Home » উত্তরকাশীর পর ভয়াবহ ভূমিকম্প হিমাচলপ্রদেশের ধর্মশালায়

উত্তরকাশীর পর ভয়াবহ ভূমিকম্প হিমাচলপ্রদেশের ধর্মশালায়

সময় কলকাতা ডেস্ক,১৪ জানুয়ারিঃ যোশীমঠ ঘিরে আতঙ্ক ক্রমাগত বাড়ছে। উত্তরাখণ্ডে পাহাড়ের কোলে ছোট্ট এই শহরজুড়ে এখন শুধুই ফাটল। যে কোনও সময় বড়সড় ভাঙনের মুখে পড়তে পারে দেবভূমি। তারই মধ্যে উত্তরকাশীর পর এবার ভয়াবহ ভূমিকম্প হিমাচলপ্রদেশের ধর্মশালায়। রিখটার স্কেলে কম্পনের তীব্রতা ছিল ৩.৪। ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি-র তরফে একটি টুইটে জানানো হয়েছে, শনিবার ভোর ৫টা নাগাদ ছাম্বা জেলায় ভূমিকম্প হয়। ধর্মশালার ২২ কিলোমিটার পূর্বে ছিল কম্পনের উৎসস্থল। আর এই কম্পনের জেরে ক্রমশ উদ্বেগ বাড়ছে দেবভূমিতে। এর আগে শুক্রবার রাতে ২টো নাগাদ একবার কেঁপে ওঠে উত্তরকাশী। রিখটার স্কেলে কম্পনের তীব্রতা ছিল ২.৯। আর এই ভূমিকম্পের প্রভাব পড়েছিল যোশীমঠেও। ভূমিকম্পের উৎসস্থল ছিল যোশীমঠ থেকে প্রায় ২৫০ কিলোমিটার দূরে। ইতিমধ্যেই উত্তরাখণ্ড সরকারের তরফে যোশীমঠকে বসবাসের অযোগ্য বলে ঘোষণা করা হয়েছে। বিপর্যয় রুখতে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বৈঠকও করছে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকার। জোশীমঠের বাসিন্দাদের যাতে শিকড় উপড়ে না যায়, তার জন্যই ইতিমধ্যেই একটি মডেল শহর গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে সেন্ট্রাল বিল্ডিং রিসার্চ ইন্সটিটিউট।

দেহরাদূনের সরকারি সংস্থা ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ রিমোট সেন্সিং-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, গঢ়ওয়াল হিমালয়ের জোশীমঠ এবং সংলগ্ন এলাকা ধীরে ধীরে ডুবতে বসেছে। বছরে আড়াই ইঞ্চি বা ৬.৫ সেন্টিমিটার করে মাটি বসে যাচ্ছে। একটু একটু করে ফাটল ধরছে বাড়ির ভিতগুলোতে। ২০২০ সালের জুলাই থেকে গত বছর মার্চ অবধি পাওয়া উপগ্রহচিত্রে ধরা পড়েছে, ভূমিধস শুরু হয়েছিল তিন বছর আগে থেকেই। ছবিতে দেখা গিয়েছে, জোশীমঠের নীচে টেকটনিক প্লেটের সংঘর্ষ হামেশাই হচ্ছে, ফলে এই অঞ্চলটি অত্যন্ত ভূমিকম্পপ্রবণ। রিপোর্ট আরও বলছে, ওই সময় জোশীমঠ ও আশপাশের এলাকার পাহাড়েও ফাটল দেখা দিয়েছিল।

প্রসঙ্গত, উত্তরাখণ্ডে পাহাড়ের কোলে ছোট্ট এই শহরজুড়ে এখনও পর্যন্ত ফাটল দেখা দিয়েছে ৭০০-র বেশি বাড়িতে। ফাটল দেখা দিয়েছে অবস্থিত যোশীমঠ-মালারি সড়কেও। ভারত-চিনের সীমান্তের খুব কাছে অবস্থিত এই রাস্তাজুড়ে নানা স্থানেই দেখা যাচ্ছে বড় বড় ফাটল। এই পরিস্থিতিতে যোশীমঠ বসবাসের উপযুক্ত নয় বলেই ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি। এখানকার পুর এলাকাগুলিকে ‘বিপর্যস্ত’ তকমা দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজে ফোন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ধামির কাছে।

About Post Author