স্পোর্টস ডেস্ক, সময় কলকাতা, ২৮ অক্টোবর: বিশ্বকাপের ডার্বিতে নিউজিল্যান্ডকে হারাল অস্ট্রেলিয়া। প্রথমে ব্যাট করে ৩৮৮ রান তোলে অস্ট্রেলিয়া। প্রত্যাবর্তন ম্যাচে শতরান করলেন ট্রাভিস হেড। জবাবে ব্যাট করতে নেমে দারুণ লড়াই করে নিউজিল্যান্ড। শতরান করেন রাচিন রবীন্দ্র। যতক্ষণ রচিন ক্রিজে ছিলেন তত ক্ষণ মনে হচ্ছিল ম্যাচ জিততে পারবে কিউয়িরা। রাচিন আউট হওয়ার পরে ম্যাচ নিউজিল্যান্ডের হাত থেকে বেরিয়ে যায়।

ধর্মশালায় টস জিতে অজিদের প্রথমে ব্যাট করতে পাঠান নিউ জ়িল্যান্ডের অধিনায়ক টম লাথাম। কিন্তু তাঁর সিদ্ধান্ত বুমেরাং হয়ে ফেরে। সৌজন্যে অস্ট্রেলিয়ার দুই ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার ও ট্রাভিস হেডের বিধ্বংসী ব্যাটিং। চলতি বিশ্বকাপে নিজের প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেই আগ্রাসী মেজাজে পাওয়া গেল হেডকে। এই জুটিকে দেখে মনে হচ্ছিল টি-২০ খেলতে নেমেছেন। মাত্র ১৯.১ ওভারে ১৭৫ রান তোলে এই জুটি। অবশেষে ৮১ রান করে থামেন ডেভিড ওয়ার্নার। তিনি শতরান হাতছাড়া করলেও লক্ষ্য পূরণ করেন হেড। তাঁর ব্যাট থেকে আসে ৬৭ বলে ১০৯ রানের ইনিংস।

আরও পড়ুন: ICC WORLD CUP 2023:পাকিস্তানের হারের দায় আম্পায়ারদের উপর চাপালেন হরভজন সিং
দুই ওপেনার আউট হওয়ার পরে মিডল অর্ডারে পর পর কয়েকটি উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। মিচেল মার্শ (৩৬), স্মিথ (১৮), লাবুশানে (১৮) করে ফেরেন।বড় রান না করলেও রানের গতি বজায় রাখেন তাঁরা। অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসকে সচল করেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। গত ম্যাচে বিশ্বকাপের দ্রুততম শতরান করেছিলেন ম্যাক্সি। এই ম্যাচে তাঁর ব্যাট থেকে এল ২৪ বলে ৪১ রান। জশ ইংলিশের ৩৮ রান করেন। শেষের দিকে প্যাট কামিন্সও ক্যামিও ইনিংস খেলেন। ১৪ বলে ৩৭ রান করেন অজি অধিনায়ক। ২ টি চার ও ৪ টি ছয় মারেন তিনি। ৩৮৮ রান তোলে অস্ট্রেলিয়া।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে এত রান তাড়া করে আগে জেতেনি কোনও দল। নিউ জিল্যান্ডের দুই ওপেনার শুরুটা ইতিবাচক করেন। তবে দুই ওপেনার বড় রান করতে পারেননি। ডেভন কনওয়ে ২৮ ও উইল ইয়ং ৩২ রান করেন। কিউয়িদের লড়াইয়ে ফেরান রাচিন। তিন নম্বরে নেমে শুরু থেকেই চেনা মেজাজে পাওয়া গেল ভারতীয় বংশোদ্ভুত এই ক্রিকেটারকে। বড় বড় শট খেলে দলের রান এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। তাঁকে সঙ্গ দেন ড্যারিল মিচেল। বিশ্বকাপে কিউয়িদের হয়ে দারুণ ছন্দে রয়েছেন মিচেলও। তৃতীয় উইকেটে ৯৬ রানের জুটি গড়েন দুজনে। ৫৪ রান করে বড় শট মারতে গিয়ে আউট হন মিচেল।ফের ম্যাচে ফেরে অস্ট্রেলিয়া।

অন্য দিকে উইকেট হারালেও দলের স্কোরবোর্ড এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন রাচিন। অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের বিরুদ্ধে অনায়াসে বড় শট খেলছিলেন তিনি। এদিনও শতরান করেন তিনি। ৮৯ বলে ১১৬ রান করা বিধ্বংসী রাচিনকে ফেরান অজি অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। ৯ টি চার ও ৫ টি ছয় আসে তাঁর ব্যাট থেকে। পরের দিকে জিমি নিশামও কিছুটা চেষ্টা করেন। ৩৯ বলে ৫৮ রান করেন তিনি। শেষ ওভারে জিততে ১৭ রান করতে হত নিউ জিল্যান্ডকে।

তবে মিচেল স্টার্কের ওভারে ১২ রানের মাথায় থামতে হয় ব্ল্যাক ক্যাপদের। শেষ ওভারে নিশামও বড় শট খেলতে গিয়ে আউট হন। ৫ রানে ম্যাচ জিতে নেয় অস্ট্রেলিয়া। বিশ্বকাপে এনিয়ে টানা চতুর্থ ম্যাচ জিতল ব্যাগি গ্রিনরা। বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল যত এগিয়ে আসছে তত দেখা যাচ্ছে পুরনো অস্ট্রেলিয়াকে। ঠিক সময়ে ফর্ম ফিরে পেয়েছেন পাঁচ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নেরা।


More Stories
শক্তিশালী দল গড়ছে মোহনবাগান, রেকর্ড অর্থে এলেন ছাঙতে
আর্জেন্টিনা এখন টিএমসির মতো : দিলীপ ঘোষ
বিশ্বকাপের নতুন মারাদোনা কে?