সানী রায়, সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৭ জানুয়ারি : অবৈধ বার্মিজ সুপারি নিয়ে ব্যবসা চলছেই, চলছে অবাধ অবৈধ পাচার । সড়ক পথের পর এবার রেল পথেও বার্মিজ সুপারি পাচার, বার্মিজ সুপারির পাচার কান্ডে যুক্ত থাকার অভিযোগে আটক তিন। ঘটনায় চাঞ্চল্য ধূপগুড়িতে। ধৃত সকলেই ধূপগুড়ির বাসিন্দা।
বার্মিজ সুপারির রমরমা ও তার অবৈধ চালানের জেরে উত্তরবঙ্গের এবং বরাক উপত্যকার সুপারি ব্যবসা লাটে ওঠার জোগাড়। কিছুদিন ধরেই অভিযোগ উঠছিল, সড়ক পথের পাশাপাশি ট্রেনে করেও পাচার করা হচ্ছে বার্মিজ সুপারি, যাকে চলতি ভাষায় সাদা সুপারি বলা হয়।মাঝে আসাম সরকারের, কড়াকড়ির কারণে সড়কপথে সুপারি পাচার বন্ধ ছিল, তবে কিছুদিন যেতে না যেতেই ফের একটি চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে সূত্রের খবর। সেই চক্রের হাত ধরেই গড়ে প্রতিদিন পাঁচটি লড়িতে করে বার্মিজ সুপারি আসাম সীমানা পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গ হয়ে নাগপুর, কানপুর এমনকি দিল্লিও পাড়ি দিচ্ছে। এই বার্মিজ সুপারি পারাপারের পিছনে মূল পান্ডা হিসেবে দুই ব্যক্তি কাজ করে থাকেন বলে খবর, একজন শিলিগুড়ির অপরজন বক্সীরহাটের যারা মূলত এই লাইন কন্ট্রোল করেন, যাদের হাত ধরে এক রাজ্য থেকে আরেক রাজ্য এই বার্মিজ সুপারি পারাপার হচ্ছে, কোটি কোটি টাকা সরকারি কর ফাঁকি দিয়েই চলছে এই ব্যবসা। সড়ক পথের পাশাপাশি এবার রেলপথেও পা জমিয়েছে পাচারকারীরা। আর এই কাজে মদত দিচ্ছেন শুল্ক দপ্তরের কোতিপয় আধিকারিক। যাদের নাম ইতিমধ্যেই দুর্নীতি দমন শাখার হাতে উঠে এসেছে বলে সূত্রের খবর। এই চক্রে রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী সুপারী ব্যবসায়ী।যেমন জলপাইগুড়ির ধুপগুড়ি, আলিপুরদুয়ারের কামাখ্যাগুড়ি ও ফালাকাটা, এবং শিলিগুড়ির ব্যাবসায়ীরা।
বুধবার ভোররাতে আচমকা আর পি এফ এর বিশেষ দল ধূপগুড়ি স্টেশনে হাজির হয় । সেই সময় আসাম থেকে দিল্লি গামী অবধ আসাম এক্সপ্রেস থেকে বার্মা সুপারি নামানোর কাজ চলছিল, সেই সময় হাতেনাতে তিনজনকে ধরে ফেলেন,আটক করা হয় সেই সুপারি গুলিও আর সেখান থেকে উঠে আসে পাচারের নানান তথ্য। সূত্র মারফত জানা যায় এই বার্মিজ সুপারি অর্থাৎ সাদা সুপারি পাচারের লাইন কন্ট্রোলের দায়িত্বে রয়েছেন শ্রীরামপুর বর্ডার থেকে একজন এবং শিলিগুড়ি থেকে অপরজন। ইতিমধ্যেই তদন্তকারীরা দুটি নাম পেয়েছেন বলে সূত্রের খবর ধীরাজ এবং বিনয় তাদের খোঁজ চালাচ্ছে দুর্নীতি দমন শাখা বলেই সূত্রের খবর। আর ধূপগুড়ির তিন যুবক ধরা পড়ার পরেই রেলপথে বার্মিজ সুপারি পাচারের অভিযোগ সত্য বলে প্রমাণ হয়ে গেল।
রেলের কর্মী ধূপগুড়ি স্টেশনের পার্সেন বিভাগের আধিকারিক রমেশ কান্তি বলেন, ভোর রাতে আর পি এফ এর বিশেষ দল অভিযান চালিয়েছে। অবধ আসাম এক্সপ্রেস থেকে সুপারি নামানোর সময় হাতে নাতে ধরে ফেলে তিন জন কে। পরে তাদের জলপাইগুড়ি আরপিএফ অফিস এ নিয়ে যাওয়া হয়। আরপিএফ গোটা ঘটনার তদন্ত করছে। সবমিলিয়ে, একদিকে চাঞ্চল্য, অন্যদিকে স্বস্তি-অস্বস্তির দোলাচলে উত্তরবঙ্গের সুপারি ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা বিভিন্ন মহল। প্রশ্ন যে থেকেই যাচ্ছে!


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
আরেক অভিনেতা প্রণবের অকালপ্রয়াণ
মার্চেই বকেয়া ডিএ দেওয়ার উদ্যোগ : এসওপি জারি