Home » ঐতিহাসিক পদক্ষেপ! লোকসভায় পাস মহিলা সংরক্ষণ বিল, জেনে নিন এই বিলের ইতিহাস

ঐতিহাসিক পদক্ষেপ! লোকসভায় পাস মহিলা সংরক্ষণ বিল, জেনে নিন এই বিলের ইতিহাস

সময় কলকাতা ডেস্ক, ২০ সেপ্টেম্বরঃ দীর্ঘ জল্পনার অবসান ঘটিয়ে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ মোদি সরকারের। ১৮ সেপ্টেম্বর, সংসদের বিশেষ অধিবেশনের প্রথম দিনই ১২৮তম সংবিধান সংশোধনী বিল হিসেবে লোকসভায় মহিলা সংরক্ষণ বিল পেশ করেছিলেন কেন্দ্রীয় আইন মন্ত্রী অর্জুন সিং মেঘওয়াল। এই বিল পাস করার পক্ষে সওয়ালও করেছিল বিরোধী দলগুলি। এদিন রাতেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে মহিলা সংরক্ষণ বিলটিকে অনুমোদন দেওয়া হয়। এই বিলের সমর্থনে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি নারী শক্তির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বিলটির নাম দেন ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’। অবশেষে বুধবার সকাল ১১ টা থেকে শুরু করে সন্ধ্যে ৬টা পর্যন্ত লোকসভায় বহু বিতর্কিত মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে ভোটাভুটি শুরু হয়। বিলটি লোকসভায় পাস করানোর জন্য দুই তৃতীয়াংশের ভোট প্রয়োজন ছিল। ভোটাভুটিতে বিলের পক্ষে ভোট দিয়েছেন ৪৫৪জন। অন্যদিকে, এই বিলের বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন ‘অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই- ইত্তেহাদুল মুসলিমিন’-এর দুই সাংসদ।

আরও পড়ুন   প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সিট প্রধানকে তলব বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের

এদিন অধিবেশন শুরুর আগেই রণকৌশল স্থির করতে বৈঠকে বসেছিল বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। লোকসভায় তৃণমূলের তরফে বক্তব্য রাখেন মহুয়া মৈত্র ও কাকলি ঘোষ দস্তিদার। অন্যদিকে, কংগ্রেসের তরফে বক্তব্য পেশ করেন সনিয়া গান্ধি।বিলটিকে কংগ্রেস পূর্ণ সমর্থন করে বলেই জানান তিনি। যদিও, কেন জনগণনা এবং আসন পুনর্বিন্যাসের উপর এই সংরক্ষণ নির্ভরশীল, তা নিয়েও এদিন প্রশ্ন তোলেন সনিয়া। তফসিলি জাতি এবং তফসিলি উপজাতি এবং অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির মহিলাদের জন্য সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে জাতিভিত্তিক জনগণনা প্রয়োজন বলেই জানান তিনি।

মহিলা সংরক্ষণ বিল কি?

মহিলা সংরক্ষণ বিলে লোকসভা এবং রাজ্য বিধানসভায় মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই ৩৩ শতাংশ আসনের মধ্যে তফসিলি জাতি, তফসিলি উপজাতি এবং অ্যাংলো-ইন্ডিয়ানদের জন্য উপ-সংরক্ষণের প্রস্তাবও রয়েছে। মহিলা সংরক্ষণ বিলে বলা হয়েছে, প্রতিটি লোকসভা নির্বাচনের পর সংরক্ষিত আসন পরিবর্তন করা উচিত। ১৯৯৬ সালের ১২ সেপ্টেম্বর ৮১তম সংশোধনী বিল হিসেবে লোকসভায় প্রথম এই বিলটি পেশ করেছিল এইচডি দেবগৌড়ার নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্ট সরকার। যদিও পরবর্তীতে লোকসভা ভেঙে যাওয়ার কারণে মহিলা সংরক্ষণ বিলটি বাতিল হয়ে যায়। এরপর অটল বিহারী বাজপেয়ীর নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার ১৯৯৮ সালে ফের রাজ্যসভায় এই বিলটি পেশ করেন। কিন্তু বিলটি একই ভাবে পাস না হওয়ায় ২০০৩ সাল পর্যন্ত অটল বিহারী বাজপেয়ী সরকার আরও তিনবার সংসদে এই বিলটি পেশ করেন। কিন্তু মজার বিষয় হল যে, কোনবারই সংসদে বিলটি পাস হয়নি। ফলাফল একই ছিল। এরপর মনমোহন সিং সরকারের সময় ২০০৮ সালের ৬ মে, বিলটি ফের রাজ্যসভায় পেশ করা হয়। ২০১০ সালে রাজ্যসভায় বিলটি পাসও হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে আরজেডি এবং সমাজবাদী পার্টি লোকসভায় এই বিলের বিরুদ্ধে কঠোর বিরোধিতা করেছিল। সেসময় তাঁরা মহিলাদের জন্য বর্ণভিত্তিক সংরক্ষণের কথা জানিয়েছিল। কিন্তু ওইসময় লোকসভা ভেঙে যাওয়ার কারণে বিলটি নিয়ে আলোচনাও শেষ হয়ে যায়। বলা ভালো,মহিলা সংরক্ষণ বিল বাস্তবায়নে সবেচেয়ে বেশি সক্রিয় ছিল বিজেপি। ২০১৪ এবং ২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনের ইস্তেহার প্রকাশে মহিলা সংরক্ষণ বিল তুলে ধরা হয়।

তবে, নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুসারে, ২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনে মাত্র ৭৮ জন মহিলা সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিল। যা, লোকসভার মোট আসনের ১৫ শতাংশেরও কম। রাজ্যসভায় ২৫০ জন সাংসদের মধ্যে মহিলা সাংসদ আছেন মাত্র ৩২ জন। এর মধ্যে ছত্তিশগড়, পশ্চিমবঙ্গ এবং ঝড়খণ্ড বিধানসভা তুলনামূলক মহিলা বিধায়কের সংখ্যা অনেক বেশি। যদিও কেরালা, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, মণিপুর, মেঘালয়, ত্রিপুরা, পুদুচেরি, ওড়িশা, সিকিম, অন্ধ্রপ্রদেশ, অরুণাচল প্রদেশ, অসম, গোয়া, গুজরাট, হিমাচল প্রদেশ, কর্নাটক, তামিলনাড়ু, তেলেঙ্গানা সহ বেশ কয়েকটি রাজ্যের বিধানসভায় মহিলা প্রতিনিধির সংখ্যা ১০ শতাংশের কিছু কম। এদিকে, বিহার, হরিয়ানা, পঞ্জাব, রাজস্থান, উত্তরাখণ্ড, উত্তরপ্রদেশ এবং দিল্লি বিধানসভায় মহিলা বিধায়কের সংখ্যা ১২ শতাংশের মধ্যে বলে জানা গিয়েছে। তবে, হাজার পরিসংখ্যান থাকা সত্ত্বেও মনে রাখতে হবে ইন্দিরা গান্ধি, সনিয়া গান্ধি, জয়ললিতা, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়- এঁদের চেনার জন্য সংরক্ষণের কোনও প্রয়োজন পরেনি। অথচ রাজনীতির পাতায় তাঁদের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

About Post Author