সময় কলকাতা ডেস্ক, ৩০ মার্চ : পাকিস্তান বর্তমানে ক্রিকেটে বড় ধরনের সাফল্যের মুখ দেখছেনা। বলা হচ্ছে, প্রতিভা সম্পন্ন ক্রিকেটারের – বিশেষত বোলারের অভাব রয়েছে বর্তমান পাকিস্তান ক্রিকেট দলে। এরকম প্রেক্ষাপটে একটি বিষয় সম্প্রতি আলোড়ন ফেলেছে ।প্রশ্ন, স্বেচ্ছায় প্রাক্তনের খাতায় নাম লিখিয়ে ফেলা একদা বিরাট সম্ভাবনাময় বাঁহাতি ফাস্ট বোলার মহম্মদ আমির কি পাক দলে ফিরছেন? মহম্মদ আমির ইতিমধ্যেই স্বেচ্ছা নির্বাসন থেকে অবসর ভেঙে ফেরার ঘোষণা করে দিয়েছেন। এখন প্রশ্ন পাকিস্তান দলে তিনি ( #মহম্মদআমির) কি কাম ব্যাক করছেন?
পাকিস্তান যুগে যুগে অসামান্য ফাস্ট বোলারদের উপহার দিয়ে এসেছে ক্রিকেট বিশ্বকে। কিন্তু ইমরান -ওয়াকার – আক্রাম-শোয়েব আখতার সরে যাওয়ার পরে ভাটার টান পাকিস্তানের ফাস্ট বোলিংয়ে। এখন শাহিনশা আফ্রিদি থাকলেও সেভাবে আর বাঁ হাতি পাকিস্তানি ফাস্ট বোলার চোখেই পড়ছে না। অথচ বাঁ হাতি কিংবদন্তি ফাস্ট বোলার ওয়াসিম আক্রাম ক্রিকেট ছাড়ার পরে দুই সম্ভাবনাময় বাঁহাতি ফাস্ট বোলার দেখা দিয়েছিলেন পাকিস্থানে। কিন্তু স্পট ফিক্সিং কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে তাদের ক্রিকেট জীবন প্রলম্বিত হয়নি।এই দুই প্রতিভাবান বাঁহাতি ফাস্ট বোলার মহম্মদ আসিফ ও মহম্মদ আমিরের মধ্যে বিশ্ব ত্রাস হওয়ার সব রকমের সম্ভাবনা ও উপাদান মজুত ছিল । ম্যাচ ফিক্সিং কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে তাঁদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অসামান্য দাগ রাখার সম্ভবনা কার্যত অঙ্কুরে বিনাশ পায়। ২০১০ সালে সব ধরনের ক্রিকেটে নিষেধাজ্ঞা জারি হয় তাদের ওপরে। ২০১৫ সালে আমিরের এবং ২০১৭ সালে আসিফের নিষেধাজ্ঞা কেটে যায়। কিন্তু তার মধ্যেই অমূল্য কয়েকটি বছর ত নষ্ট হয়ে যায়। ৪০ বছর বয়সী আসিফ ২১ টি টেস্ট খেলে ১০৩ টি উইকেট পেয়েছেন। তিনি এখন নিঃসন্দেহে প্রাক্তনদের দলে পড়ে গেছেন।কিন্তু আমির বয়সে এখন নবীন না হলেও তাকে প্রবীণ বলা চলে না। তাঁর বয়স ৩১। ৩৬টি টেস্ট খেলে তার সংগ্রহ ১১৯ টি উইকেট। কিন্তু তিনি বছর তিনেক আগে নিজের অবসর ঘোষণা করে দেন। পাক তারকা সরফরাজ আমেদের মতে মহম্মদ আসিফ বোলিং দক্ষতায় আমিরের এগিয়ে ছিলেন কিন্তু তিনি পাশাপাশি এও বলতে ভোলেননি বাঁহাতি ফাস্ট বোলার হিসেবে শাহেনশা আফ্রিদির চেয়ে বেশ কয়েক কদম এগিয়ে থাকবেন আমির । উল্লেখযোগ্য ভাবে বেশ কয়েকবছর আগে বিরাট কোহলি বলেছিলেন তাঁর ক্রিকেট ক্যারিয়ারে তাঁকে যে ফাস্ট বোলারদের সামনে মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁদের মধ্যে অন্যতম শক্ত (টাফেস্ট )বোলারের নাম মহম্মদ আমির। সে সময় কোহলির এই মন্তব্য সাড়া ফেলে দিয়েছিল। যদিও ২০২০ সালের ১৭ ডিসেম্বর মাত্র ২৮ বছর বয়সে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়ে নেন বাঁ হাতি তারকা ফাস্ট বোলার। মনে রাখা দরকার,২০১০ সালে পাঁচ বছর ধরে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে তাকে বহিষ্কৃত করা হয়েছিল ম্যাচ ফিক্সিং কেলেঙ্কারিতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায়। পাঁচ বছর প্রায় অন্ধকারে তিনি কাটিয়েছিলেন যার মধ্যে কয়েক মাস জেলেও কাটাতে হয় তাঁকে। তবে তারপরে পাকিস্তান দলের হয়ে আবার কাম ব্যাক করেন আমির। তিন বছর আগে হঠাৎ অবসর ঘোষণার পরে সাম্প্রতিক অতীতে তিনি আর ক্রিকেট মাঠে ফিরে আসতে চান নি। ২ মাস আগেও ৩১ বছর বয়সী এই তারকা মাঠে পাকিস্তানের জার্সি পরে না ফেরার সিদ্ধান্তে অটল থাকেন।একদিনের ক্রিকেটের বিশ্বকাপে নাদিম শাহ আহত হলে তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন তাঁর ক্রিকেটার হিসেবে অধ্যায় শেষ। তিনি আগামী দিনে কোচিং করাতে চান। এবার ৯ জুন কী টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত পাকিস্তান ম্যাচে দেখা যেতে পারে? কি চলছে তাঁকে ঘিরে? কি অবস্থান পাক ক্রিকেট বোর্ডের? মহম্মদ আমির নিজেই বা বলছেন কি?

সম্প্রতি ঘোষিত হয়েছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের ২৯ জনের প্রাথমিক তালিকা। এই তালিকায় উল্লেখযোগ্য অন্তর্ভুক্তি ইমাদ ওয়াসিম ও মহম্মদ আমিরের। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে এক সময় পাকিস্তান দলে নিয়মিত ছিলেন ইমাদ ওয়াসিম। তিনি অবসর ভেঙে পাকিস্তান দলে ফিরছেন। পাকিস্তান দলে ফিরতে চলেছেন মহম্মদ আমিরও। একদা রামিজ রাজা বলেছিলেন, যে সমস্ত ক্রিকেটাররা নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েছেন তাদেরকে ফেরাতে চায়না পাকিস্তান। মহম্মদ আমির তিন বছর আগে যখন অবসর নিয়েছিলেন তখন বলেছিলেন পিসিবি-র আচরণে তিনি মানসিকভাবে জর্জরিত, অত্যাচারিত। এই পাক বোর্ডের অধীনে তিনি খেলতে চান না। তিনি জানিয়েছিলেন তিনি ফিরে এলেও পাক ক্রিকেট বোর্ডের কাছে হরদম তাকে আপত্তিকর মন্তব্য শুনতে হয়েছে। কিন্তু পাক ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান নজম শেঠঠি বেশ কিছুদিন আগেই জানিয়েছিলেন তিনি রামিজ রাজার মতের সঙ্গে সহমত নন। অবশেষে পাক ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে মহম্মদ আমিরের। আলোচনা নাকি ইতিবাচক। অন্তত অবসর ভাঙার সিদ্ধান্তের পেছনে বর্তমান পাক বোর্ডের তাঁকে সম্মান প্রদর্শন করাকে কারণ হিসাবে দেখাচ্ছেন আমির। কি বলেছেন বাঁ হাতি ফাস্ট বোলার?
