Home » শেষের দিকে ব্যাটিং ব্যর্থতা নাকি পরিসংখ্যানবিদের অভাব! কিসের জন্য তীরে এসে তরী ডুবল পাঠানদের?

শেষের দিকে ব্যাটিং ব্যর্থতা নাকি পরিসংখ্যানবিদের অভাব! কিসের জন্য তীরে এসে তরী ডুবল পাঠানদের?

স্পোর্টস ডেস্ক, সময় কলকাতা, ৬ সেপ্টেম্বর: ম্যাচের ৩৮ তম ওভারে ধনঞ্জয় সিলভার হাতে বল তুলে দিলেন শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক শনাকা। ম্যাচ জিততে তখন আফগানিস্তানের প্রয়োজন মাত্র ৩ রান। শ্রীলঙ্কার প্রয়োজন ২ টি উইকেট। তবে আফগানিস্তানের কাছে লড়াইটা ছিল এশিয়া কাপের সুপার ফোরের যোগ্যতা অর্জনের। ৩৭.১ ওভারে ২৯২ রান করলে সুপার ফোরে দল। ৩৭.৪ ওভারে ম্যাচ জিতলেও তাঁরা পৌঁছে যেত শেষ চারের মহাযুদ্ধে। সেক্ষেত্রে তুলতে হত ২৯৫ রান। পিচের অপরদিকে তখন ১৬ বলে ২৭ রান করে ব্যাট করছেন রশিদ খান। শেষের দিকে সুপার ফোরের অঙ্কে যিনি টিকিয়ে রেখেছিলেন আফগানিস্তানকে। ওভারের প্রথম বলে ধনঞ্জয়ের বলে আউট হয়ে ফেরেন মুজিব। কাজটা আরও কঠিন হয় আফগানদের কাছে। তখনও শেষ চারের ক্ষীণ আশা ছিল পাঠানদের দেশের কাছে।

কিন্তু আফগান দলে সেই পরিসংখ্যানবিদ নেই যিনি সহজ অঙ্কটা সদ্য নামা ব্যাটার ফারুকীর কানে দেবেন। ফল যা হওয়ার তাই হল। পিচে নেমে বল নষ্ট করা শুরু করেন ফারুকী। ওভারের চতুর্থ বলে ধনঞ্জয় সিলভার বল প্যাডে লাগতে এলবিডব্লিউর নির্দেশ দেন আম্পায়ার। জেতা ম্যাচ হেরে নিরাশ হয়ে চলতি এশিয়া কাপে সফর শেষ করলেন রশিদ খানরা। যদিও এদিন লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়াম একটি ঐতিহাসিক ম্যাচের সাক্ষী থাকতে পারত। শ্রীলঙ্কার দেওয়া ২৯৩ রানের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ব্যাট করতে নেমে দুরন্ত লড়াকু মানসিকতার পরিচয় রাখলেন আফগান ব্যাটাররা। প্রথম পাঁচ ওভারে মাথায় দুই ওপেনার কে হারিয়ে বেশ বেকায়দায় পড়ে যায় আফগানরা। কাসুন রাজিথার বলে ফেরেন গুরবাজ ও জাদরান। শুরুটা চালিয়ে করলেও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি গুলবাদিন।

আরও পড়ুন    মেসির হাতে বিশ্বকাপ তুলে দেওয়ার চক্রান্ত! কাতার বিশ্বকাপ নিয়ে বোমা ফাটালেন এই অভিজ্ঞ কোচ

এরপর দলের হাল ধরেন রহমত শা ও অধিনায়ক হাসমাতুল্লাহ। ৭১ রানের জুটি খেলেন দুজনে। ৪০ বলে ৪৫ রান করে রহমত ফিরলেও পিচে টিকে ছিলেন আফগান অধিনায়ক। এরপর আফগান অধিনায়ককে সঙ্গী করে দ্রুত রান তুলতে থাকেন নবি। তাঁর ৩২ বলে ৬৫ রানের আগ্রাসী ইনিংস একটা সময় আফগানিস্তানকে ম্যাচ ও টুর্নামেন্টে টিকে থাকার স্বপ্ন দেখিয়েছিল। যদিও চালিয়ে খেলতে গিয়ে আউট হন নবি। এরপর ১৩ বলে ২২ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলে প্যাভিলিয়নে ফেরেন করিম জন্নত। ওই ওভারে চার বলের ব্যবধানে জন্নত ও পিচে সেট হওয়া অধিনায়ক হাসমাতুল্লাহকে ফিরিয়ে লঙ্কা বাহিনীকে ম্যাচে ফেরান বেল্লালাগে। আফগান অধিনায়ক ৬৬ বলে ৫৯ রান করে ফেরেন। এরপর ১৫ বলে ২৩ রানের লড়াকু ইনিংস খেলেন নজিবুল্লাহ। তাঁকে যোগ্য সঙ্গত দেন রশিদ খান।

নজিবুল্লাহ আউট হতেই ম্যাচের রাশ ক্রমশ আফগানদের হাতের বাইরে চলে যায়। ১৬ বলে ২৭ রানে অপরাজিত থাকলেও ম্যাচ জেতাতে ব্যর্থ হন রশিদ। গদ্দাফি স্টেডিয়ামে টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেন শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক শনাকা। শক্তিশালী আফগান বোলিং লাইনআপের বিপক্ষে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে শ্রীলঙ্কার টপ অর্ডার। ওভার পিছু ৬ রান করে তুলছিলেন লঙ্কার ব্যাটাররা। ম্যাচের একাদশ ওভারে করুণারত্নেকে ফিরিয়ে লঙ্কা শিবিরে প্রথম ধাক্কা দেন গুলবদিন। ৩৫ বলে ৩২ রান করেন তিনি। পঞ্চদশ ওভারে নিশাকাকে ৪১ রানে ফেরান সেই গুলবদিন। শ্রীলঙ্কার হয়ে এদিন সর্বোচ্চ ৯২ রান করেন কুশল মেন্ডিস। শেষদিকে বেল্লালাগে ও তীক্ষণার ৬৪ রানের জুটির সৌজন্যে ২৯১ রান তোলে শ্রীলঙ্কা।

About Post Author