সময় কলকাতা ডেস্ক, ৩ মেঃ রাজু ঝা হত্যাকাণ্ডে আরও দু’জনকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। ধৃতদের নাম ইন্দ্রজিৎ গিরি ও লালবাবু কুমার। ঝাড়খণ্ডের রাঁচি থেকে তাঁদেরকে গ্রেপ্তার করেছে সিট। সোমবার ধৃতদের বর্ধমান আদালতে পেশ করবে পুলিশ। আদালতের তরফে ইতিমধ্যেই ধৃতদের ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজু ঝা হত্যাকাণ্ডে এখনও পর্যন্ত মোট ৩ জনকে গ্রেফতার করা হল। কিছুদিন আগেই এই ঘটনার মূলচক্রী অভিজিৎ মণ্ডলকে দুর্গাপুরের সিটি সেন্টার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছিল। বুধবার অর্থাৎ আজ ফের ধৃত অভিজিৎ মণ্ডলকে পেশ করা হবে বর্ধমান আদালতে। তার আগে অভিজিতের সঙ্গে এই দু’জনকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করতে চাইছে সিট। তাতে এই খুনের রহস্যের জট অনেকটাই খুলবে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।

উল্লেখ্য,কয়লা মাফিয়া রাজু ঝা খুনের ১৯ দিনের মাথায় বাঁকুড়ার ছেলে বর্তমানে দুর্গাপুরের কর্মরত অভিজিৎ মন্ডলকে আটক করে পূর্ব বর্ধমান জেলার শক্তিগড় থানার পুলিশ। মঙ্গলবার গভীর রাতে কাঁকসা থানার আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে দুর্গাপুর থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে সাংবাদিক বৈঠক করে জানান পূর্ব বর্ধমানের পুলিশ সুপার। ধৃতকে জেরা করলেই বাকি অভিযুক্তদের হদিশ মিলবে বলে আশাবাদী তদন্তকারীরা। বুধবারই আদালতে তোলা হয় ধৃতকে। পুলিশের অনুমান, ধৃতকে জেরা করলেই রাজু ঝা হত্যা রহস্যের কিনারা করা সম্ভব হবে। জানা গিয়েছে,অভিজিতের আসল বাড়ি বাঁকুড়ায়। রানিগঞ্জের মাফিয়া নারায়ণ গেরফার গাড়ি চালাত এই অভিজিৎ। দীর্ঘদিন ধরে রাজুর সঙ্গে বালি ও কয়লা সংক্রান্ত বিরোধ ছিল নারায়ণের।
আরও পড়ুন দণ্ডি কাণ্ডের জের,বালুরঘাট পুরসভার পদ থেকে সরানো হল প্রদীপ্তা চক্রবর্তীকে

অভিজিৎ মণ্ডল গ্রেফতার হতেই পুলিশের জালে নজরে ছিল নারায়ণ ওরফে নরেন্দ্র খেরকা। রাজেশ ওরফে রাজু ঝা হত্যা কাণ্ডে একসময়ের সহযোগী নারায়ণের যুক্ত থাকার প্রাথমিক প্রমাণ এসেছে এই মামলায় গঠিত স্পেশ্যাল ইনভেস্টিগেশন টিম বা সিটের হাতে। সেই মতোই বুধবার রাতে কয়লা মাফিয়া নারায়ণ খেরকার দুর্গাপুরের সিটিসেন্টারের অফিসে অভিযান চালায় পুলিশ। তদন্তকারী সিট-এর আধিকারিকদের প্রায় ১০ গাড়ি পুলিস নারায়ণ খেরকার অফিস ঘেড়াও করে ফেলে। যদিও অফিসে কেউ ছিল না বলে জানা গিয়েছে। সূত্রের খবর, অভিজিৎ কয়লা মাফিয়া নারায়ণ খেরকার গাড়ির চালক। তাকেই মঙ্গলবার সিটিসেন্টারের নারায়ণ খেরকার এই অফিস থেকে গ্রেফতার করে সিট। অভিজিৎ ধরা পড়তেই গা ঢাকা দিয়েছে নারায়ণ। তাতে পুলিশের সন্দেহ আরও দৃঢ় হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ১ এপ্রিল পূর্ব বর্ধমানের শক্তিগড়ে দুষ্কৃতীরা গুলিতে ঝাঁজরা করে দেয় রাজু ঝাকে। নীল গাড়িতে চেপে এসে কাজ সেরে আবার ওই গাড়িতেই চম্পট দেয় শার্প শুটাররা। ঘটনাস্থলে একটি নীল রঙের বাইকেরও অস্তিত্ব পাওয়া যায়। তাতে শার্প শুটারদের সঙ্গে থাকা একজনকে চেপে পালাতে দেখা গিয়েছে। পরে ওই নীল চারচাকা গাড়িটি শক্তিগড় থানার অদূরে উদ্ধার করা হয়। এই নীল গাড়িটিকে ঘটনার ভোরে পশ্চিম বর্ধমানের ডুবুরডিহি চেক পোস্ট দিয়ে ঝাড়খণ্ড-বিহারের দিকে যেতে ও ওইদিন দুপুরে আবার ফিরে আসতে দেখা যায়। কিন্তু গাড়ির হদিশ পাওয়া গেলেও রহস্যের শিকড়ে পৌঁছতে পারছিলেন না তদন্তকারীরা। কারণ, ওই নীল গাড়িটি দিল্লি থেকে চুরি করা হয়েছিল বলেই জানতে পারে তদন্তকারীরা।


More Stories
কুণাল-কল্যাণ :কলকাতায় চ্যাংদোলা, দিল্লিতে সাসপেন্ড
পুলিশের জালে স্বপন সাহা, মালবাজারে দোলাচল
মমতা প্রমাণ করলেন কর্মীরাই আসল তৃণমূল