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর ঘোষণা করার প্রায় তিন বছর পর, পাকিস্তানের বিতর্কে ঘিরে থাকা ফাস্ট বোলার মোহাম্মদ আমির খেলায় ফিরে আসার ঘোষণা করে বলেছেন, “আমি এখনও পাকিস্তানের হয়ে খেলার স্বপ্ন দেখি! জীবন আমাদের এমন জায়গায় নিয়ে আসে যেখানে মাঝে মাঝে আমাদের সিদ্ধান্তগুলি পুনর্বিবেচনা করতে হয়, আমার এবং পিসিবির মধ্যে কিছু ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে যেখানে তারা সম্মানের সাথে আমার প্রয়োজন অনুভব করেছে যে আমার প্রয়োজন ছিল এবং আমি এখনও পারি। পরিবারের সাথে আলোচনা করার পরে সিদ্ধান্ত নিয়েছি পাকিস্তানের হয়ে খেলব এবং আমরা শুভাকাঙ্ক্ষীদের সাথে আমি ঘোষণা করি যে আমি আসন্ন টি-টোয়েন্টি ডব্লিউসি-র জন্য বিবেচনা করার জন্য প্রতীক্ষায় ,” মোহাম্মদ আমির এক্স-এ একটি পোস্টে বলেছেন।

“আমি আমার দেশের জন্য এরকম করতে চাই কারণ তা আমার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের আগে স্থান পায়। সবুজ জার্সিতে আমার দেশের সেবা করা সবসময়ই আমার সবচেয়ে বড় আকাঙ্খা ছিল এবং থাকবে,” আমির জানিয়েছেন।
আসন্ন টি-টোয়েন্টি ২০২৪ বিশ্বকাপে আমিরের খেলার সম্ভাবনা বাড়ছে, চূড়ান্ত দলে তাঁর জায়গা পাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা। তবুও উল্লেখ করা দরকার মহম্মদ আমিরের অবসর থেকে ফিরে আসার ঘোষণা বাস্তবে ততটা মসৃণ হবে না কারণ এই পেসারের কাছে তাঁর বিতর্কিত অতীত কে সম্পূর্ণ মুছে ফেলে নিজের সেরাটুকু দেওয়া রীতিমত চ্যালেঞ্জ। তাঁর সঙ্গে ম্যাচ ফিক্সিং এ দোষী প্রমাণিত পাকিস্তানের অন্য দুই খেলোয়াড় সালমান বাট এবং মোহাম্মদ আসিফ ১০ এবং ৭বছরের নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হওয়ায় বলা যেতেই পারে মোহাম্মদ আমির এই মামলায় সবচেয়ে কম শাস্তি পান। ২০১৫ সালে শাস্তি উঠে যাওয়ার পরেও থিতু হতে পারেন নি ৬ ফুট ২ ইঞ্চি লম্বা এই ক্রিকেটার। পাশাপাশি এও মনে রাখতে হবে, মহম্মদ আমিরের পরিসংখ্যান, বিশেষ করে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের পরিসংখ্যান আহামরি নয়। তিনি ৫০টি আন্তর্জাতিক টি টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন এবং ৫৯টি উইকেট পেয়েছেন । আমিরের বোলিং গড় ২১.১৬। তবে চমকে দেওয়ার মত তাঁর ইকোনমি রেট । অত্যন্ত কৃপণ হাতে ওভার কিছু ৭.০২ রান দিয়েছেন আমির । ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম ফরম্যাটে পাঁচ উইকেট না থাকলেও ১৩ রানে ৪ উইকেট তাঁর সেরা বোলিং। অন্য দুই ফরম্যাটের মত টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে তিনি অসামান্য কিছু না করলেও তিনি যে আসমান্য বোলার তা কোহলির মত অনেক বিশেষজ্ঞ ব্যাটসম্যানই মেনে নিয়েছেন। তাই তার অন্তর্ভুক্তি গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে পাকিস্তান দলের পক্ষে।
#T20 বিশ্বকাপ 2024 আগামী ১ জুন থেকে শুরু হতে চলেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডা উদ্বোধনী ম্যাচে একে অপরের মুখোমুখি। হাই-ভোল্টেজ ভারত বনাম পাকিস্তান T20 বিশ্বকাপ 2024 মহারণ ৯ জুন নিউ ইয়র্কে নির্ধারিত, যেখানে সাদা বল হাতে ছুটে আসতে দেখা যেতেই পারে বিশ্বে এই প্রজন্মের অন্যতম সেরা বাঁ হাতি ফাস্ট বোলার মহম্মদ আমিরকে। অবসর ভেঙে আমির পাকিস্তানের চূড়ান্ত দলে সুযোগ পেয়ে ভয়ংকর হয়ে ওঠেন কিনা তা সময়ই বলবে।


More Stories
চেন্নাইয়ানকে হারিয়ে মোহনবাগানকে টপকে ইস্টবেঙ্গল তিন নম্বরে
কেকেআর-কে হারালেন, কে এই মুকুল চৌধুরী ?
গ্রেফতার অজি ক্রিকেট তারকা ওয়ার্ণার