Home » লাগাতার ধস-হড়পা বানে বিপর্যস্ত হিমাচল প্রদেশ, বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১২০

লাগাতার ধস-হড়পা বানে বিপর্যস্ত হিমাচল প্রদেশ, বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১২০

সময় কলকাতা ডেস্ক,১৮ জুলাইঃ বন্যায় বিপর্যস্ত সমগ্র সারা উত্তর। বিপর্যয় যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না হিমাচল প্রদেশের। সোমবার সকাল থেকে হিমাচলের কুলুতে মেঘভাঙা বৃষ্টির জেরে ফের বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বন্যায় ভেসে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে ১ জনের। সেই সঙ্গে আহত হন ৩ জন। প্রকৃতির রোষে অসহায় গোটা রাজ্য। এখনও অবধি মৃত্যু বেড়ে ১২০ জনে পৌঁছেছে। জলের তোড়ে নিখোঁজ অনেক। হিমাচলে উত্তাল হয়ে উঠেছে বিপাসা নদী। নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট, বাড়ি-ঘর। বিপর্যস্ত জনজীবন। উত্তাল বিপাসা নদীতে নিমেষে ভেসে গেছে পর্যটকদের একের পর এক গাড়ি।বাড়িঘর, দোকানপাট ভেসে গেছে। ধস নেমে রাস্তা বন্ধ। জলমগ্ন বাসিন্দাদের উদ্ধার করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

চন্দ্রতাল, পাগল নাল্লা, লাহুল-স্পিতি ভেসে গেছে। একের পর এক ভূমিধসে লন্ডভন্ড সব। সেনা নামানো হয়েছে রাজ্যে। মুখ্যমন্ত্রী সুখবিন্দর সিংহ সুখু জানিয়েছেন, শনিবার থেকে লাহুল এবং স্পিতির চন্দ্রতালের কাছে আটকে রয়েছেন বহু পর্যটক। তাঁদের উদ্ধার করার জন্য সব রকম ভাবে চেষ্টা চালানো হচ্ছে। পর্যটকরা কী অবস্থায় আছেন, সেই পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার জন্য হেলিকপ্টারে করে ওই অঞ্চল পরিদর্শন করেন প্রশাসনিক আধিকারিকরা। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা দল ও রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। জাতীয় সড়ক, সেতু নদীরে জলে ভেসে গেছে। আগামী কয়েকদিন হিমাচল প্রদেশে লাল সতর্কতা জারি করেছে মৌসম ভবন। দুর্যোগ না থামা অবধি বাড়ির বাইরে বেরোতে বারণ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী সুখবিন্দর সিং সুখু। সরকারের তরফে নির্দেশিকা জারি করে সতর্ক করা হয়েছে। রাজ্য সরকারের তরফে ১১০০, ১০৭০, ১০৭৭ হেল্পলাইন নম্বর চালু করা হয়েছে।

আরও পড়ুন  উত্তরবঙ্গে বন্যা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে বিপর্যয় মোকাবিলা টিম পাঠাচ্ছে নবান্ন

এদিকে, বালিয়া, মাহোবা এবং ললিতপুর জেলায় পৃথক কয়েকটি ঘটনায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে সাত জনের মৃত্যু হয়েছে। সুলতানপুরে সাপের কামড়ে মারা গিয়েছেন আরও এক জন। বদায়ুঁ জেলায় গঙ্গা নদী বিপদসীমার উপর দিয়ে বইতে শুরু করেছে। বুন্দেলশহর এবং ফারুখাবাদেও গঙ্গা ভয়ঙ্কর রূপ ধারন করেছে। প্রয়াগরাজে যমুনার জলস্তরও বিপদসীমার কাছাকাছি চলে এসেছে। মথুরায় যমুনা আগেই বিপদসীমা ছাড়িয়ে গিয়েছে। নদীর জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় সংলগ্ন নিচু এলাকাগুলি প্লাবিত হয়েছে। মথুরা এবং বৃন্দাবনে রাস্তাঘাট ইতিমধ্যে যমুনার জলের তলায়। গ্রামের পর গ্রাম ভেসে গিয়েছে। বিপুল ক্ষতি হয়েছে চাষের। অনেক শস্য নষ্ট হয়ে গিয়েছে। প্রশাসনের তরফে দুর্যোগকবলিতদের উদ্ধার করে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। মৌসম ভবন জানিয়েছে, উত্তরপ্রদেশের মোট ৭৫টি জেলার মধ্যে ৩২টি জেলাতেই এ বছর মাত্রাতিরিক্ত বৃষ্টি হয়েছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টাতেও রাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকায় বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

About Post Author