সময় কলকাতা ডেস্ক, ২১ নভেম্বরঃ উত্তরাখণ্ডের উত্তরকাশীর সুড়ঙ্গ বিপর্যয়ের ঘটনার নয়দিন পেরিয়ে গেলেও ৪০ জন শ্রমিককে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। অবশেষে ধ্বংসস্তূপের মধ্য দিয়ে উত্তরকাশীতে সুড়ঙ্গে আটক শ্রমিকদের কাছে পৌঁছল ৬ ইঞ্চি চওড়া। উত্তরাখণ্ডের উত্তরকাশীতে ধসে যাওয়া সুড়ঙ্গ থেকে আটকে থাকা ৪১ শ্রমিককে উদ্ধারের কাজে স্বস্তি। সোমবার ধ্বংসস্তূপের মধ্য দিয়ে একটি ছয় ইঞ্চি প্রশস্ত পাইপ ঢোকাতে সফল হলেন উদ্ধারকারীরা। এই পাইপের মধ্য দিয়ে আরও বেশি পরিমাণে খাবার এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস সরবরাহ করা যাবে বলে জানিয়েছেন উদ্ধারকারীরা। যদিও এর আগে ধ্বংসস্তূপের ভিতরে আটকে পড়া শ্রমিকদের কাছে শুকনো ফল, শুকনো খাবার, ওষুধ এবং অক্সিজেনের মতো প্রয়োজনীয় জিনিস পৌঁছে দেওয়ার জন্য ধ্বংসস্তূপের মধ্য দিয়ে একটি চার ইঞ্চি প্রশস্ত পাইপ ঢোকানো হয়েছিল। তবে, এদিন যে পাইপটি ঢোকানো হয়েছে সেটি আরও একটু বেশি চওড়া। উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন, এই পাইপের মধ্য দিয়ে আটকে পড়া শ্রমিকদের কাছে রুটি-তরকারি, ডালিয়ার মতো রান্না করা খাবার পাঠানো যাবে। সেইসঙ্গে মোবাইল ফোন এবং চার্জারও পাঠানো হবে ওই পাইপের মধ্য দিয়ে।
আরও পড়ুন ফিফার অ্যাকাডেমি উদ্বোধনে ভারতে কিংবদন্তী ফুটবল কোচ আর্সেন ওয়েঙ্গার
৪০ জন শ্রমিককে উদ্ধার করতে ইতিমধ্যেই পাঁচ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সুড়ঙ্গের ছাদ খুঁড়ে ৪০ শ্রমিককে উদ্ধারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। রবিবার থেকেই সেই কাজ শুরু হয়েছে। অন্যদিকে আরও উদ্ধারকারী দল যাতে সহজে সুড়ঙ্গের কাছে পৌঁছতে পারে, তার জন্য বর্ডার রোডস অর্গানাইজেশন নতুন রাস্তা বানাচ্ছে। রবিবার দুপুরের মধ্যেই এই রাস্তা তৈরি হয়ে গিয়েছে। ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে প্রধানমন্ত্রীর দফতর ও বিশেষজ্ঞের দল। তারাই সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাঁচটি পদ্ধতিতে উদ্ধারকাজ চালানো। জানা গিয়েছে, সিল্কিয়ারার দিক থেকেই আমেরিকান অগার মেশিন ঢোকানোর চেষ্টা শুরু হয় শুক্রবার। ৬০ মিটারের ধ্বংসস্তূপ পেরোলে তবেই উদ্ধার করা সম্ভব ওই ৪০ শ্রমিককে। কিন্তু ২২ মিটার খননের পর আর এগোয়নি ৯০০ মিমি চওড়া পাইপ। ইন্দোর থেকে আরও একটি যন্ত্র বায়ুসেনার বিশেষ বিমানে উড়িয়ে আনা হয়েছে। দ্বিতীয় প্রচেষ্টা চলছে বারকোটের দিক থেকে সুড়ঙ্গে খনন চলছে। এ পথেও অনেকটা সময় লেগে যাওয়ার কথা। কমপক্ষে ৪-৫দিন সময় লেগে যেতে পারে। তৃতীয় পরিকল্পনা হল সুড়ঙ্গের উপর থেকে ভার্টিকাল ড্রিল বা উল্লম্ব ভাবে খনন। আরও দুই পরিকল্পনা মাথায় রাখা হচ্ছে। সেগুলি হল সুড়ঙ্গের ডান ও বাম দিক থেকে খনন।

উদ্ধারকারী দলের তরফে জানানো হয়েছে, ৪০ শ্রমিককে উদ্ধার করতে আরও ৪-৫ দিন সময় লেগে যেতে পারে। কিন্তু এতদিন কি সুড়ঙ্গের গভীর অন্ধকারে জীবনযুদ্ধ চালাতে পারবেন ৪১ জন শ্রমিক? আটকে পড়া শ্রমিকদের মানসিক ভারসাম্য বজায় রাখতে কাউন্সেলিং করানো হচ্ছে, খাওয়ানো হচ্ছে অ্যান্টি-ডিপ্রেশন পিল। ইতিমধ্যেই উত্তরকাশীর সুড়ঙ্গ তৈরি নিয়ে উঠে এসেছে বড়সড় গাফিলতির অভিযোগ। প্রকাশ্যে এসেছে সুড়ঙ্গের একটি পরিকল্পনা চিত্র। সেখানে শুরু থেকেই রয়েছে বিকল্প পথের ব্যবস্থা। যাতে বিপদ ঘটলে ওই পথে পালিয়ে প্রাণ বাঁচাতে পারেন শ্রমিকরা। অভিযোগ, বিকল্প পথ ম্যাপে থাকলেও বাস্তবে ছিল না। প্রশ্ন উঠছে, সেই কারণেই কি প্রাণ যেতে বসেছে শ্রমিকদের? জানা গিয়েছে, একধাপে ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ সুড়ঙ্গপথ তৈরির সময় বিকল্প পথেরও ব্যবস্থা ছিল ম্যাপে। ৪.৫ কিমি দীর্ঘ সিল্কআরা সুড়ঙ্গতেও একই ব্যবস্থা থাকার কথা। যদিও বাস্তবে বিকল্প পথ তৈরি করা হয়নি। ফলে ধস নামার পর পালানোর পথ পাননি শ্রমিকরা। সেই কারণেই ছয় দিন ধরে ভিতরে আটকে রয়েছেন তারা।


More Stories
নীতিশ জমানা শেষ, বিহারের সম্রাট নতুন মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর বুলডোজার মডেল
আশা ভোঁসলের হার্ট অ্যাটাক
মোদি ও বিজেপিকে খোঁচা : আগাম জামিন পেলেন নিয়ে নেহা সিং রাঠোর