Home » শিক্ষাক্ষেত্রে ‘পোস্টিং’ দুর্নীতিতে ৩৫০ জন শিক্ষককে জেরার নির্দেশ বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের

শিক্ষাক্ষেত্রে ‘পোস্টিং’ দুর্নীতিতে ৩৫০ জন শিক্ষককে জেরার নির্দেশ বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের

সময় কলকাতা ডেস্ক, ১১ আগস্ট: নিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত যত এগোচ্ছে,ততই যেন ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। কিছুদিন আগেই শিক্ষাক্ষেত্রে ‘পোস্টিং’ দুর্নীতিতে সরব হয়েছিল বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন সভাপতি মানিক ভট্টাচার্য এই দুর্নীতির ‘মাস্টারমাইন্ড’ বলেও অভিযোগ করা হয়। এরপর তিনি গত ২৫ জুলাই সিবিআই তদন্তেরও নির্দেশ দিয়েছিলেন। প্রয়োজনে ইডিকেও তদন্তের নির্দেশ দেন। এবার বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, সিবিআই এই মামলার তদন্তে প্রয়োজন মনে ৩৫০ জন শিক্ষককে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদও করতে পারবে। শুক্রবার এই মামলার শুনানিতে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় জানান, যেসব শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ‘পোস্টিং’ দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্ত চালিয়ে যেতে পারবে। আগামী ২৮ আগস্ট এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে। সূত্রের খবর, এর আগে ২০২১ সালের জুলাই মাসে পর্ষদ একটি তালিকা বের করে। সেই তালিকাতেই দেখা যায়, এমন বহু শিক্ষক রয়েছে, যাঁদের নিজেদের জেলায় নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ফলে বাধ্য হয়ে তাঁরা অনেক দূরের জেলায় চাকরি করে। এরপর ৩০ জুলাই ফের শূন্যপদের একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়। সেখানে দেখা যায় সব জেলাতেই কমবেশি শূন্যপদ রয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও ওই শিক্ষকদের নিজের জেলায় পোস্টিং দেওয়া হয়নি। স্বাভাবিকভাবেই এরপরে প্রশ্ন ওঠে, মাত্র ২৩ দিনে কী করে তৈরি হল এই শূন্যপদ? তাহলে কি মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়েই শিক্ষকদের পছন্দের জেলায় বদলি করা হয়ছিল? ইতিমধ্যেই সেসব প্রশ্নও উঠতে শুরু করেছে।

এদিকে,নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সোমবারই মুর্শিদাবাদের চার শিক্ষক গ্রেফতার হতেই রাজ্য রাজনীতিতে রীতিমতো আলোড়ন পড়ে গিয়েছিল। এরপর বৃহস্পতিবার কোচবিহারের প্রাথমিকের ৩০ জন শিক্ষককে নিজাম প্যালেসে তলব করে সিবিআই। তাঁদের নিয়োগের সময় অর্থনৈতিক লেনদেন হয়েছিল কিনা,তা জানতেই বৃহস্পতিবার মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ড, মার্কশিট, জাতি শংসাপত্র ইত্যাদি নথি নিয়ে তাঁদের নিজাম প্যালেসে আসতে বলা হয়েছিল। ইতিমধ্যেই প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের কাছেও ওই ৩০ জন শিক্ষকের বিষয়ে সমস্ত তথ্য চাওয়া হয়েছে। সেই ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পেরোতে না পেরোতেই এবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শিলিগুড়ির ২২ জন প্রাথমিক শিক্ষককে নিজাম প্যালেসে তলব করল সিবিআই। সূত্রের খবর, ২০১৪ সালের প্রাথমিক নিয়োগে টাকার বিনিময়ে কোথায় কোথায় চাকরি বিক্রি হয়েছে, সেই সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করতেই বিভিন্ন জেলার শিক্ষকদের তলব করছেন সিবিআই আধিকারিকরা। নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এর আগে বিভিন্ন প্রভাবশালী নেতা থেকে শুরু করে মন্ত্রীদের গ্রেফতারির ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। তবে কোনও শিক্ষককে এর আগে গ্রেফতার হয়নি। এই প্রথমবার ‘অযোগ্য’ শিক্ষকদের গ্রেফতার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন  নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এবার শিলিগুড়ির ২২ জন প্রাথমিক শিক্ষককে তলব সিবিআইয়ের

এর আগে গত সোমবারই আলিপুর বিশেষ সিবিআই আদালতের নির্দেশে গ্রেফতার করা হয় মুর্শিদাবাদের ‘অযোগ্য’ চারজন শিক্ষককে। তদন্তের ভিত্তিতেই জানা গিয়েছে, গ্রেফতার হওয়া ওই চার শিক্ষক ঘুষের টাকা দেন নিয়োগ দুর্নীতিতে ধৃত তাপস মণ্ডলকে। তদন্তকারীদের ধারণা, বিভিন্ন কলেজগুলিতে চাকরিপ্রার্থীদের খুঁজে টোপ ফেলতেন দালালেরা। লক্ষ লক্ষ টাকার বিনিময়ে চলত বেআইনি নিয়োগ। গ্রেফতার হওয়া ওই চার শিক্ষকের থেকে কীভাবে টাকা তাপস মণ্ডলের কাছে পৌঁছত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পূর্বেই সিবিআই ও ইডি দাবি করেছিল, পার্থ চট্টোপাধ্যায়-মানিক ভট্টাচার্যদের জুটি টাকা দিয়ে হাজার হাজার চাকরি বিক্রি করেছে। এবং এভাবে চাকরি বিক্রি করে তাঁরা কয়েক হাজার কোটি টাকা তুলেছিলেন। সিবিআই আগেই দাবি করছিল যে, একাধিক প্রার্থীর বয়ান থেকে তাপসের টাকার লেনদেন প্রকাশ্যে এসেছে। তবে কে কাকে টাকা দিয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছিল। এদিন আদালতে সিবিআই তদন্তকারীরা যে নথি পেশ করেন, তাতে ওই চার শিক্ষকের নাম ছিল এবং নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে ওই চার শিক্ষক টাকা দিয়ে চাকরি কেনে। ঘুষের টাকা তাঁরা দেন তাপস মণ্ডলকে।

About Post Author