Home » জলের উজ্জ্বল শস্য ইলিশের বিরহে ব্যাকুল বাঙালি! কেন এই সংকট?

জলের উজ্জ্বল শস্য ইলিশের বিরহে ব্যাকুল বাঙালি! কেন এই সংকট?

বীথিন সরকার, সময় কলকাতা, ৯ আগষ্ট : ” মৎস্য মারিব খাইব সুখে” – মৎস্যপ্ৰিয় বাঙালির মনে বিষাদ। বলাইবাহুল্য মাছের মধ্যে ইলিশের জনপ্রিয়তা তুলনাহীন।বুদ্ধদেব বসু ইলিশকে বলেছিলেন ‘ জলের উজ্জ্বল শস্য “।  বর্ষা এলেই ইলিশের সৌরভে আমোদিত হয় বাঙালির হেঁশেল।অথচ জলের উজ্জ্বল শস্য এখন সাধারণভাবে বাঙালির নাগালের বাইরে।একে বিরাট দাম, তার ওপরে যেটুকু মিলছে স্বাদেগন্ধে সেই মাছে মন ভরছে না। কেন এই সংকট?

পরপর প্রাকৃতিক দুর্যোগ! মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে মৎস্য   শিকারে যাওয়ায় প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা। ফলে বর্ষার রূপলি শস্য, আপামোর খাদ্য রসিক বাঙ্গালীর পছন্দের ইলিশের তাই ভাটা। অন্যদিকে তিস্তা চুক্তির কাঁটা বিঁধে আছে এপার বাংলার বাঙালির গলায়। যে কারণে বিগত এক দশকে সেভাবে কলকাতা সহ পশ্চিমবাংলার বাজার গুলিতে বাংলাদেশি ইলিশের যোগান কম। আর তাতেই বাজারে ইলিশের দাম চড়চড়িয়ে ঊর্ধ্বমুখী। তাই বাঙালির অন্যতম প্রিয় ঋতু বর্ষাকালে ইলিশ সেভাবে নেই বাঙালির পাতে। বর্ষার এই রূপালি শস্যের নাম শুনেই যে বাঙালির অ্যাড্রেনালিন ক্ষরণ শুরু হয়ে যায়। সেই “হিলসা-ফিস” কিনতে মাছে-ভাতে বাঙালির নাভিশ্বাস ওঠার যোগার। এক সপ্তাহের মধ্যে ইলিশের দাম বেড়েছে চড়চড়িয়ে। বাজারে এক কেজি ওজনের ইলিশের দাম ছাড়িয়েছে ২ হাজার টাকা। কিন্তু এক সপ্তাহ আগেই এক কেজি ওজনের ইলিশের দাম ছিল ১০০০-১২০০ টাকার মধ্যে। কেন এই দাম বৃদ্ধি?

ইলিশের এই দাম বৃদ্ধি কারন হিসাবে মৎস্য ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, পাইকারি বাজারে ইলিশের যোগান কম, চাহিদা বেশি ফলে দাম বেড়েই চলেছে। অগাস্ট মাসের শুরুতে পাইকারি বাজারে এক থেকে দেড় কেজি ওজনের ইলিশের দাম ছিল ১০০০-১২০০ টাকা। দেড় কেজি বেশি ওজনের ইলিশের দাম ছিল ১৫০০-২০০০ হাজার টাকা। আর ৫০০-৭০০ গ্রাম ইলিশের দাম ছিল ৬০০-৮০০ টাকা। কিন্তু বর্তমানে পাইকারি বাজারে ৫০০-৭০০ গ্রাম ইলিশের দাম হয়েছে ১০০০-১৮০০ টাকা। ১ কেজি থেকে দেড় কেজি ওজনের ইলিশের দাম হয়েছে ২০০০-২৫০০ টাকা। দেড় কেজি বেশি ওজনের ইলিশের দাম ছিল ১৫০০-৩০০০ টাকা। পাইকারি বাজারে হঠাৎ করে ইলিশের দাম বৃদ্ধির কারণ, পরপর নিম্নচাপের কারণে সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি ছিল। তাতে কমছে মাছের যোগান।আর এসময় এক শ্রেণীর মানুষ আকৃষ্ট হচ্ছে ২০০-২৫০ গ্রাম ওজনের খোকা ইলিশে যার দাম ৪০০-৫০০ টাকা কিলো। খোকা ইলিশ স্বাদে বা গন্ধে কোনওভাবেই দাগ কাটছে না। উল্টে ইলিশ মাছের ক্ষেত্রে তৈরি করছে  ভারসাম্যের অভাব।

কী বলছেন রাজ্যের মৎস মন্ত্রী? সম্প্রতি কাঁথিতে মৎস্যজীবীদের সরকারি সুবিধা প্রদান সংক্রান্ত অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে রাজ্যের মৎস্যমন্ত্রী বিপ্লব রায়চৌধুরী বলেন, ‘ইলিশকে যে সময়টা দেওয়া উচিত ছিল, বড় হওয়ার জন্য, সেটা আমার দিচ্ছি না। আমরা খোকা ইলিশ ধরে স্বাদটা নষ্ট করে দিচ্ছি। আমার এবার ৬০ দিন বন্ধ করে দিয়েছিলাম। এটাকে বাড়িয়ে ৬৫ বা ৭০ দিন করা যায় কি না আমার দেখছি।’ খোকা ইলিশের বাড়বাড়ন্ত  ও সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতার কারণ কম দাম হলেও  খোকা ইলিশ শিকার ও খোকা ক্রয়-বিক্রয়ের প্রবনতা যে স্বাদ ও বড় ইলিশের দামের ক্ষেত্রে বিপর্যয় ডেকে আনছে  এমনটাই মনে করছেন মৎস্যমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রক। আশু সমাধানের পথ মিলছে না।ইলিশ প্রিয় বাঙালি বাজারে গিয়ে ইলিশের দাম শুনে ভিরমি খাওয়ার উপক্রম। মৎস্য মন্ত্রী ও তথ্যভিজ্ঞ মহল মনে করছে সচেতনতা না এলে স্বখাত সলিলে ডুবে থাকা ছাড়া গতি নেই। মাছের জোগান বাড়লে তবেই কমবে দাম। জোগান বাড়াতে হলে খোকা ইলিশ থেকে মুখ ঘোরানো একমাত্র পথ।তবেই বাড়বে স্বাদ, কমবে দাম। জলের উজ্জ্বল শস্য ততদিন নাগালের বাইরেই থাকবে।।

About Post Author