Home » নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে ফের শহরের একাধিক জায়গায় ইডির হানা

নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে ফের শহরের একাধিক জায়গায় ইডির হানা

সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৮ জানুয়ারিঃ নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্ত যত এগোচ্ছে ততই যেন ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। নতুন বছরের শুরু থেকেই নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে তেড়েফুঁড়ে ময়দানে নেমেছে ইডি। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ফের রাজ্যের একাধিক জায়গায় তল্লাশি শুরু করেছে ইডি। নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে এবার একইসঙ্গে শহরের মোট ছ’টি জায়গায় হানা ইডি কর্তাদের। সঙ্গে রয়েছেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডির হাতে গ্রেফতার হওয়া ‘মিডলম্যান’ প্রসন্ন রায়ের ফ্ল্যাট এবং অফিসেও নতুন করে তল্লাশি অভিযানে নেমেছেন ইডি আধিকারিকরা। একইসঙ্গে প্রসন্নর সহকারী প্রদীপ সিংহের বাড়িতেও হানা দিয়েছে ইডি। এছাড়াও এক পরিবহণ ব্যবসায়ীর বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলে খবর। ইতিমধ্যে নিয়োগ দুর্নীতি মামলার প্রাথমিক চার্জশিটও আদালতে পেশ করেছে সিবিআই ও ইডি। যেখানে রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় সহ শিক্ষা দফতরের একাধিক প্রাক্তন কর্তার নাম রয়েছে। ইডির দাবি, নিয়োগ দুর্নীতিকাণ্ডে অন্যতম ভূমিকা ছিল মিডলম্যানদের।

আরও পড়ুন   রাজ্যের মুকুটে নয়া পালক, দেশের সেরা হাসপাতালের তালিকায় এবার রাজ্যের ৩ হাসপাতাল

এদিকে, শিক্ষক নিয়োগ মামলায় ইতিমধ্যেই বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশ খারিজ করে দিয়েছে ডিভিশন বেঞ্চ। কিছুদিন আগেই বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় ২০১৬ সালের মোট ৪২ হাজার ৯৪৯ জন প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের জন্য পর্ষদকে প্যানেল প্রকাশের জন্য ১০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়েছিল প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ। গত বুধবার বিচারপতি সৌমেন সেনের ডিভিশন বেঞ্চ সিঙ্গল বেঞ্চের সেই নির্দেশ খারিজ করে দেয়। জানা গিয়েছে, ২০১৪ সালের প্রাথমিক টেট পরীক্ষার ভিত্তিতে ২০১৬ সালে প্রাথমিকে নিয়োগ প্রক্রিয়া হয়। সেই নিয়োগেই ব্যাপক বেনিয়মের অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টে মামলাও দায়ের হয়েছিল। এরপরই বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় নির্দেশ দিয়েছিলেন,শীঘ্রই আদালতে ওই বছরের নিয়োগের প্যানেল পেশ করতে হবে।

তারপরেই সিঙ্গল বেঞ্চের সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে মামলা হয়েছিল হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে। তবে, সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশ খারিজ হয়ে গেলেও মামলা বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের এজলাসেই ফেরানো হয়েছ। তিনিই সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন বলেই সূত্রের খবর। প্রসঙ্গত, প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই যেন ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। প্রাথমিকে নিয়োগের ক্ষেত্রে একাধিকবার বেনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। এমনকী প্রাথমিকে ৩২ হাজার শিক্ষকের চাকরি বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। যদিও এর আগেও বহুবার প্রাথমিকে নিয়োগের মামলায় সিবিআইকে ভর্ৎসনা করেছেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। দু’মাস আগেই এই মামলায় হাইকোর্টে বড়সড় স্বস্তি পেয়েছেন প্রাথমিকের ৩২ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষিকা। হাইকোর্টের বিচারপতি সৌমেন সেন এবং বিচারপতি উদয় কুমারের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, আপাতত বাতিল হচ্ছে না নিয়োগ। নতুন করে আর কোনও ইন্টারভিউ দিতে হবে না।

About Post Author