স্পোর্টস ডেস্ক, সময় কলকাতা, ১২ নভেম্বর: চলতি বিশ্বকাপে নয়ে নয় ভারতের। রবিবার চিন্নাস্বামীতে নেদারল্যান্ডসকে ১৬০ রানে হারালেন রোহিত ব্রিগেড। শুরুতে ব্যাট করে ৪ উইকেট হারিয়ে ৪১০ রান তোলে ভারত। সৌজন্যে শ্রেয়স আইয়ার ও লোকেশ রাহুলের জোড়া শতরান। জবাব ব্যাট করতে নেমে ৪৭.৫ ওভারে ২৫০ রানে শেষ হয়ে গেল ডাচ শিবিরের ইনিংস। বিশ্বকাপে নয়ে নয় করে সেমিফাইনালে রোহিতরা।

ভারতের প্রথম একাদশে ষষ্ঠ বোলার কে আছেন? কিছুদিন ধরে এই প্রশ্নটি ঘুরছিল ক্রিকেট মহলে। বিষয়টি নিয়ে কি চিন্তিত ছিলেন খোদ ভারত অধিনায়ক রোহিত শর্মা? নাহলে, নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে ৯ জন বোলারকে কেন ব্যবহার করবেন। চারশোর বেশি রান তাড়া করে জেতার ক্ষমতা বর্তমান নেদারল্যান্ডস দলের নেই। তাই বোলিংয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে দেখা গেল ভারত অধিনায়ককে। দলের নিয়মিত বোলারদের সঙ্গে এদিন হাত ঘোরাতে দেখা গেল বিরাট, সূর্য, গিলদের। শুধু তাই নয় নিজেও বল করলেন রোহিত। চমকের এখানেই শেষ নয় ডাচদের বিরুদ্ধে এদিন হাত ঘুরিয়ে নিজেদের খাতায় একটি করে উইকেটও লেখালেন বিরাট ও রোহিত।

আরও পড়ুন: ঘোর অনিশ্চয়তার মধ্যে জয়সূর্য, সাঙ্গাকারাদের দেশের ক্রিকেট ভবিষ্যত
যদিও নেদারল্যান্ডসের ইনিংস ভাঙার কাজটি শুরু করেছিলেন সিরাজ। দ্বিতীয় ওভারেই ডাচ ওপেনার বারেসিকে ফেরান তিনি। দ্বিতীয় উইকেটে ৬১ রানের জুটি গড়েন ম্যাক্স ও’দাউদ ও অ্যাকারমেন। তাঁদের জুটি ভাঙেন কুলদীপ। ব্যক্তিগত ৩৫ রানে ফেরান অ্যাকারমেনকে। ঠিক তিন ওভারের ব্যবধানে ও’দাউদকে ফেরান জাদেজা। এরপর ডাচদের ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যান এঙ্গেলব্রেখট ও স্কট এডওয়ার্ডস। নেদারল্যান্ডস অধিনায়ককে ফিরিয়ে চমক দেন বিরাট কোহলি। প্রায় সাত বছর পর একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে উইকেট নিলেন বিরাট। মিডল অর্ডারে ব্যর্থ বাস ডি’লিড। বুমরার বলে আউট হন তিনি। আটত্রিশতম ওভারে এঙ্গেলব্রেখটকে ফেরান সিরাজ। এরপর কিছুটা লড়াই করেছিলেন নিদামানারু। ৩৯ বলে ৫৪ রান করেন তিনি। ১ টি চার ও ৬ টি ছয় আসে তাঁর ব্যাট থেকে। তবে ভারতের পাহাড় প্রমাণ রান তাড়া করার জন্য তা যথেষ্ট ছিল না। আটচল্লিশতম ওভারে নিজেই বল করতে আসেন রোহিত। ততক্ষণে ৯ উইকেট পড়ে গিয়েছে নেদারল্যান্ডসের। ভারতের হয়ে ফিনিশিংটা দেন রোহিত। রোহিতের বলে বড় শট খেলতে গিয়ে আউট হন নিদামানারু। সঙ্গে সঙ্গে নিশ্চিত হয়ে যায় চলতি বিশ্বকাপে ভারতের নবম জয়।
শুরুতে টসে জিতে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। ইতিমধ্যে প্রথম দল হিসেবে বিশ্বকাপের শেষ চারে পৌঁছে গিয়েছে দল। এই ম্যাচে তাই অনেকটা চাপমুক্ত হয়ে খেলতে দেখা যায় ভারতের দুই ওপেনারকে। ১১.৫ ওভারে ১০০ রানের গণ্ডি পেরিয়ে যায় ভারতের। ৩২ বলে ৫১ রানের ইনিংস খেলে ফেরেন গিল। ৩ টি চার ও ৪ টি ছয় এল তাঁর ব্যাট থেকে। আক্রমণাত্মক খেলায় পিছিয়ে ছিলেন না ভারত অধিনায়কও। ৫৪ বলে ৬১ রান করলেন রোহিত। মারলেন ৮ টি চার ও ২ টি ছয়। রোহিত ফিরতে দলের স্কোরবোর্ড এগিয়ে নিয়ে যান বিরাট কোহলি ও শ্রেয়স আইয়ার। বিরাট ভক্তরা এদিন শতরানের অর্ধশত রান দেখার প্রতীক্ষায় ছিল। শুরুটা খারাপ করেনি বিরাট। তবে অর্ধশত রান করেই তাঁকে সন্তুষ্ট থাকতে হল। দলগত ২০০ রানে বিরাট ফিরতে দলের হাল ধরলেন শ্রেয়স আইয়ার ও লোকেশ রাহুল। চতুর্থ উইকেটে ২০৮ রানের জুটি খেলেন দুজনে। ৬৪ বলে ১০২ রানের দাপুটে ইনিংস খেলেন রাহুল। ১১ টি চার ও ৪ টি ছয়ে সাজানো ছিল তাঁর ইনিংস। শেষ ওভারে রাহুল ফিরলেও ৯৪ বলে ১২৮ রানে অপরাজিত থাকেন আইয়ার। ১১ টি চার ও ৪ টি ছয় এল তাঁর ব্যাট থেকে। সঙ্গত কারণেই ম্যাচের সেরা নির্বাচিত হয়েছেন কলকাতা নাইট রাইডার্সের অধিনায়ক।


More Stories
শক্তিশালী দল গড়ছে মোহনবাগান, রেকর্ড অর্থে এলেন ছাঙতে
আর্জেন্টিনা এখন টিএমসির মতো : দিলীপ ঘোষ
বিশ্বকাপের নতুন মারাদোনা কে?