Home » কানাডার প্রধানমন্ত্রী ট্রুডোর মন্তব্যের কড়া জবাব দিল্লির

কানাডার প্রধানমন্ত্রী ট্রুডোর মন্তব্যের কড়া জবাব দিল্লির

সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৯ সেপ্টেম্বর: খালিস্তানপন্থী নেতার মৃত্যু নিয়ে চরমে ভারত-কানাডার বাকযুদ্ধ। সোমবার কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো দাবি করেন, খালিস্তানপন্থী নেতা হরদীপ সিং নিজ্জরের খুনের নেপথ্যে ভারতীয়দের হাত থাকতে পারে। তাঁর মন্তব্যে তোলপাড় হয়ে যায় দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের কিছুক্ষণের মধ্যে কানাডা থেকে এক উচ্চপদস্থ ভারতীয় কূটনীতিককে নির্বাসিত করার সিধান্ত নেয় ট্রুডোর সরকার। এই ঘোষণা করেন সেদেশের বিদেশমন্ত্রী মেলানি জলি।

আরও পড়ুন      মার্কিন দেশে প্রবেশাধিকার : H-1B ভিসা নিয়ে ঠিক কী বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী রামস্বামী?

মঙ্গলবার কানাডার প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছে নয়া দিল্লি। ট্রুডোর দাবিকে যুক্তিহীন ও উদ্দেশ্যমূলক বলে দাবি করা হয়। শুধু তাই নয়,ভারতে নিযুক্ত কানাডার অভিজ্ঞ কূটনীতিক ক্যামেরন ম্যাককেকে নির্বাসিত করার সিদ্ধান্ত নেয় নয়া দিল্লির সাউথ ব্লক। ফলে ক্রমে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের শীতলতা বাড়ছে। কানাডায় খালিস্তান পন্থীরা মাথা চাড়া দিচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে দিল্লি। চলতি বছরের জুন মাসে কানাডায় খুন হন খালিস্তানপন্থী নেতা হরদীপ সিং নিজ্জর। যিনি কানাডায় খলিস্তানপন্থী সংগঠন ‘খলিস্তান টাইগার ফোর্স (KTF)’-এর প্রধান ও কানাডার সারের গুরু নানক শিখ গুরুদ্বার সাহিবেরও প্রধান ছিলেন।

দুই আততায়ী ৪৬ বছরের তাঁকে গুরুদ্বার চত্বরে গুলি করে পালিয়ে যায়। তাঁর মৃত্যুতে তোলপাড় হয় সেদেশের রাজনীতি। কারণ কানাডায় বড় শতাংশের শিখদের বাস। ট্রুডো সরকারের উপর ক্রমাগত চাপ বাড়তে থাকে। চাপের মুখে কানাডার পার্লামেন্টের জরুরি অধিবেশনে বিস্ফোরক দাবি করে বসেন ট্রুডো। সোমবার কানাডার হাউস অফ কমন্সে তিনি বলেন ‘গত কয়েক সপ্তাহ ধরে, কানাডিয়ান নিরাপত্তা সংস্থাগুলি সক্রিয়ভাবে ভারত সরকারের এজেন্ট এবং একজন কানাডিয়ান নাগরিককে হত্যার মধ্যে একটি সম্ভাব্য যোগসূত্রের বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখছে।’

কানাডার বক্তব্যের পাল্টা দিয়েছে ভারত। ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে,’আমরা কানাডার সাংসদ কক্ষে সেদেশের প্রধানমন্ত্রী ও বিদেশমন্ত্রীর বিবৃতি শুনেছি। আমরা তাঁদের অভিযোগকে সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করছি। সেগুলি উদ্দ্যেশ্যমূলক ও যুক্তিহীন। খলিস্তানিজঙ্গি এবং চরম বা কট্টরপন্থীদের দিক থেকে নজর ঘোরানোর একটা প্রয়াস বলেই আমরা মনে করি। যাঁরা ভারতের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে তাঁদের ওই দেশে আশ্রয় দেওয়া হচ্ছে। কানাডা সরকারকে আমাদের আর্জি যে ভারত বিরোধী কার্যকলাপ যাঁরা করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’ তারপর মঙ্গলবার বিদেশমন্ত্রকে ডেকে কানাডার কূটনীতিক ক্যামেরন ম্যাককেকে নির্বাসন করা হল।

About Post Author