স্পোর্টস ডেস্ক, সময় কলকাতা, ৩১ অক্টোবর: চলতি বিশ্বকাপে বড় দলকে হারানো অভ্যাসে পরিণত করে ফেলেছে আফগানিস্তান। সোমবার পুণের মাঠে শ্রীলঙ্কাকে হারাল আফগানরা। প্রথমে ব্যাট করে ৪৯.৩ ওভারে ২৪৩ রানে শেষ হয়ে যায় লঙ্কার ইনিংস। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৪৫.২ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে জয়ের রান তুলে নেয় আফগানিস্তান। চলতি বিশ্বকাপে এক, দুই, নয় একেবারে তিন বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন শিকার করল আফগানিস্তান। সেমিফাইনালের ম্যাচে প্রথমে দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডকে ৬৯ রান। তারপর চিপকে পাকিস্তানকে ৮ উইকেটে। এবং সর্বশেষে সোমবার পুণের স্টেডিয়ামে শ্রীলঙ্কাকে ৭ উইকেটে হারাল আফগান শিবির। ইংল্যান্ড গতবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। ১৯৯২ সালে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল পাকিস্তান। আর ১৯৯৬ সালে বিশ্বসেরার খেতাব উঠেছিল শ্রীলঙ্কার হাতে। আর তিনটি দলকেই এবার বিশ্বকাপে হারিয়ে দিল আফগানরা।

টসে জিতে প্রথমে শ্রীলঙ্কাকে ব্যাট করতে পাঠান আফগান অধিনায়ক। পুণের ২২ গজে প্রথমে ব্যাট করে খুব বেশি সুবিধে করতে পারেননি দ্বীপরাষ্ট্রের কোনও ব্যাটার। লঙ্কা শিবিরে প্রথম ধাক্কা দেন ফজলহক ফারুকী। ব্যক্তিগত ১৫ রানের মাথায় ফেরান দিমুত করুণারত্নেকে। এরপর লঙ্কা শিবিরের ইনিংসকে এগিয়ে নিয়ে যান পাথুম নিশঙ্ক ও কুশল মেন্ডিস। দ্বিতীয় উইকেটে দুজনে খেলেন ৬২ রানের জুটি। অর্ধশত রানের দোরগোড়া থেকে ফেরেন নিশঙ্ক। তিনি ৪৬ রানে সাজঘরে ফেরেন। শ্রীলঙ্কার এদিনের সর্বোচ্চ রানও করেন নিশঙ্ক। কুশল মেন্ডিস করেন ৩৯ রান। চার নম্বরে নামা সাদিরা সমরবিক্রমার ব্যাট থেকে আসে ৩৬ রান। মিডল অর্ডারে কিছুটা লড়াই করেন চরিথ আশলঙ্কা ও ধনঞ্জয় ডা সিলভা। শেষের দিকে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুর ২৩ রান ও মাথিশা তীক্ষ্মনা করেন ২৯ রান। দলগত রানের উপর ভর করে ম্যাচে ২৪৩ রান তোলে শ্রীলঙ্কা। আফগানিস্তানের হয়ে সফলতম বোলার ফারুকি। ৩৪ রান খরচ করে ৪ টি উইকেট নিলেন তিনি। ২ টি উইকেট নেন মুজিবুর রহমান।
আরও পড়ুন ‘বিশ্বের সেরা’, কার সম্পর্কে অকপট স্বীকারোক্তি প্রাক্তন পাক অধিনায়কের?

২৪৪ রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই গুরবাজের উইকেট হারায় আফগানিস্তান। প্রথম ওভারেই দিলশান মদুশঙ্কর বলে আউট হন গুরবাজ। তবে আফগান ব্যাটারদের সামনে আর কোনও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি শ্রীলঙ্কা। দ্বিতীয় উইকেটে ৭৩ রানের জুটি খেলেন ইব্রাহিম জার্দান ও রহমত শাহ। ব্যক্তিগত ৩৯ রানের মাথায় জার্দানকে ফেরান দিলশান মদুশঙ্ক। তৃতীয় উইকেটে রহমতের সঙ্গে জুটি গড়েন হাসমাতুল্লাহ শহীদি। ব্যক্তিগত অর্ধশত রান পূর্ণ করেন রহমত শাহ। ৬২ রান করে ফেরেন তিনি। আর একটাও উইকেট হারায়নি আফগানিস্তান। চতুর্থ উইকেটে ১১১ রান করেন হাসমাতুল্লাহ ও আজমাতুল্লাহ জুটি। হাসমাতুল্লাহ অপরাজিত থাকেন ৫৮ রানে। আজমাতুল্লাহ অপরাজিত থাকেন ৭৩ রানে। ২৮ বল বাকি থাকতে ৭ উইকেটে জয়ের রান তুলে নেয় আফগানিস্তান। এই জয়ের ফলে ৬ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে লিগ তালিকার পঞ্চম স্থানে উঠে এলেন রশিদ খানেরা। উল্টোদিকে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে হেরে বিশ্বকাপের সেমি ফাইনালের অঙ্ক আরও কঠিন হয়ে গেল শ্রীলঙ্কার জন্য।


More Stories
শক্তিশালী দল গড়ছে মোহনবাগান, রেকর্ড অর্থে এলেন ছাঙতে
আর্জেন্টিনা এখন টিএমসির মতো : দিলীপ ঘোষ
বিশ্বকাপের নতুন মারাদোনা কে?