সময় কলকাতা ডেস্ক, ৩ জুনঃ ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে গত এক সপ্তাহ ধরে একনাগাড়ে বৃষ্টি শুরু হয়েছে অসম, মণিপুরে। মেঘভাঙা বৃষ্টির জেরে বন্যায় বিপর্যস্ত অসম-মণিপুর। এখনও পর্যন্ত অসমে ১৫ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ছয় লাখের বেশি মানুষ। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে রাজ্য ও জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী।

অসমে লাগাতার ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে একাধিক নদীর জলস্তর বেড়ে গিয়েছে। বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে কপিলি, বরাক ও কুশিয়ারা নদীর জল। হাইলাকান্দি হেজাই, মরিগাঁও, করিমগঞ্জ, নগাঁও, কাছাড়, ডিব্রুগড়, গোলাগাঠ, কার্বি আংলং পশ্চিম ও ডিমা হাসাও জেলা মিলিয়ে ছয় লাখের উপর মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে নিরাপদ আশ্রয়ে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নগাঁও জেলা। সেখানে ঘরছাড়া হয়েছেন ৪০ হাজারের বেশি মানুষ। তাঁদের বিভিন্ন ত্রাণ শিবিরে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে। NDRF, SDRF, স্থানীয় প্রশাসন ও জনগণ সহ একাধিক সংস্থার দ্বারা উদ্ধারকাজ শুরু হয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন অংশে ব্যাহত সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা।
এদিকে মণিপুরে বন্যার জেরে একাধিক জনের মৃত্যু হয়েছে, আহতও একাধিক। মণিপুরে জলের তলায় চলে গিয়েছে সরকারি ভবনওরাজ্যের বেশিরভাগ অংশ, ইম্ফল পূর্ব, ইম্ফল পশ্চিম, কাংপোকপি, বিষ্ণুপুর, ননি, চুরাচাঁদপুর, সেনাপতি এবং কাকচিং-এর পাহাড় ও উপত্যকা এলাকায় ব্যাপক বৃষ্টিপাত হয়েছে।একাধিক নদী বাঁধ ভেঙে গিয়েছে। ৪৩৪ হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেশ কয়েকটি পার্বত্য জেলায় ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। মণিপুরে বন্যায় এখনও পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। আহত হয়েছেন বহু মানুষ। ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স ছাড়াও রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, সেনা, আসাম রাইফেলস এবং অন্যান্য কেন্দ্রীয় বাহিনী ত্রাণ ও উদ্ধারকার্য চালাচ্ছে। ইতিমধ্যেই ৫৬টি ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে। ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ সেখানে আশ্রয় নিয়েছে।

উল্লেখ্য, ঘূর্ণিঝড় রেমালের দাপটে বিগত এক সপ্তাহ ধরে ভারী বৃষ্টি শুরু হয়েছে উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতে। অসমে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। মেঘালয়, মিজোরাম, মণিপুরেও ঝড়-বৃষ্টির জেরে একাধিক জায়গায় ধস নেমেছে। বাড়ি চাপা পড়ে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ অনেকেই। রেমালে ক্ষতিগ্রস্তদের ইতিমধ্যেই ঘোষণা করা হয়েছে ক্ষতিপূরণ। প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকে নিহত ও আহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে। ক্ষতিপূরণ পাবেন বাংলার মানুষরাও। শুক্রবারই প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে বাংলা ও উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিতে ঘূর্ণিঝড় রেমালের জেরে মৃতদের পরিবার পিছু ২ লক্ষ টাকা ও আহতদের পরিবারপিছু ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণের ঘোষণা করা হয়েছে। সূত্রের খবর, ঘূর্ণিঝড় রেমালে এখনও পর্যন্ত কমপক্ষে ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। ২ লক্ষেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ, অসম, মেঘালয়, মণিপুর, মিজোরাম ও ত্রিপুরায় ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারি ত্রাণ তহবিল থেকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। নির্বাচন কমিশনের বিধি ভাঙা যাবে না, তাই ভোট শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রবিবারই ঘূর্ণিঝড় পরিস্থিতি নিয়ে পর্যালোচনায় বসেছিলেন তিনি। কেন্দ্রের তরফে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবরকম সাহায্য করা হবে। সাধারণ মানুষের কাছে যাতে যথাযথ ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া যায় সেদিকে নজর রাখার কথাও বলা হয়েছে।


More Stories
কেরলের নামবদল : প্রেক্ষাপট ও বিতর্ক
ধর্মই ক্ষমতার উৎস : গীতাপাঠ ও বাবরি মসজিদ
গাড়ি বিস্ফোরণ : মুঘল সুলতানার আক্ষেপ, সাধের দিল্লি নগরীর কী হবে?