স্পোর্টস ডেস্ক, সময় কলকাতা, ১৭ মেঃ দশ ওভারের শেষে স্কোরবোর্ডে রান এক উইকেটে ৯৩। শেষ দশ ওভারে মাত্র ৮৫ রান করতে হবে হাতে নয় উইকেট। এরকম সুবিধাজনক জায়গায় থেকেও আইপিএলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে হেরে গেল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। মঙ্গলবার লখনউ সুপার জায়েন্টস দলের দেওয়া ১৭৮ রানের টার্গেট থেকে ৬ রান দূরে থমকে দাঁড়াল তারা। অন্যদিকে,ঘরের মাঠে ৫ রানে জয় পেয়ে আইপিএল পয়েন্ট টেবিলে আবার তিন নম্বরে উঠে এল লখনউ। সৌজন্যে মূলত মার্কাস স্টোয়নিস ও তরুণ পেসার মহসিন খান। ১৩ ম্যাচে তাদের পয়েন্ট বেড়ে হল ১৫। চেন্নাইয়ের সঙ্গে পয়েন্টের দিক থেকে এক পংক্তিতে অবস্থান করলেও নেট রান রেটে ধোনির দলের বিরুদ্ধে কিছুটা পিছিয়ে লখনউ। তবুও এই জয় কলকাতা নাইট রাইডার্স ম্যাচের আগে তাদের বাড়তি আত্মবিশ্বাস দেবে বলাইবাহুল্য।
আরও পড়ুন হায়দরাবাদকে হারিয়ে আইপিএল প্লে-অফে গুজরাট

লখনউ এবারের আইপিএলে পয়েন্টের বিচারে এখন এমনিতেও কলকাতার ধরাছোঁয়ার বাইরে।কলকাতার বিরুদ্ধে শনিবারের ম্যাচ জিতলে লখনউয়ের শেষ চারে যাওয়ার টিকিট পাকা হয়ে যাবে।বুধবার সন্ধ্যেয় লখনউয়ের অটল বিহারী বাজপেয়ী স্টেডিয়ামে টসে জিতে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন মুম্বাই অধিনায়ক রোহিত শর্মা। শুরু মোটেই ভালো হয় নি লখনউ দলের, তৃতীয় ওভারের প্রথম দুটি বলে দুটি উইকেট খুইয়ে চাপে পড়ে লখনউ। চাপ আরও বাড়ে কুইনটন ডি কক অল্প ব্যবধানে ফিরতেই।এখান থেকেই চতুর্থ জুটিতে হাল ধরেন অধিনায়ক ক্রুনাল পান্ডিয়া ও মার্কাস স্টোয়নিস। ক্রুনাল ৪৯ রানে আহত হয়ে অবসর নিলেও শেষের দিকে ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠেন মার্কাস স্টোয়নিস। ৪৭ বলে ৮৯ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি।

আটখানি ওভার বাউন্ডারি ও চারটি বাউন্ডারি মারেন তিনি শেষ পাঁচ ওভারে ৬৯ রান তুলে ৩ উইকেটে ১৭৭ রান করে লখনউ। উত্তরে ব্যাট হাতে নেমে রোহিত শর্মাকে সঙ্গে নিয়ে ঈশান কিষান যেরকম দাপট দেখাচ্ছিলেন তাতে মনেই হয়নি লখনউয়ের কোনও আশা আছে। তবুও ম্যাচে ফেরে তারা। রবি বিষ্ণই দুই ওপেনারকে ফিরিয়ে দেওয়ার পরে যশ ঠাকুরের অফ স্ট্যাম্পের বলকে সুইপ করতে গিয়ে নিজের উইকেটে টেনে আনেন ফর্মে থাকা সূর্য কুমার যাদব। লখনউ পেসাররা এদিন ডেথ ওভারে আহত জয়দেব উনাদকাট বা মার্ক উডের অভাব পুষিয়ে দেন। এদিন আরেক জাতীয় দলে খেলা ফাস্ট বোলার আমন খান ও ছিলেন না । তবুও দরকারের মুহূর্তে নিজেদের উজাড় করে দেন লখনউ দলের অনভিজ্ঞ পেসাররা।

এদিন সূর্য ফেরার পরে মুম্বাই ব্যাটিংয়ের ওপরে চাপ বাড়াতে থাকেন পেসার যশ ঠাকুর,নভীন উল হক, মহসিন খানেরা। ১৮ ওভারে বিনোদকে ফিরিয়ে আবার আঘাত হানেন যশ।কিন্তু এ ম্যাচে আগাগোড়া ভালো বল করলেও ১৯ তম ওভারে লাইন লেংথে অবিচল থাকতে পারেন নি নভীন উল। টিম ডেভিড এই ওভারটিতে তার বলে জোড়া ছক্কা হাঁকান। শেষ ওভারে দরকার ছিল মাত্র ১১ রান।এরকম সন্ধিক্ষণে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের দুই বিগ হিটার ক্যামেরুন গ্রীন আর টিম ডেভিডের বিরুদ্ধে বল করতে আসেন উত্তরপ্রদেশের তরুণ পেসার মহসিন খান। তাঁর নিয়ন্ত্রিত,নিখুঁত বোলিং দিয়ে দুই দীর্ঘদেহী ফিনিশার কে আটকে রাখেন মহসিন। ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ওভারে মাত্র ৫ রান খরচ করে লখনউকে খুব দরকারি জয় এনে দেন। মার্কাস স্টোয়নিস কে ম্যাচের সেরা নির্বাচিত করা হলেও নিঃসন্দেহে ম্যাচের নায়ক কিন্তু মহসিন খান।।


More Stories
ইউএস ওপেন : ছিটকে গেলেন আলকারাজ
ঈশান কিষানের পরাক্রমে দলীপ ট্রফি জয়ের দোরগোড়ায় পূর্বাঞ্চল
আবার বারাসাতে খেলতে নামছে মোহনবাগান এবং ইস্টবেঙ্গল