Home » বাকিবুরের থেকে ৯ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিলেন জ্যোতিপ্রিয়, প্রকাশ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য

বাকিবুরের থেকে ৯ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিলেন জ্যোতিপ্রিয়, প্রকাশ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য

সময় কলকাতা ডেস্ক, ১২ নভেম্বর: রেশন দুর্নীতির তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই যেন ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। রেশন দুর্নীতিকাণ্ডে বাকিবুর, জ্যোতিপ্রিয়র আরও সম্পত্তির খোঁজ পেতে জোরকদমে চলছে তদন্ত। সূত্রের খবর, বাকিবুর রহমানের কাছ থেকে ৯ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছেন বনমন্ত্রী তথা প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। জেরায় ঋণ নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন জ্যোতিপ্রিয়। সূত্রের খবর, ঋণ নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তা নিজের নামে নেননি মন্ত্রী। নিজেই এই দাবি করেছেন। ঋণ নেওয়া হয়েছিল তাঁর কন্যা ও স্ত্রীর নামে। গোটা প্রক্রিয়া চলে ২০১৬-১৭ অর্থবর্ষে।

 

কিন্তু, কেন তিনি কোনও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে লোন না নিয়ে এক চালকল মালিকের থেকে লোন নিতে গেলেন সেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সূত্রের খবর, এই প্রশ্ন ইতিমধ্যেই জ্যোতিপ্রিয়কে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন ইডির তদন্তকারীরা। তিনি যেটাকে লোন হিসাবে দেখাচ্ছেন তাহলে এটাই কী দুর্নীতির টাকা? দুর্নীতির যে টাকা বাকিবুর প্রভাবশালীদের দিয়েছেন বলে শোনা গিয়েছে সেই টাকাই কি এই টাকা? ঘুরছে একগুচ্ছ প্রশ্ন। এদিকে রেশন দুর্নীতিকাণ্ডে বাকিবুরকে গ্রেফতারের পর জ্যোতিপ্রিয় সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন, তিনি বাকিবুরকে চেনেনই না। কিন্তু, এখন একেবারে ঋণের কথা সামনে আসায় তা নিয়ে শুরু হয়েছে চাপানউতোর। উল্লেখ্য, আগামী সোমবার জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের ইডি হেফাজতের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। তার আগেই এই ৯ কোটির রহস্য উদঘাটন করার চেষ্টা করছেন ইডি আধিকারিকরা।

আরও পড়ুন

এদিকে, রেশন দুর্নীতি মামলায় মেরুন ডায়েরি, তিনটি নোটবুকের পর আরও এক ডায়েরির সন্ধান পেয়েছে ইডি। সূত্রের খবর, বাকিবুর ঘনিষ্ঠ এক ব্যবসায়ীর কাছে থেকে ওই ডায়েরি উদ্ধার হয়েছে। ওই ব্যবসায়ী ইডিকে জানিয়েছেন, বাকিবুরের নির্দেশে একাধিক গমকল থেকে আটা তৈরি হওয়ার পর সরকারি খাদ্যসামগ্রীর ২০ থেকে ৩০ শতাংশ খোলা বাজারে বিক্রির জন্য সরিয়ে ফেলা হতো। ইডির দাবি, ওই ব্যবসায়ী তাঁর বয়ানে জানিয়েছেন, কম দামে রেশনের গম কিনে নেওয়া হতো। আটা তৈরি হওয়ার পর খোলা বাজারে বিক্রি করার আগে তা প্যাকেটজাত করতে পাঠানো হত সেখানে। প্যাকেজিং কোথায় কোথায় হতো, তার বেশ কিছু সন্ধান দিয়েছে ওই ডায়েরি বলে দাবি ইডির। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবি, প্যাকেজিংয়ের পর সেই আটাই চড়া দামে বিক্রি করা হতো খোলা বাজারে। আর টাকার লাভের অংশ পৌঁছে যেত বাকিবুর ও তাঁর সহযোগীদের কাছে। ডায়েরির তথ্য থেকেই বেশ কয়েকজন মিল মালিক, প্যাকেজিং সংস্থার সন্ধানে ইডি। পরবর্তীতে আটা তৈরি করে খোলা বাজারে বিক্রি করে মুনাফা আসত। সূত্রের খবর, লেনদেনের হিসাব-সহ একাধিক গমকলের তালিকা রয়েছে ওই ডায়েরিতে।

About Post Author