ্যবাসী।

About Post Author