Home » রামনবমীতে হাওড়া, হুগলি, ডালখোলায় অশান্তির ঘটনায় রিপোর্ট তলব করল এনআইএ

রামনবমীতে হাওড়া, হুগলি, ডালখোলায় অশান্তির ঘটনায় রিপোর্ট তলব করল এনআইএ

সময় কলকাতা ডেস্ক, ৩ মেঃ রামনবমীতে হাওড়া, হুগলি, ডালখোলায় অশান্তির ঘটনার তদন্ত করবে এনআইএ। বর্তমানে এই ঘটনার তদন্ত করছে সিআইডি। সম্প্রতি কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে সেই ঘটনার তদন্তভার দেওয়া হয়েছে এনআইএ-কে। হাওড়ার পুলিশ কমিশনার, চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের কমিশনার ও এডিজি সিআইডি-কে চিঠি দিয়েছে এনআইএ। এছাড়া অশান্তির মামলার তদন্ত কীভাবে এগোবে, তা নিয়েও ইতিমধ্যেই বৈঠক করেছেন এনআইএ-র কলকাতা শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত ডিআইজি। যদিও এনআইএ-র চিঠির কোনও উত্তর দেয়নি রাজ্য পুলিশ।

কিছুদিন আগেই হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি টি. এস. শিবজ্ঞানমের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছিলেন,দু’সপ্তাহের মধ্যে তদন্তের সমস্ত নথি এনআইয়ের হাতে তুলে দিতে হবে রাজ্যকে। গত মাসেই বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে এই নির্দেশ দিল কলকাতা হাই কোর্ট। রামনবমীর মিছিলকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়েছিল রিষড়া, শিবপুর। এই অশান্তি এনআইএ তদন্ত চেয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখে রাজ্যের কাছে রিপোর্ট তলব করেছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ।

আরও পড়ুন   গুজরাট আদালতেও স্বস্তি মিলল না রাহুল গান্ধির

অতিরিক্ত হলফনামা জমা দিয়ে রিষড়ার অশান্তির কারণ বিবরণ জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পুলিশি রিপোর্ট জমা পড়েছে আদালতে। তা দেখে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, পুলিশি রিপোর্টে স্পষ্ট যে ব্যাপক অশান্তি হয়েছে। বোমাবাজি, আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হওয়া এবং অশান্তির ঘটনা সাধারণ মানুষকে উদ্বিগ্ন করে। এরপরই তাঁদের পর্যবেক্ষণ, তদন্তে কেন্দ্রীয় সংস্থার প্রয়োজন। শুধু তাই নয়, ছাদে পাথর জড়ো করা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন হাই কোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি। বৃহস্পতিবার এনআইএ তদন্তের নির্দেশ দিল হাইকোর্ট।

উল্লেখ্য,গত ৩০ মার্চ রামনবমীর দিন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অস্ত্রসহ মিছিল সংগঠিত হয়েছিল। উৎসবের এই মিছিলকে কেন্দ্র করে বেশ কিছু জায়গায় সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছিল। রিষড়ায় রামনবমীর মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন দিলীপ ঘোষ, পুরশুড়ার বিজেপি বিধায়ক বিমান ঘোষ, শ্রীরামপুরে বিজেপি সাংগঠনিক জেলা সভাপতি মোহন আদক-সহ একাধিক নেতা,বিধায়ক। অশান্তির জেরে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয় বিজেপি সাংসদ তথা সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষের। যদিও নিরাপত্তা রক্ষীরা তাঁকে সময়মতো ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ায় বড় কোনও বিপদ হয়নি। এরপরই টানা তিনদিন ধরে এলাকায় মোতায়েন ছিল বিশাল পুলিশ বাহিনী। সূত্রের খবর,রিষড়া ৫ নং ওয়ার্ড এলাকায় জিটি রোডের উপর আচমকাই মিছিলে হামলা চলে বলে অভিযোগ। চলে ইটবৃষ্টি। তাতে মোহন আদকের গাড়ির কাঁচ ভাঙে, আহত হন বিধায়ক বিমান ঘোষও। তাঁদের তড়িঘড়ি সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। আহত বিধায়ককে হুইলচেয়ারে বসিয়ে নিয়ে যাওয়া হাসপাতালে। সরব বিজেপি। সাংবাদিক বৈঠক করে রাজ্য প্রশাসন ও পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগে কার্যত ফেটে পড়েন বিজেপির সর্বভারতীয় সহ সভাপতি দিলীপ ঘোষ।

About Post Author